নাঈম হোসেন, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করতে দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চলমান একাডেমিক সহযোগিতা, গবেষণা কার্যক্রম, আধুনিক গবেষণাগার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কংজু বিশ্ববিদ্যালয়-এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হ্যাং মুক চো। তাঁর সঙ্গে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণারত বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান ও চীনের চারজন গবেষক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান বাস্তব প্রয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সাত বছর মেয়াদি অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স (ODA) প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। কংজু বিশ্ববিদ্যালয় ও মাভাবিপ্রবির যৌথ উদ্যোগে আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, উন্নত ল্যাব সরঞ্জাম সংযোজন, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনায় জানানো হয়, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা ‘মাদার অব ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে পরিচিত। শিল্পায়ন, অটোমেশন, উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রোবোটিক্স ও স্মার্ট প্রযুক্তির বিকাশে এ বিভাগের দক্ষ প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানো সময়ের দাবি বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয়। এরপর কংজু বিশ্ববিদ্যালয়-এর সহযোগিতায় বিভাগটির গবেষণাগারে প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি মূল্যের আধুনিক যন্ত্রপাতি, ল্যাব সরঞ্জাম এবং একাডেমিক বই সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা প্রশিক্ষণ এবং যৌথ প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগও আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দক্ষ প্রকৌশলী গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার এই যৌথ উদ্যোগ মাভাবিপ্রবির শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে দেশের অন্যতম আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ বলেন, এই প্রকল্প শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা বিনিময়ের একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক গবেষণায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, কংজু বিশ্ববিদ্যালয়-এর সঙ্গে এই সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণায় ইতিবাচক অবদান রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ইউজিসির অনুমোদনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং দেশের প্রকৌশল শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
আরোও পড়ুন – রোটারেক্ট ক্লাবের নতুন নেতৃত্বে নাঈম, রাজভী ও সিয়াম | মাভাবিপ্রবি
কংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মাভাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলরের মতবিনিময়
নাঈম হোসেন, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করতে দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চলমান একাডেমিক সহযোগিতা, গবেষণা কার্যক্রম, আধুনিক গবেষণাগার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কংজু বিশ্ববিদ্যালয়-এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হ্যাং মুক চো। তাঁর সঙ্গে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণারত বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান ও চীনের চারজন গবেষক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান বাস্তব প্রয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সাত বছর মেয়াদি অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স (ODA) প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। কংজু বিশ্ববিদ্যালয় ও মাভাবিপ্রবির যৌথ উদ্যোগে আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, উন্নত ল্যাব সরঞ্জাম সংযোজন, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনায় জানানো হয়, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা ‘মাদার অব ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে পরিচিত। শিল্পায়ন, অটোমেশন, উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রোবোটিক্স ও স্মার্ট প্রযুক্তির বিকাশে এ বিভাগের দক্ষ প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানো সময়ের দাবি বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয়। এরপর কংজু বিশ্ববিদ্যালয়-এর সহযোগিতায় বিভাগটির গবেষণাগারে প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি মূল্যের আধুনিক যন্ত্রপাতি, ল্যাব সরঞ্জাম এবং একাডেমিক বই সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা প্রশিক্ষণ এবং যৌথ প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগও আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দক্ষ প্রকৌশলী গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার এই যৌথ উদ্যোগ মাভাবিপ্রবির শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে দেশের অন্যতম আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ বলেন, এই প্রকল্প শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা বিনিময়ের একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক গবেষণায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, কংজু বিশ্ববিদ্যালয়-এর সঙ্গে এই সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণায় ইতিবাচক অবদান রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ইউজিসির অনুমোদনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং দেশের প্রকৌশল শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
আরোও পড়ুন – রোটারেক্ট ক্লাবের নতুন নেতৃত্বে নাঈম, রাজভী ও সিয়াম | মাভাবিপ্রবি