কুতুবদিয়ায় সেতু ধস: প্রবল বর্ষণে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মুহাঃ এনামুল আহাদ এনাম, স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রামঃ

কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার পশ্চিম লেমশীখালী (শাহাজীর পাড়া) ও কৈয়ারবিল (মলমচর) এলাকার মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি সোমবার (৬ জুলাই) প্রবল বর্ষণের কারণে আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। কুতুবদিয়া সেতু ধস এর ঘটনায় দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে টানা বৃষ্টির চাপে শেষ পর্যন্ত সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে সেতু ধসের সময় সেখানে কোনো যানবাহন বা পথচারী না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে এই সেতুটি দুই এলাকার মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রধান অবলম্বন ছিল। বড় যানবাহনের চলাচল কয়েক বছর আগেই সীমিত হয়ে গেলেও প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করতেন। কুতুবদিয়া সেতু ধস ঘটার পর এখন রোগী, গর্ভবতী নারী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় অনেককে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থ উভয় দিক থেকেই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ থাকলেও বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, একটি সরকারি সেতু নির্মাণের মাত্র দুই দশকের মধ্যেই এভাবে ধসে পড়া নির্মাণমান ও তদারকির বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, সকালে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও সেতুর ভাঙা অংশ দেখে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে কৃষকেরা বাজারে কৃষিপণ্য নিতে পারেননি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পণ্য পরিবহনে চরম সংকটে পড়েছেন। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জরুরি রোগীদের দ্রুত উপজেলা সদরে নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে কুতুবদিয়া সেতু ধস–এর পর দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় করেন শত শত মানুষ। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, বছরের পর বছর ধরে নতুন একটি টেকসই সেতু নির্মাণ এবং মলমচর অংশের কাঁচা সড়ক পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তারা মনে করেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজকের এই দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব ছিল। স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দ্রুত আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে।

সচেতন মহল বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কুতুবদিয়া সেতু ধস শুধু একটি অবকাঠামো ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়, বরং এটি সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার একটি বড় সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরোও পড়ুন – রাউজানে পুলিশের অভিযানে এলজি, কার্তুজ ও ছোরা উদ্ধার; গ্রেফতার ১

কুতুবদিয়ায় সেতু ধস: প্রবল বর্ষণে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

জুলাই ৬, ২০২৬

মুহাঃ এনামুল আহাদ এনাম, স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রামঃ

কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার পশ্চিম লেমশীখালী (শাহাজীর পাড়া) ও কৈয়ারবিল (মলমচর) এলাকার মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি সোমবার (৬ জুলাই) প্রবল বর্ষণের কারণে আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। কুতুবদিয়া সেতু ধস এর ঘটনায় দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে টানা বৃষ্টির চাপে শেষ পর্যন্ত সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে সেতু ধসের সময় সেখানে কোনো যানবাহন বা পথচারী না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে এই সেতুটি দুই এলাকার মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রধান অবলম্বন ছিল। বড় যানবাহনের চলাচল কয়েক বছর আগেই সীমিত হয়ে গেলেও প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করতেন। কুতুবদিয়া সেতু ধস ঘটার পর এখন রোগী, গর্ভবতী নারী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় অনেককে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থ উভয় দিক থেকেই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ থাকলেও বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, একটি সরকারি সেতু নির্মাণের মাত্র দুই দশকের মধ্যেই এভাবে ধসে পড়া নির্মাণমান ও তদারকির বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, সকালে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও সেতুর ভাঙা অংশ দেখে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে কৃষকেরা বাজারে কৃষিপণ্য নিতে পারেননি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পণ্য পরিবহনে চরম সংকটে পড়েছেন। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জরুরি রোগীদের দ্রুত উপজেলা সদরে নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে কুতুবদিয়া সেতু ধস–এর পর দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় করেন শত শত মানুষ। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, বছরের পর বছর ধরে নতুন একটি টেকসই সেতু নির্মাণ এবং মলমচর অংশের কাঁচা সড়ক পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তারা মনে করেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজকের এই দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব ছিল। স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দ্রুত আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে।

সচেতন মহল বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কুতুবদিয়া সেতু ধস শুধু একটি অবকাঠামো ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়, বরং এটি সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার একটি বড় সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরোও পড়ুন – রাউজানে পুলিশের অভিযানে এলজি, কার্তুজ ও ছোরা উদ্ধার; গ্রেফতার ১