কুষ্টিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, থানা ঘেরাও করে ৭ দিনের আল্টিমেটাম

ইমরান হোসেন, (কুষ্টিয়া)

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি ও যুবদল। রোববার (২১ জুন) বিকেলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দলটির নেতারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন।

বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান ফটকের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি কুষ্টিয়া মডেল থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

থানার সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন যুবদল নেতা আব্দুল মাজেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি আইনের শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত স্থিরচিত্র পর্যালোচনা করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব। প্রশাসনের কাছে এসব তথ্য থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। বক্তারা মনে করেন, আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা অনেকাংশে কমে আসবে। এ সময় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়।

নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা আরও দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিতর্কিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতারা। তারা জানান, ভবিষ্যতে গণঅবস্থান, মানববন্ধন ও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং দেওয়া আল্টিমেটাম নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় দলীয় কর্মসূচির সংখ্যা বেড়েছে। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং প্রশাসন দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকে এখন সবার নজর রয়েছে। এদিকে কর্মসূচি ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আটক, আদালত থেকে কারাগারে প্রেরণ

কুষ্টিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, থানা ঘেরাও করে ৭ দিনের আল্টিমেটাম

জুন ২২, ২০২৬

ইমরান হোসেন, (কুষ্টিয়া)

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি ও যুবদল। রোববার (২১ জুন) বিকেলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দলটির নেতারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন।

বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান ফটকের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি কুষ্টিয়া মডেল থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

থানার সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন যুবদল নেতা আব্দুল মাজেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি আইনের শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত স্থিরচিত্র পর্যালোচনা করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব। প্রশাসনের কাছে এসব তথ্য থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। বক্তারা মনে করেন, আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা অনেকাংশে কমে আসবে। এ সময় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়।

নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা আরও দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিতর্কিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতারা। তারা জানান, ভবিষ্যতে গণঅবস্থান, মানববন্ধন ও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং দেওয়া আল্টিমেটাম নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় দলীয় কর্মসূচির সংখ্যা বেড়েছে। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং প্রশাসন দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকে এখন সবার নজর রয়েছে। এদিকে কর্মসূচি ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আটক, আদালত থেকে কারাগারে প্রেরণ