মো: রিয়াজ উদ্দিন, জেলা প্রতিনিধি (নোয়াখালী)
সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছেন দুই চাকরি প্রার্থী। নিয়োগ পরীক্ষায় অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর মাধ্যমে চাকরিতে নির্বাচিত হলেও যোগদান করতে এসে তাদের প্রতারণা ধরা পড়ে যায়। নোয়াখালীর কর অঞ্চল কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সহায়তায় তারা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতারণা চালিয়েছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জালিয়াত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে।
রোববার (২১ জুন) রাত সোয়া ৯টার দিকে নোয়াখালীর মাইজদী বাজারে অবস্থিত কর অঞ্চল নোয়াখালীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নির্বাচিত কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহায়ক পদে নির্বাচিত নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন। তারা যথাক্রমে সদর উপজেলার ব্রহ্মপুর ও হাতিয়া উপজেলার গুল্যাখালী এলাকার বাসিন্দা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে এলে তাদের আচরণ ও তথ্য যাচাইয়ের সময় কর্তৃপক্ষের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ে প্রক্সি পরীক্ষা জালিয়াতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে।
কর অঞ্চল নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ কর কমিশনার এনামুল হাসান আল নোমান জানান, গত ১১ জুন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে মোট ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। রোববার নির্বাচিত প্রার্থীদের মেডিক্যাল রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী যোগদান করতে এলে কামাল উদ্দিন ও নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুনকে দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে তাদের হাতের লেখা পরীক্ষা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হলে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন যে পরীক্ষায় তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন। এতে প্রক্সি পরীক্ষা জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চাকরি প্রার্থীদের প্রবেশপত্রে ছবি পরিবর্তন এবং পরিচয় গোপন করার কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই ব্যক্তি জানান, সরকারি চাকরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র তাদের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তি করে। ওই চক্র পরীক্ষার আবেদন থেকে শুরু করে প্রবেশপত্র প্রস্তুত, ছবি পরিবর্তন এবং পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন চক্র বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাকে টার্গেট করে সক্রিয় থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর প্রক্সি পরীক্ষা জালিয়াতি নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আটক নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুনের এক আত্মীয় আয়কর বিভাগে কর্মরত থাকার তথ্যও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যদিও এ ঘটনায় ওই আত্মীয়ের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে এমন প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, কর অঞ্চল কার্যালয় থেকে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি জালিয়াত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের প্রক্সি পরীক্ষা জালিয়াতি শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং প্রকৃত মেধাবী চাকরিপ্রার্থীদের অধিকারও ক্ষুণ্ন করে। তাই এই ঘটনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে আরও কঠোর নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
আরোও পড়ুন – ভুতুড়ে মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার: নোয়াখালী থেকে বরিশাল কারাগারে পাঠানো জসিম উদ্দিন
প্রক্সি পরীক্ষা জালিয়াতি করে চাকরি, যোগদান করতে এসে আটক ২
মো: রিয়াজ উদ্দিন, জেলা প্রতিনিধি (নোয়াখালী)
সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছেন দুই চাকরি প্রার্থী। নিয়োগ পরীক্ষায় অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর মাধ্যমে চাকরিতে নির্বাচিত হলেও যোগদান করতে এসে তাদের প্রতারণা ধরা পড়ে যায়। নোয়াখালীর কর অঞ্চল কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সহায়তায় তারা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতারণা চালিয়েছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জালিয়াত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে।
রোববার (২১ জুন) রাত সোয়া ৯টার দিকে নোয়াখালীর মাইজদী বাজারে অবস্থিত কর অঞ্চল নোয়াখালীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নির্বাচিত কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহায়ক পদে নির্বাচিত নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন। তারা যথাক্রমে সদর উপজেলার ব্রহ্মপুর ও হাতিয়া উপজেলার গুল্যাখালী এলাকার বাসিন্দা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে এলে তাদের আচরণ ও তথ্য যাচাইয়ের সময় কর্তৃপক্ষের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ে প্রক্সি পরীক্ষা জালিয়াতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে।
কর অঞ্চল নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ কর কমিশনার এনামুল হাসান আল নোমান জানান, গত ১১ জুন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে মোট ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। রোববার নির্বাচিত প্রার্থীদের মেডিক্যাল রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী যোগদান করতে এলে কামাল উদ্দিন ও নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুনকে দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে তাদের হাতের লেখা পরীক্ষা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হলে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন যে পরীক্ষায় তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন। এতে প্রক্সি পরীক্ষা জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চাকরি প্রার্থীদের প্রবেশপত্রে ছবি পরিবর্তন এবং পরিচয় গোপন করার কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই ব্যক্তি জানান, সরকারি চাকরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র তাদের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তি করে। ওই চক্র পরীক্ষার আবেদন থেকে শুরু করে প্রবেশপত্র প্রস্তুত, ছবি পরিবর্তন এবং পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন চক্র বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাকে টার্গেট করে সক্রিয় থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর প্রক্সি পরীক্ষা জালিয়াতি নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আটক নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুনের এক আত্মীয় আয়কর বিভাগে কর্মরত থাকার তথ্যও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যদিও এ ঘটনায় ওই আত্মীয়ের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে এমন প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, কর অঞ্চল কার্যালয় থেকে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি জালিয়াত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের প্রক্সি পরীক্ষা জালিয়াতি শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং প্রকৃত মেধাবী চাকরিপ্রার্থীদের অধিকারও ক্ষুণ্ন করে। তাই এই ঘটনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে আরও কঠোর নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
আরোও পড়ুন – ভুতুড়ে মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার: নোয়াখালী থেকে বরিশাল কারাগারে পাঠানো জসিম উদ্দিন