কুড়িগ্রামে ঘর নির্মাণ সহায়তা পেয়ে হাসি ফিরল ২ অসহায় পরিবার

মোঃ সাইফুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর কুমরপুর সরদারপাড়া গ্রামে অসহায় ও দুঃস্থ দুই পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয় সমাজসেবী ও ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গণি মিয়া নিজস্ব অর্থায়নে এই সহায়তা দেন। দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণশীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করা পরিবার দুটির দুর্দশা দেখে তিনি এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে নির্মাণ সামগ্রী হস্তান্তর করা হলে এলাকাজুড়ে প্রশংসার সৃষ্টি হয়। মানবিক এই উদ্যোগে পরিবারগুলোর সদস্যদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর কুমর হাজিরহাট এলাকার হাছেন আলীর পরিবার এবং সরদারপাড়া গ্রামের জিতেন্দ্র চন্দ্রের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিতে পানি পড়া, ভাঙাচোরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছিলেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে নতুন ঘর নির্মাণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এমন অবস্থায় আব্দুল গণি মিয়া তাদের খোঁজখবর নিয়ে সরাসরি ঘর নির্মাণ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় টিন, খুঁটি, কাঠ, লোহা ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করেন, যাতে দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণ করা যায়।

সহায়তা প্রদানকালে আব্দুল গণি মিয়া জানান, হাছেন আলীর পরিবারের জন্য ২২টি টিন, ৬টি খুঁটি, মটকা, কাঠ ও লোহা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জিতেন্দ্র চন্দ্রের পরিবারের জন্য ২৪ পিচ টিন, ৬টি খুঁটি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুধু সামগ্রী নয়, ঘর নির্মাণে অতিরিক্ত যে ব্যয় হবে সেটিও তিনি বহন করবেন। তার ভাষ্য, সমাজের বিত্তবানদের উচিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিয়মিত ঘর নির্মাণ সহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নেওয়া।

সহায়তা পাওয়া দুই পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন। বর্ষা এলেই ঘরে পানি ঢুকত, শীতকালে ঠান্ডায় কষ্ট পেতে হতো এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় ভয় নিয়ে রাত কাটাতে হতো। এখন নতুন ঘর নির্মাণের সুযোগ পাওয়ায় তারা অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করছেন। পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এই ঘর নির্মাণ সহায়তা তাদের নতুনভাবে বাঁচার আশা দেখিয়েছে। তারা সহায়তাদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এলাকাবাসী বলেন, বর্তমান সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন। অনেক অসহায় পরিবার নীরবে কষ্ট করে জীবন কাটালেও তাদের খবর কেউ নেয় না। আব্দুল গণি মিয়ার এই উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সমাজের আরও সক্ষম ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। কুড়িগ্রামে এই ঘর নির্মাণ সহায়তা উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনা: মাইক্রোবাস–ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১১

কুড়িগ্রামে ঘর নির্মাণ সহায়তা পেয়ে হাসি ফিরল ২ অসহায় পরিবার

এপ্রিল ৩০, ২০২৬

মোঃ সাইফুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর কুমরপুর সরদারপাড়া গ্রামে অসহায় ও দুঃস্থ দুই পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয় সমাজসেবী ও ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গণি মিয়া নিজস্ব অর্থায়নে এই সহায়তা দেন। দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণশীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করা পরিবার দুটির দুর্দশা দেখে তিনি এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে নির্মাণ সামগ্রী হস্তান্তর করা হলে এলাকাজুড়ে প্রশংসার সৃষ্টি হয়। মানবিক এই উদ্যোগে পরিবারগুলোর সদস্যদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর কুমর হাজিরহাট এলাকার হাছেন আলীর পরিবার এবং সরদারপাড়া গ্রামের জিতেন্দ্র চন্দ্রের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিতে পানি পড়া, ভাঙাচোরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছিলেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে নতুন ঘর নির্মাণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এমন অবস্থায় আব্দুল গণি মিয়া তাদের খোঁজখবর নিয়ে সরাসরি ঘর নির্মাণ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় টিন, খুঁটি, কাঠ, লোহা ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করেন, যাতে দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণ করা যায়।

সহায়তা প্রদানকালে আব্দুল গণি মিয়া জানান, হাছেন আলীর পরিবারের জন্য ২২টি টিন, ৬টি খুঁটি, মটকা, কাঠ ও লোহা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জিতেন্দ্র চন্দ্রের পরিবারের জন্য ২৪ পিচ টিন, ৬টি খুঁটি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুধু সামগ্রী নয়, ঘর নির্মাণে অতিরিক্ত যে ব্যয় হবে সেটিও তিনি বহন করবেন। তার ভাষ্য, সমাজের বিত্তবানদের উচিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিয়মিত ঘর নির্মাণ সহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নেওয়া।

সহায়তা পাওয়া দুই পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন। বর্ষা এলেই ঘরে পানি ঢুকত, শীতকালে ঠান্ডায় কষ্ট পেতে হতো এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় ভয় নিয়ে রাত কাটাতে হতো। এখন নতুন ঘর নির্মাণের সুযোগ পাওয়ায় তারা অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করছেন। পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এই ঘর নির্মাণ সহায়তা তাদের নতুনভাবে বাঁচার আশা দেখিয়েছে। তারা সহায়তাদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এলাকাবাসী বলেন, বর্তমান সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন। অনেক অসহায় পরিবার নীরবে কষ্ট করে জীবন কাটালেও তাদের খবর কেউ নেয় না। আব্দুল গণি মিয়ার এই উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সমাজের আরও সক্ষম ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। কুড়িগ্রামে এই ঘর নির্মাণ সহায়তা উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনা: মাইক্রোবাস–ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১১