সরাইল–নাসিরনগর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৬৮ কোটি টাকার কার্যাদেশ, শুরু হচ্ছে বড় উন্নয়ন কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও টেকসই করতে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সরাইল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক বিভাগের অধীনে সারাইল–নাসিরনগর–লাখাই (আর-২২০) সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যাদেশ (Notification of Award-NOA) প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫৮ টাকা ৬৪ পয়সা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এই প্রকল্পটি সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলার মানুষের বহুদিনের ভোগান্তি দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি সেবার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা নোটিশ অনুযায়ী, ই-জিপি টেন্ডার আইডি ১১০৭১৪৫-এর আওতায় ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। এই সরাইল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সারাইল–নাসিরনগর–লাখাই সড়কের ১৯তম কিলোমিটার থেকে ২৬তম কিলোমিটার পর্যন্ত অংশে ব্যাপক উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে মাটির কাজ (Earth Work), কঠিন পেভমেন্ট (Rigid Pavement) নির্মাণ, বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ, উন্নতমানের সারফেসিং, একটি নতুন সেতু নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামো স্থাপন।

সড়ক বিভাগের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কার্যাদেশ পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে কার্যাদেশ গ্রহণের সম্মতি জানাতে হবে। পাশাপাশি কার্যাদেশ জারির ১৪ দিনের মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫৯ টাকা পারফরম্যান্স সিকিউরিটি জমা দিতে হবে। এছাড়া আগামী ৯ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে নোটিশটি জারি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশে ভাঙাচোরা অবস্থা, জলাবদ্ধতা ও চলাচলের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের চিত্র। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যাত্রীবাহী যানবাহন, শিক্ষার্থী, রোগী এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হতো। বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা সরাইল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হলে এসব দুর্ভোগ অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক গতি সৃষ্টি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। সারাইল, নাসিরনগর ও লাখাই উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয়ও কমে আসবে। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবা গ্রহণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক মানের সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ মোকাবিলাও সহজ হবে বলে মনে করছেন প্রকৌশল সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের অভিমত, প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করা গেলে তিন উপজেলার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ জেলার সংযোগ সড়ক হিসেবেও এই মহাসড়কের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর সরকারি সফর, বিমানবন্দরে রাসিক প্রশাসকের ফুলেল শুভেচ্ছা

সরাইল–নাসিরনগর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৬৮ কোটি টাকার কার্যাদেশ, শুরু হচ্ছে বড় উন্নয়ন কাজ

জুলাই ১৩, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও টেকসই করতে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সরাইল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক বিভাগের অধীনে সারাইল–নাসিরনগর–লাখাই (আর-২২০) সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যাদেশ (Notification of Award-NOA) প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫৮ টাকা ৬৪ পয়সা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এই প্রকল্পটি সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলার মানুষের বহুদিনের ভোগান্তি দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি সেবার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা নোটিশ অনুযায়ী, ই-জিপি টেন্ডার আইডি ১১০৭১৪৫-এর আওতায় ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। এই সরাইল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সারাইল–নাসিরনগর–লাখাই সড়কের ১৯তম কিলোমিটার থেকে ২৬তম কিলোমিটার পর্যন্ত অংশে ব্যাপক উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে মাটির কাজ (Earth Work), কঠিন পেভমেন্ট (Rigid Pavement) নির্মাণ, বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ, উন্নতমানের সারফেসিং, একটি নতুন সেতু নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামো স্থাপন।

সড়ক বিভাগের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কার্যাদেশ পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে কার্যাদেশ গ্রহণের সম্মতি জানাতে হবে। পাশাপাশি কার্যাদেশ জারির ১৪ দিনের মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫৯ টাকা পারফরম্যান্স সিকিউরিটি জমা দিতে হবে। এছাড়া আগামী ৯ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে নোটিশটি জারি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশে ভাঙাচোরা অবস্থা, জলাবদ্ধতা ও চলাচলের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের চিত্র। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যাত্রীবাহী যানবাহন, শিক্ষার্থী, রোগী এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হতো। বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা সরাইল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হলে এসব দুর্ভোগ অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক গতি সৃষ্টি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। সারাইল, নাসিরনগর ও লাখাই উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয়ও কমে আসবে। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবা গ্রহণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক মানের সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ মোকাবিলাও সহজ হবে বলে মনে করছেন প্রকৌশল সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের অভিমত, প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করা গেলে তিন উপজেলার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ জেলার সংযোগ সড়ক হিসেবেও এই মহাসড়কের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর সরকারি সফর, বিমানবন্দরে রাসিক প্রশাসকের ফুলেল শুভেচ্ছা