মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিবরামপুর গ্রামে বসবাসকারী মো. মোশাররফ হোসেন (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি পরিকল্পিত হত্যার শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তারই স্বজনদের পক্ষ থেকে। অভিযোগের তীর গিয়ে পড়েছে মৃতের সৎ ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের দিকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মোশাররফ হোসেন মরহুম আব্দুল জলিলের দ্বিতীয় ঘরের সন্তান। আব্দুল জলিল জীবদ্দশায় তিনটি বিবাহ করেছিলেন। মোশাররফ কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও শারীরিকভাবে ছিলেন সবল এবং বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বড় বোনের তত্ত্বাবধানে বসবাস করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল জলিলের প্রথম ঘরের সন্তান মো. বিল্লাল হোসেন মহব্বত ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম উন্নত চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে মোশাররফকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান। শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরবর্তীতে পরিবারটির আচরণ নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে।
স্বজনদের দাবি, মহব্বতের দুই ছেলে মো. মিলন ও সম্রাট ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি মোশাররফের কাছ থেকে নিজেদের নামে লিখে নিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এ উদ্দেশ্যে তার ওপর মানসিক চাপ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মোশাররফের ভাই মো. নজরুল ইসলাম ননী তাকে পুনরায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং জমি দখলের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এক পর্যায়ে মোশাররফকে গোপনে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয় বলে জানান স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়, যেখানে মোশাররফের ওপর নির্যাতনের আশঙ্কার কথা উল্লেখ ছিল।
এদিকে চলতি বছরের ১১ ডিসেম্বর মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজন কিংবা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়নের বেনুখালী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এই গোপন দাফন নিয়েই এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার নামে দীর্ঘদিন ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করিয়ে এবং শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে মোশাররফকে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তাকে শ্রীনগর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অংশ কৌশলে লিখে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একই পরিবারের আরেক ভাই দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন এবং তার সম্পত্তিও জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করা হয়েছে—এমন কথাও এলাকায় চাউর রয়েছে। ফলে সম্পত্তি নিয়ে এই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধই একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ এক ব্যক্তি জানান, মোশাররফের মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হয়নি। কারণ মৃত্যুর পর কোনো রকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়, যা সাধারণত এলাকায় দেখা যায় না। যদিও মরদেহ গোসল করানোর সময় দৃশ্যমান বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে, তবে তার ডান পায়ের একটি আঙুলে কাটা দাগ ও ব্যান্ডেজ সদৃশ কিছু লক্ষ্য করা যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে দাবি করা হলেও স্বজনদের অভিযোগ ও ঘটনাপ্রবাহ এলাকাবাসীকে সন্দিহান করে তুলেছে। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই করেই সনদ প্রদান করা হয়েছে এবং এতে কোনো অনিয়ম নেই।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং যদি পরিকল্পিত হত্যার প্রমাণ মেলে, তবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।
শ্রীনগরে মানসিক প্রতিবন্ধীর রহস্যজনক মৃত্যু: সম্পত্তি বিরোধের জেরে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিবরামপুর গ্রামে বসবাসকারী মো. মোশাররফ হোসেন (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি পরিকল্পিত হত্যার শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তারই স্বজনদের পক্ষ থেকে। অভিযোগের তীর গিয়ে পড়েছে মৃতের সৎ ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের দিকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মোশাররফ হোসেন মরহুম আব্দুল জলিলের দ্বিতীয় ঘরের সন্তান। আব্দুল জলিল জীবদ্দশায় তিনটি বিবাহ করেছিলেন। মোশাররফ কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও শারীরিকভাবে ছিলেন সবল এবং বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বড় বোনের তত্ত্বাবধানে বসবাস করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল জলিলের প্রথম ঘরের সন্তান মো. বিল্লাল হোসেন মহব্বত ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম উন্নত চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে মোশাররফকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান। শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরবর্তীতে পরিবারটির আচরণ নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে।
স্বজনদের দাবি, মহব্বতের দুই ছেলে মো. মিলন ও সম্রাট ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি মোশাররফের কাছ থেকে নিজেদের নামে লিখে নিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এ উদ্দেশ্যে তার ওপর মানসিক চাপ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মোশাররফের ভাই মো. নজরুল ইসলাম ননী তাকে পুনরায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং জমি দখলের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এক পর্যায়ে মোশাররফকে গোপনে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয় বলে জানান স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়, যেখানে মোশাররফের ওপর নির্যাতনের আশঙ্কার কথা উল্লেখ ছিল।
এদিকে চলতি বছরের ১১ ডিসেম্বর মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজন কিংবা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়নের বেনুখালী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এই গোপন দাফন নিয়েই এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার নামে দীর্ঘদিন ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করিয়ে এবং শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে মোশাররফকে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তাকে শ্রীনগর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অংশ কৌশলে লিখে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একই পরিবারের আরেক ভাই দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন এবং তার সম্পত্তিও জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করা হয়েছে—এমন কথাও এলাকায় চাউর রয়েছে। ফলে সম্পত্তি নিয়ে এই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধই একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ এক ব্যক্তি জানান, মোশাররফের মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হয়নি। কারণ মৃত্যুর পর কোনো রকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়, যা সাধারণত এলাকায় দেখা যায় না। যদিও মরদেহ গোসল করানোর সময় দৃশ্যমান বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে, তবে তার ডান পায়ের একটি আঙুলে কাটা দাগ ও ব্যান্ডেজ সদৃশ কিছু লক্ষ্য করা যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে দাবি করা হলেও স্বজনদের অভিযোগ ও ঘটনাপ্রবাহ এলাকাবাসীকে সন্দিহান করে তুলেছে। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই করেই সনদ প্রদান করা হয়েছে এবং এতে কোনো অনিয়ম নেই।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং যদি পরিকল্পিত হত্যার প্রমাণ মেলে, তবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।