মহেশপুর সীমান্তে মাদক উদ্ধার: বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ, গাঁজা ও সিরাপ জব্দ

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-৫৮ এর পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, গাঁজা ও মাদক সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ জুন) গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে সীমান্তবর্তী দুটি আমবাগান থেকে মাদকদ্রব্যগুলো জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় কোনো মাদক কারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে পরিচালিত এ অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানের ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা আবারও সামনে এসেছে।

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মাধবখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা পিলার ৭০/৫-এস সংলগ্ন শিমুলবাড়ীয়া-মাধবখালী গ্রামের একটি আমবাগানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন হাবিলদার মো. জাকিউল ইসলাম। সীমান্তের দুর্গম এলাকায় নিয়মিত নজরদারির ফলেই এই মহেশপুরে মাদক উদ্ধার সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

এদিকে একই দিন সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা পিলার ৬৩/৫-এস সংলগ্ন মেদিনীপুর গ্রামের আরেকটি আমবাগানে পৃথক অভিযান চালানো হয়। নায়েক সুবেদার মো. হাফিজুর রশিদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ৭০০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা এবং ৭৭ বোতল কোডিন ফসফেট ও ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইড সমৃদ্ধ মাদক সিরাপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্য সীমান্ত পেরিয়ে দেশের অভ্যন্তরে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বিজিবি। এই মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে সীমান্ত চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মহেশপুর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, স্বর্ণ ও বিভিন্ন অবৈধ পণ্য চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ করিডোর হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র নানা কৌশলে সীমান্ত ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় একের পর এক মাদক উদ্ধার হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত ভারতীয় মদ, গাঁজা ও মাদক সিরাপ জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি। সর্বশেষ এই মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযান সীমান্তে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – মহেশপুরে মাদক উদ্ধার: বিজিবির অভিযানে ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ভারতীয় সিরাপ জব্দ

মহেশপুর সীমান্তে মাদক উদ্ধার: বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ, গাঁজা ও সিরাপ জব্দ

জুন ১৭, ২০২৬

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-৫৮ এর পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, গাঁজা ও মাদক সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ জুন) গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে সীমান্তবর্তী দুটি আমবাগান থেকে মাদকদ্রব্যগুলো জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় কোনো মাদক কারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে পরিচালিত এ অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানের ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা আবারও সামনে এসেছে।

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মাধবখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা পিলার ৭০/৫-এস সংলগ্ন শিমুলবাড়ীয়া-মাধবখালী গ্রামের একটি আমবাগানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন হাবিলদার মো. জাকিউল ইসলাম। সীমান্তের দুর্গম এলাকায় নিয়মিত নজরদারির ফলেই এই মহেশপুরে মাদক উদ্ধার সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

এদিকে একই দিন সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা পিলার ৬৩/৫-এস সংলগ্ন মেদিনীপুর গ্রামের আরেকটি আমবাগানে পৃথক অভিযান চালানো হয়। নায়েক সুবেদার মো. হাফিজুর রশিদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ৭০০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা এবং ৭৭ বোতল কোডিন ফসফেট ও ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইড সমৃদ্ধ মাদক সিরাপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্য সীমান্ত পেরিয়ে দেশের অভ্যন্তরে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বিজিবি। এই মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে সীমান্ত চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মহেশপুর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, স্বর্ণ ও বিভিন্ন অবৈধ পণ্য চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ করিডোর হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র নানা কৌশলে সীমান্ত ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় একের পর এক মাদক উদ্ধার হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত ভারতীয় মদ, গাঁজা ও মাদক সিরাপ জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি। সর্বশেষ এই মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযান সীমান্তে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – মহেশপুরে মাদক উদ্ধার: বিজিবির অভিযানে ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ভারতীয় সিরাপ জব্দ