দোহারে ভাতার টাকা বিতরণ শুরু, পিন নম্বর গোপন রাখার পরামর্শ ইউএনও’র

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার দোহার উপজেলার অসচ্ছল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। উপজেলার মোট ১৫ হাজার ১৬৪ জন সুবিধাভোগীর মাঝে প্রায় ১২ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার সরকারি ভাতার টাকা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) সকাল ১১টায় উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভাতাসহ মোট ৮টি ক্যাটাগরিতে এই ভাতার টাকা প্রদান করা হচ্ছে। আধুনিক জিটুপি (G2P) পদ্ধতির মাধ্যমে উপকারভোগীদের নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পৌঁছে যাবে। এজন্য প্রত্যেক সুবিধাভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সক্রিয় ‘নগদ’ অথবা ‘বিকাশ’ অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়ম কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে সরকার সময়মতো ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সম্প্রতি মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি ও প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, “কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর বা ওটিপি কাউকে জানাবেন না। প্রশাসনের কেউ কখনো ফোন করে গোপন তথ্য চাইবে না। কেউ এমন দাবি করলে বুঝতে হবে সেটি প্রতারণার চেষ্টা।” তিনি আরও বলেন, ভাতা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

সভায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এখন পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এতে সুবিধাভোগীরা ঘরে বসেই সহজে ভাতার টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, পূর্বের তুলনায় এখন অনিয়ম অনেক কমেছে এবং উপকারভোগীদের মাঝে সচেতনতা বাড়ছে। সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মাতব্বরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, উপজেলা প্রকৌশলী এম এ রাজু আহম্মেদ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এবং পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এম এ সাত্তার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঈদের আগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই ভাতার টাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় অনেক সুবিধাভোগী জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সরকারি সহায়তা তাদের পরিবার চালাতে বড় সহায়ক হবে। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার কারণে দূরবর্তী এলাকায় থেকেও সহজে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে।

সচেতনতামূলক এই সভায় প্রতারণা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা বলেন, অনেক সময় প্রতারক চক্র সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। তাই সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেউ প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দোহারের হাজারো পরিবারের ঈদের আনন্দ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত বক্তারা।

আরোও পড়ুন – জীর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, সংকটে জামালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

দোহারে ভাতার টাকা বিতরণ শুরু, পিন নম্বর গোপন রাখার পরামর্শ ইউএনও’র

মে ১২, ২০২৬

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার দোহার উপজেলার অসচ্ছল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। উপজেলার মোট ১৫ হাজার ১৬৪ জন সুবিধাভোগীর মাঝে প্রায় ১২ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার সরকারি ভাতার টাকা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) সকাল ১১টায় উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভাতাসহ মোট ৮টি ক্যাটাগরিতে এই ভাতার টাকা প্রদান করা হচ্ছে। আধুনিক জিটুপি (G2P) পদ্ধতির মাধ্যমে উপকারভোগীদের নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পৌঁছে যাবে। এজন্য প্রত্যেক সুবিধাভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সক্রিয় ‘নগদ’ অথবা ‘বিকাশ’ অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়ম কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে সরকার সময়মতো ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সম্প্রতি মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি ও প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, “কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর বা ওটিপি কাউকে জানাবেন না। প্রশাসনের কেউ কখনো ফোন করে গোপন তথ্য চাইবে না। কেউ এমন দাবি করলে বুঝতে হবে সেটি প্রতারণার চেষ্টা।” তিনি আরও বলেন, ভাতা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

সভায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এখন পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এতে সুবিধাভোগীরা ঘরে বসেই সহজে ভাতার টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, পূর্বের তুলনায় এখন অনিয়ম অনেক কমেছে এবং উপকারভোগীদের মাঝে সচেতনতা বাড়ছে। সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মাতব্বরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, উপজেলা প্রকৌশলী এম এ রাজু আহম্মেদ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এবং পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এম এ সাত্তার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঈদের আগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই ভাতার টাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় অনেক সুবিধাভোগী জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সরকারি সহায়তা তাদের পরিবার চালাতে বড় সহায়ক হবে। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার কারণে দূরবর্তী এলাকায় থেকেও সহজে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে।

সচেতনতামূলক এই সভায় প্রতারণা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা বলেন, অনেক সময় প্রতারক চক্র সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। তাই সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেউ প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দোহারের হাজারো পরিবারের ঈদের আনন্দ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত বক্তারা।

আরোও পড়ুন – জীর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, সংকটে জামালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়