রাজশাহীতে পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) আয়োজনে আগস্ট ২০২৬ মাসের পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে বিভিন্ন সরকারি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আরএমপির পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়।

সভায় আগস্ট মাসে রাজশাহী মহানগরীতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ, মামলা দায়ের ও তদন্তের অগ্রগতি, গুরুত্বপূর্ণ মামলার বর্তমান অবস্থা এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক, কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাই, যানজটসহ মহানগরবাসীর নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধ পর্যালোচনা সভা-এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা রাজশাহী মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। মহিলা চেম্বার অব কমার্স এবং হোপ ব্রিজ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা মহানগরীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ফেডারেশন অব এনজিও বাংলাদেশের প্রতিনিধি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট ও ব্যানার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এতে বোঝা যায়, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমকেও অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সমন্বয় সভা-এ মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উঠে আসে। অপরাধের ধরন ও প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

মামলার তদন্ত ও দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার মামলার তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় গতি আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সময়মতো মেডিকেল ও ফরেনসিক রিপোর্ট সংগ্রহ এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আলামত দ্রুত পাওয়ার মাধ্যমে মামলার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। লিফলেট ও ব্যানারের মাধ্যমে ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং যানজট কমাতে তা ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মত দেন।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেন। তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে গতি আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরএমপির সব থানা ও ইউনিটকে আন্তরিকতা, সততা, পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

পুলিশ কমিশনার সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত, কাঙ্ক্ষিত ও মানসম্মত পুলিশি সেবা পান, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের কার্যকর যোগাযোগ এবং সেবার মান বাড়ানোর বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সমন্বয় সভা-এর মতো নিয়মিত পর্যালোচনা ও সমন্বয়মূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) জনাব মো: ফারুক হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএম; উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) জনাব মো: গোলাম রব্বানী শেখ, পিপিএম (বার); উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) জনাব মাঈনুল ইসলাম, পিপিএম (বার); উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম) জনাব দীন মোহাম্মদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) জনাব মো: আবুল কালাম সাহিদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র জনাব মো: গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও সভায় র‌্যাব-৫, রাজশাহী; রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১ (বিজিবি); পিবিআই; সিআইডি; নৌ-পুলিশ; ট্যুরিস্ট পুলিশ; ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, সিআইডি, রাজশাহী; ইএমও, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ; রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহী; চেম্বার অব কমার্স (পুরুষ) ও মহিলা চেম্বার অব কমার্স, রাজশাহী; এনজিও’স ফেডারেশন; দিনের আলো হিজড়া সংঘ এবং হোপ ব্রিজ ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতি মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা, সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, এনজিও এবং সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। আগস্ট মাসের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিদ্যমান উদ্যোগগুলো আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত তদন্ত, জনসচেতনতা এবং আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে রাজশাহী মহানগরীর নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব বলে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরোও পড়ুন – পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস করি, প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস গড়ি: রাজশাহী সিটি কলেজে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

রাজশাহীতে পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) আয়োজনে আগস্ট ২০২৬ মাসের পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে বিভিন্ন সরকারি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আরএমপির পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়।

সভায় আগস্ট মাসে রাজশাহী মহানগরীতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ, মামলা দায়ের ও তদন্তের অগ্রগতি, গুরুত্বপূর্ণ মামলার বর্তমান অবস্থা এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক, কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাই, যানজটসহ মহানগরবাসীর নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধ পর্যালোচনা সভা-এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা রাজশাহী মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। মহিলা চেম্বার অব কমার্স এবং হোপ ব্রিজ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা মহানগরীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ফেডারেশন অব এনজিও বাংলাদেশের প্রতিনিধি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট ও ব্যানার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এতে বোঝা যায়, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমকেও অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সমন্বয় সভা-এ মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উঠে আসে। অপরাধের ধরন ও প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

মামলার তদন্ত ও দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার মামলার তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় গতি আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সময়মতো মেডিকেল ও ফরেনসিক রিপোর্ট সংগ্রহ এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আলামত দ্রুত পাওয়ার মাধ্যমে মামলার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। লিফলেট ও ব্যানারের মাধ্যমে ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং যানজট কমাতে তা ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মত দেন।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেন। তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে গতি আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরএমপির সব থানা ও ইউনিটকে আন্তরিকতা, সততা, পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

পুলিশ কমিশনার সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত, কাঙ্ক্ষিত ও মানসম্মত পুলিশি সেবা পান, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের কার্যকর যোগাযোগ এবং সেবার মান বাড়ানোর বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সমন্বয় সভা-এর মতো নিয়মিত পর্যালোচনা ও সমন্বয়মূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) জনাব মো: ফারুক হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএম; উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) জনাব মো: গোলাম রব্বানী শেখ, পিপিএম (বার); উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) জনাব মাঈনুল ইসলাম, পিপিএম (বার); উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম) জনাব দীন মোহাম্মদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) জনাব মো: আবুল কালাম সাহিদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র জনাব মো: গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও সভায় র‌্যাব-৫, রাজশাহী; রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১ (বিজিবি); পিবিআই; সিআইডি; নৌ-পুলিশ; ট্যুরিস্ট পুলিশ; ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, সিআইডি, রাজশাহী; ইএমও, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ; রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহী; চেম্বার অব কমার্স (পুরুষ) ও মহিলা চেম্বার অব কমার্স, রাজশাহী; এনজিও’স ফেডারেশন; দিনের আলো হিজড়া সংঘ এবং হোপ ব্রিজ ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতি মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা, সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, এনজিও এবং সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। আগস্ট মাসের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিদ্যমান উদ্যোগগুলো আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত তদন্ত, জনসচেতনতা এবং আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে রাজশাহী মহানগরীর নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব বলে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরোও পড়ুন – পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস করি, প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস গড়ি: রাজশাহী সিটি কলেজে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

⇧