নাগেশ্বরীতে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে শতাধিক বন্যাদুর্গত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা

নুর নবী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আয়োজন করা হয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ বিতরণ ক্যাম্প। রবিবার (৫ জুলাই ২০২৬) বামনডাঙ্গা যুব সমাজ উন্নয়ন প্লাটফর্মের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই মানবিক কর্মসূচিতে শতাধিক নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। বন্যার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও সার্বক্ষণিকভাবে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।

বন্যার পর দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগ এবং শিশুদের নানা স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে আয়োজিত বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে আগত রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হয়। চিকিৎসকরা রোগীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন। ফলে শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, স্বাস্থ্যসচেতনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান উপস্থিতরা।

চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন পল্লী চিকিৎসক মোঃ আশরাফ আলী (আর.এম.পি.), শিশু রোগ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং ডি.জি.এফ.পি. ফ্যামিলি প্ল্যানিং কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত; ডাঃ মাইদুল ইসলাম, এসএসি এমও (SACMO), কুড়িগ্রাম সদর; মোঃ আহসান হাবিব আশিক, সার্টিফিকেট ইন প্যারামেডিকেল, নাগেশ্বরী; এবং ডাঃ মোঃ মমিনুল ইসলাম (সাজু), সিএইচডব্লিউ, জেনারেল প্র্যাকটিশনার ও মা-শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তারা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেন এবং গুরুতর রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়ক ও জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। জরুরি রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আশপাশে পর্যাপ্ত চিকিৎসাকেন্দ্র কিংবা ওষুধের দোকান না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হন। এমন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যার সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া একটি দায়িত্বশীল ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারলেও এই ক্যাম্পের মাধ্যমে সহজেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছেন। শিশু, নারী ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় তারা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বামনডাঙ্গা যুব সমাজ উন্নয়ন প্লাটফর্মের সভাপতি মোঃ আজিজুল হক, মোঃ হাফিজুর রহমান, মুফতী জামাল উদ্দীন কুড়িগ্রামী, মোঃ মাইনুল ইসলাম, মোঃ আফসার আলী, মোঃ সইবর আলী, খতিবর, জাহাঙ্গীর আলম, জহুরুল মিয়া, আমজাদ আলী, সামসুল হক, জাহাঙ্গীর আলী, জাকির হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুরো কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

আয়োজকরা জানান, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও দুর্যোগকালীন সময়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এলে আরও বেশি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরোও পড়ুন – নাগেশ্বরীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই যুবকের মৃত্যু, একদিনে দুই দুর্ঘটনায় শোক

নাগেশ্বরীতে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে শতাধিক বন্যাদুর্গত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা

জুলাই ৬, ২০২৬

নুর নবী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আয়োজন করা হয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ বিতরণ ক্যাম্প। রবিবার (৫ জুলাই ২০২৬) বামনডাঙ্গা যুব সমাজ উন্নয়ন প্লাটফর্মের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই মানবিক কর্মসূচিতে শতাধিক নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। বন্যার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও সার্বক্ষণিকভাবে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।

বন্যার পর দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগ এবং শিশুদের নানা স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে আয়োজিত বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে আগত রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হয়। চিকিৎসকরা রোগীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন। ফলে শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, স্বাস্থ্যসচেতনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান উপস্থিতরা।

চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন পল্লী চিকিৎসক মোঃ আশরাফ আলী (আর.এম.পি.), শিশু রোগ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং ডি.জি.এফ.পি. ফ্যামিলি প্ল্যানিং কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত; ডাঃ মাইদুল ইসলাম, এসএসি এমও (SACMO), কুড়িগ্রাম সদর; মোঃ আহসান হাবিব আশিক, সার্টিফিকেট ইন প্যারামেডিকেল, নাগেশ্বরী; এবং ডাঃ মোঃ মমিনুল ইসলাম (সাজু), সিএইচডব্লিউ, জেনারেল প্র্যাকটিশনার ও মা-শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তারা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেন এবং গুরুতর রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়ক ও জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। জরুরি রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আশপাশে পর্যাপ্ত চিকিৎসাকেন্দ্র কিংবা ওষুধের দোকান না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হন। এমন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যার সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া একটি দায়িত্বশীল ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারলেও এই ক্যাম্পের মাধ্যমে সহজেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছেন। শিশু, নারী ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় তারা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বামনডাঙ্গা যুব সমাজ উন্নয়ন প্লাটফর্মের সভাপতি মোঃ আজিজুল হক, মোঃ হাফিজুর রহমান, মুফতী জামাল উদ্দীন কুড়িগ্রামী, মোঃ মাইনুল ইসলাম, মোঃ আফসার আলী, মোঃ সইবর আলী, খতিবর, জাহাঙ্গীর আলম, জহুরুল মিয়া, আমজাদ আলী, সামসুল হক, জাহাঙ্গীর আলী, জাকির হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুরো কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

আয়োজকরা জানান, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও দুর্যোগকালীন সময়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এলে আরও বেশি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরোও পড়ুন – নাগেশ্বরীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই যুবকের মৃত্যু, একদিনে দুই দুর্ঘটনায় শোক