ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ
জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা শাখার নায়েবে আমীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শাহজাহান আলী মোল্লা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তিনি একজন আদর্শনিষ্ঠ সংগঠক, জনসম্পৃক্ত নেতা এবং ইসলামী আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে কুষ্টিয়াসহ বৃহত্তর অঞ্চলে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে লিভার ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন শাহজাহান আলী মোল্লা। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ শোক প্রকাশ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য মানুষ তাঁর স্মৃতিচারণ করেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া শহরের শরীয়তুল্লাহ এতিমখানা মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মুহসীন। জানাজা শেষে মরদেহ তাঁর নিজ উপজেলা মিরপুরের ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটিগ্রাম গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদা অনুসরণ করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
শাহজাহান আলী মোল্লা-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা নেতৃবৃন্দ। পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মুহসীন, জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, খোকসা-কুমারখালী আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসাইন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, অধ্যাপক ফরহাদ হোসাইন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি এস এম মহসীন আলী, সেক্রেটারি খায়রুল ইসলাম, উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা জুলফিকার আলী ও সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াসির আরাফাতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হাসান সিপাই, মালিথা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা ফারুক আযমসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও পৃথক শোকবার্তায় তাঁর কর্মময় জীবনের অবদান স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, সৎ ও নীতিবান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত আচরণ, মানবিকতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি বিভিন্ন মহলে সম্মানিত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে শাহজাহান আলী মোল্লা ছিলেন একজন ত্যাগী ও দায়িত্বশীল সংগঠক। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামীর রোকন হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৮৬ সালে প্রথমবার মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হন। ধারাবাহিকভাবে ২০০৪ সালে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি, ২০০৬ সালে জেলা সেক্রেটারি এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে জেলা নায়েবে আমীর নির্বাচিত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
সহকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি কারাবরণ, হয়রানি ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে কখনো পিছিয়ে যাননি। জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং দলীয় কার্যক্রমকে গতিশীল করতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
আরোও পড়ুন – নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতায় কুষ্টিয়ার দুই জামায়াত নেতার রুকন পদ মুলতবির দাবি
কুষ্টিয়ায় জামায়াত নেতা শাহজাহান আলী মোল্লার ইন্তেকাল, জানাজা শেষে দাফন
ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ
জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা শাখার নায়েবে আমীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শাহজাহান আলী মোল্লা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তিনি একজন আদর্শনিষ্ঠ সংগঠক, জনসম্পৃক্ত নেতা এবং ইসলামী আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে কুষ্টিয়াসহ বৃহত্তর অঞ্চলে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে লিভার ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন শাহজাহান আলী মোল্লা। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ শোক প্রকাশ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য মানুষ তাঁর স্মৃতিচারণ করেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া শহরের শরীয়তুল্লাহ এতিমখানা মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মুহসীন। জানাজা শেষে মরদেহ তাঁর নিজ উপজেলা মিরপুরের ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটিগ্রাম গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদা অনুসরণ করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
শাহজাহান আলী মোল্লা-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা নেতৃবৃন্দ। পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মুহসীন, জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, খোকসা-কুমারখালী আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসাইন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, অধ্যাপক ফরহাদ হোসাইন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি এস এম মহসীন আলী, সেক্রেটারি খায়রুল ইসলাম, উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা জুলফিকার আলী ও সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াসির আরাফাতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হাসান সিপাই, মালিথা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা ফারুক আযমসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও পৃথক শোকবার্তায় তাঁর কর্মময় জীবনের অবদান স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, সৎ ও নীতিবান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত আচরণ, মানবিকতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি বিভিন্ন মহলে সম্মানিত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে শাহজাহান আলী মোল্লা ছিলেন একজন ত্যাগী ও দায়িত্বশীল সংগঠক। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামীর রোকন হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৮৬ সালে প্রথমবার মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হন। ধারাবাহিকভাবে ২০০৪ সালে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি, ২০০৬ সালে জেলা সেক্রেটারি এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে জেলা নায়েবে আমীর নির্বাচিত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
সহকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি কারাবরণ, হয়রানি ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে কখনো পিছিয়ে যাননি। জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং দলীয় কার্যক্রমকে গতিশীল করতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
আরোও পড়ুন – নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতায় কুষ্টিয়ার দুই জামায়াত নেতার রুকন পদ মুলতবির দাবি