নবীনগর আসনে বিএনপির টিকিট মান্নানের হাতে, স্বতন্ত্র লড়াইয়ের সম্ভাবনায় তাপস

মাজহারুল ইসলাম বাদল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ (নবীনগর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট এম এ মান্নানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নবীনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা ও সম্ভাবনার হিসাব–নিকাশ। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক প্রার্থীকে ঘিরে যে জল্পনা চলছিল, প্রাথমিকভাবে তার অবসান ঘটলেও মাঠের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক বাস্তবতা।


মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির পরিচিত মুখ কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আনোয়ার হোসেনের সন্তান এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে নবীনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলায় তার রয়েছে উল্লেখযোগ্য গ্রহণযোগ্যতা।


নবীনগরের রাজনৈতিক ইতিহাসে কাজী পরিবারের অবস্থান বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। চারবারের সংসদ সদস্য কাজী আনোয়ার হোসেনের হাত ধরে এই অঞ্চলে গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি, যার প্রভাব এখনও দৃশ্যমান। সে কারণে তাপসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এম এ মান্নানকে কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একটি অংশ এখনও তাপসের অবস্থানের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তার ভূমিকা, দীর্ঘ সময়ের মাঠপর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য তাকে স্বতন্ত্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে তিনি যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে নবীনগরের ভোটের হিসাব পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, তাপসের সিদ্ধান্ত কেবল একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, বরং পুরো আসনের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একদিকে দলীয় প্রার্থী এম এ মান্নানকে ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় অবস্থান, অন্যদিকে তৃণমূলের একটি অংশের প্রত্যাশা—এই দুইয়ের সমন্বয় বা সংঘাতই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ।


সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ আসনে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এখন নজর ২৯ ডিসেম্বরের দিকে, যেদিন কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের সিদ্ধান্ত নবীনগরের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

নবীনগর আসনে বিএনপির টিকিট মান্নানের হাতে, স্বতন্ত্র লড়াইয়ের সম্ভাবনায় তাপস

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম বাদল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ (নবীনগর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট এম এ মান্নানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নবীনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা ও সম্ভাবনার হিসাব–নিকাশ। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক প্রার্থীকে ঘিরে যে জল্পনা চলছিল, প্রাথমিকভাবে তার অবসান ঘটলেও মাঠের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক বাস্তবতা।


মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির পরিচিত মুখ কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আনোয়ার হোসেনের সন্তান এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে নবীনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলায় তার রয়েছে উল্লেখযোগ্য গ্রহণযোগ্যতা।


নবীনগরের রাজনৈতিক ইতিহাসে কাজী পরিবারের অবস্থান বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। চারবারের সংসদ সদস্য কাজী আনোয়ার হোসেনের হাত ধরে এই অঞ্চলে গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি, যার প্রভাব এখনও দৃশ্যমান। সে কারণে তাপসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এম এ মান্নানকে কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একটি অংশ এখনও তাপসের অবস্থানের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তার ভূমিকা, দীর্ঘ সময়ের মাঠপর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য তাকে স্বতন্ত্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে তিনি যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে নবীনগরের ভোটের হিসাব পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, তাপসের সিদ্ধান্ত কেবল একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, বরং পুরো আসনের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একদিকে দলীয় প্রার্থী এম এ মান্নানকে ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় অবস্থান, অন্যদিকে তৃণমূলের একটি অংশের প্রত্যাশা—এই দুইয়ের সমন্বয় বা সংঘাতই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ।


সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ আসনে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এখন নজর ২৯ ডিসেম্বরের দিকে, যেদিন কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের সিদ্ধান্ত নবীনগরের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।