নুর নবী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ২ নম্বর রায়গঞ্জ ইউনিয়নের রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দামালগ্রাম পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির করুণ অবস্থা স্থানীয় জনজীবনে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রায়গঞ্জ সড়ক এখন যেন এক দুর্ভোগের প্রতীক। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়, সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত ও কাদার স্তূপ। ফলে প্রতিদিন এই পথে চলাচলকারী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার কিনারা ভেঙে পড়েছে, আবার অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান ও ছোট যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে রায়গঞ্জ সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সড়কটি রায়গঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে এই পথ ব্যবহার করে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় বাজারে নিতে একই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের নিয়মিত যাতায়াতের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাতায়াত ব্যয় বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় রোগী বহনকারী যানবাহনও দ্রুত চলাচল করতে পারে না। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার সময় রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত সংস্কার না করা হলে বর্ষাকালে রায়গঞ্জ সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় জনগণ একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে মৌখিক আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো বড় ধরনের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের উন্নয়নে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে টেকসই সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হোক, যাতে দীর্ঘমেয়াদে জনগণ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
এ বিষয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ভোটের সময় সবাই আমাদের কাছে আসে, কিন্তু রাস্তার এই দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই। বছরের পর বছর আমরা কষ্ট করে চলাচল করছি। এখন জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” আরেকজন বাসিন্দা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় ভরে যায় এবং যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, জনস্বার্থে রায়গঞ্জ সড়ক দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অন্যথায় আগামী বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযান, ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ঢল
রায়গঞ্জ সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ | দ্রুত সংস্কারের দাবি
নুর নবী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ২ নম্বর রায়গঞ্জ ইউনিয়নের রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দামালগ্রাম পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির করুণ অবস্থা স্থানীয় জনজীবনে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রায়গঞ্জ সড়ক এখন যেন এক দুর্ভোগের প্রতীক। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়, সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত ও কাদার স্তূপ। ফলে প্রতিদিন এই পথে চলাচলকারী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার কিনারা ভেঙে পড়েছে, আবার অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান ও ছোট যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে রায়গঞ্জ সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সড়কটি রায়গঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে এই পথ ব্যবহার করে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় বাজারে নিতে একই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের নিয়মিত যাতায়াতের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাতায়াত ব্যয় বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় রোগী বহনকারী যানবাহনও দ্রুত চলাচল করতে পারে না। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার সময় রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত সংস্কার না করা হলে বর্ষাকালে রায়গঞ্জ সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় জনগণ একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে মৌখিক আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো বড় ধরনের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের উন্নয়নে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে টেকসই সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হোক, যাতে দীর্ঘমেয়াদে জনগণ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
এ বিষয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ভোটের সময় সবাই আমাদের কাছে আসে, কিন্তু রাস্তার এই দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই। বছরের পর বছর আমরা কষ্ট করে চলাচল করছি। এখন জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” আরেকজন বাসিন্দা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় ভরে যায় এবং যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, জনস্বার্থে রায়গঞ্জ সড়ক দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অন্যথায় আগামী বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযান, ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ঢল