মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী ব্যুরোঃ
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ত্রুটির অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে অনেক পরীক্ষার্থীকে। অনেকে দীর্ঘ পথ হেঁটে কিংবা নৌকায় করে কেন্দ্রে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং মানসিক চাপের মধ্যেও পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, দুর্যোগকালীন বাস্তবতা বিবেচনা না করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া ছিল অমানবিক সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুল ও অসঙ্গতির অভিযোগও তুলে তারা বলেন, এসব ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এসব ঘটনার দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলেও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল- “দুর্যোগ আর পরীক্ষা একসাথে চলে না”, “শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই”, “তুমি কে? আমি কে? ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি” ইত্যাদি। তারা জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। তাদের ভাষ্য, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক চাপ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেই তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মাঠে নেমেছেন।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শুধু পরীক্ষা নেওয়াই নয়, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও আরও বেশি দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। তারা দাবি করেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, আবহাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনারও আহ্বান জানান তারা। আন্দোলনকারীদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডসংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। ঘটনাস্থলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির ওপর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নজর রাখছেন। এদিকে অভিভাবকদের একাংশও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, থানা ঘেরাও করে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি: রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী ব্যুরোঃ
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ত্রুটির অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে অনেক পরীক্ষার্থীকে। অনেকে দীর্ঘ পথ হেঁটে কিংবা নৌকায় করে কেন্দ্রে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং মানসিক চাপের মধ্যেও পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, দুর্যোগকালীন বাস্তবতা বিবেচনা না করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া ছিল অমানবিক সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুল ও অসঙ্গতির অভিযোগও তুলে তারা বলেন, এসব ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এসব ঘটনার দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলেও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল- “দুর্যোগ আর পরীক্ষা একসাথে চলে না”, “শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই”, “তুমি কে? আমি কে? ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি” ইত্যাদি। তারা জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। তাদের ভাষ্য, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক চাপ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেই তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মাঠে নেমেছেন।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শুধু পরীক্ষা নেওয়াই নয়, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও আরও বেশি দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। তারা দাবি করেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, আবহাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনারও আহ্বান জানান তারা। আন্দোলনকারীদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডসংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। ঘটনাস্থলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির ওপর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নজর রাখছেন। এদিকে অভিভাবকদের একাংশও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, থানা ঘেরাও করে ৭ দিনের আল্টিমেটাম