হাইমচরে কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযান, আটক ৪৮

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব, হাইমচর প্রতিনিধিঃ

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে একযোগে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৪৮ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযান পরিচালনার সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত কিশোর ও তরুণদের পরিচয় ও চলাফেরার বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা এবং নির্জন স্থানে আড্ডা দেওয়ার বিষয়টি নজরে আসায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযানের অংশ হিসেবে একযোগে কয়েকটি এলাকায় অবস্থান নিয়ে পুলিশ সদস্যরা সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করা কিশোর ও তরুণদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাদের নাম-পরিচয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কোথা থেকে এসেছেন—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা তৈরি হওয়ার আগেই তাদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকায় তাদের বিষয়ে বিশেষভাবে তথ্য যাচাই করা হয়। পুলিশ জানায়, অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও অভিযানের আওতায় আসেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী নির্জন স্থানে আড্ডা দেওয়া এবং স্কুল মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কারও বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পুলিশ এ প্রতিবেদনে জানায়নি। কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযানে আটক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাই যাচাই-বাছাই ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ও সন্ধ্যার পর বাইরে থাকার কারণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। পরে তাদের ভবিষ্যতে সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকা এবং সময়মতো বাড়িতে ফেরার বিষয়ে অঙ্গীকার করানো হয়। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানদের চলাফেরার বিষয়ে আরও নজরদারি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং কখন বাড়ি ফিরছে—এসব বিষয়ে খোঁজ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুলিশ বলছে, কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ানো হলে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, রাতের বেলা বাইরে থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটানোর প্রবণতা কমানো সম্ভব বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বিত ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারও মাদক সেবনের বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি যাচাই করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে কোনো ব্যক্তির মাদক সেবনের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে মাদকসেবী হিসেবে চিহ্নিত না করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

হাইমচর থানা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযান শুধু একটি দিনের কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কিশোর ও তরুণদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে থাকা, নির্জন স্থানে আড্ডা দেওয়া কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটানোর বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সচেতনতা ও পারিবারিক নজরদারিও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরোও পড়ুন – বন্যায় গৃহহারা ১০০ পরিবারের পাশে শামসুল হক ফাউন্ডেশন

হাইমচরে কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযান, আটক ৪৮

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব, হাইমচর প্রতিনিধিঃ

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে একযোগে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৪৮ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযান পরিচালনার সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত কিশোর ও তরুণদের পরিচয় ও চলাফেরার বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা এবং নির্জন স্থানে আড্ডা দেওয়ার বিষয়টি নজরে আসায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযানের অংশ হিসেবে একযোগে কয়েকটি এলাকায় অবস্থান নিয়ে পুলিশ সদস্যরা সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করা কিশোর ও তরুণদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাদের নাম-পরিচয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কোথা থেকে এসেছেন—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা তৈরি হওয়ার আগেই তাদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকায় তাদের বিষয়ে বিশেষভাবে তথ্য যাচাই করা হয়। পুলিশ জানায়, অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও অভিযানের আওতায় আসেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী নির্জন স্থানে আড্ডা দেওয়া এবং স্কুল মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কারও বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পুলিশ এ প্রতিবেদনে জানায়নি। কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযানে আটক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাই যাচাই-বাছাই ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ও সন্ধ্যার পর বাইরে থাকার কারণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। পরে তাদের ভবিষ্যতে সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকা এবং সময়মতো বাড়িতে ফেরার বিষয়ে অঙ্গীকার করানো হয়। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানদের চলাফেরার বিষয়ে আরও নজরদারি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং কখন বাড়ি ফিরছে—এসব বিষয়ে খোঁজ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুলিশ বলছে, কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ানো হলে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, রাতের বেলা বাইরে থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটানোর প্রবণতা কমানো সম্ভব বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বিত ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারও মাদক সেবনের বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি যাচাই করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে কোনো ব্যক্তির মাদক সেবনের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে মাদকসেবী হিসেবে চিহ্নিত না করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

হাইমচর থানা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযান শুধু একটি দিনের কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কিশোর ও তরুণদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে থাকা, নির্জন স্থানে আড্ডা দেওয়া কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটানোর বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সচেতনতা ও পারিবারিক নজরদারিও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরোও পড়ুন – বন্যায় গৃহহারা ১০০ পরিবারের পাশে শামসুল হক ফাউন্ডেশন

⇧