সাইফুল ইসলাম | কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার কয়রায় নাশকতার মামলায় ইউপি সদস্য ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান (৩৬) এবং মঠবাড়ী সিরাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রবিউল ইসলাম (৪৫)। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
কয়রায় নাশকতার মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. সহিদ হোসেন বাদী হয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৬ নেতার নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন। একই মামলায় আরও ১৬০ থেকে ১৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রাতে চাঁদআলী ব্রিজ এলাকা থেকে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান কহিনুর, মো. আজহারুল ইসলাম ও জহির উদ্দীন সরদারকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশিত হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর রাতে কয়রা উপজেলার চাঁদআলী ব্রিজ এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি জড়ো হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশন দখল, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তিরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগ মামলার এজাহারভুক্ত অভিযোগ; আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। একই মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্নও উঠে এসেছে।
কয়রায় নাশকতার মামলা দায়েরের পর পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান কয়েক ধাপে এগিয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়। ওই তিনজন হলেন আমাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মজিদ গাজী (৬৪), মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হামীদ গাজী (৬৫) এবং সুলীল কুমার বৈরাগী (৫৯)। তাদের ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঠানো হয়। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে মোস্তাফিজুর রহমান ও রবিউল ইসলাম গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলাটিতে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা আটজনে দাঁড়িয়েছে বলে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এদিকে মামলার বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আগে প্রশ্ন উঠেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, কয়রা উপজেলার কোনো ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি নেই। তিনি বলেন, কেউ যদি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়ে মামলা করে থাকেন, তাহলে দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে মামলার অভিযোগের পাশাপাশি বাদীর পরিচয় ও রাজনৈতিক সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে কী ধরনের আইনগত কার্যক্রম হবে, তা পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
কয়রায় নাশকতার মামলা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল আলম জানিয়েছেন, রোববার রাতে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় এ পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখ করা ৩৬ জনের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ১৬০ থেকে ১৭০ জন হওয়ায় তদন্তের পরিধিও বড়। এখন তদন্তে অভিযোগের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা, মামলার অন্যান্য আসামিদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা হবে।
আরোও পড়ুন – অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: উত্তরবঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় লালমনিরহাটেও সতর্কতা
কয়রায় নাশকতার মামলায় ইউপি সদস্য ও নৈশ প্রহরী গ্রেপ্তার
সাইফুল ইসলাম | কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার কয়রায় নাশকতার মামলায় ইউপি সদস্য ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান (৩৬) এবং মঠবাড়ী সিরাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রবিউল ইসলাম (৪৫)। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
কয়রায় নাশকতার মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. সহিদ হোসেন বাদী হয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৬ নেতার নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন। একই মামলায় আরও ১৬০ থেকে ১৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রাতে চাঁদআলী ব্রিজ এলাকা থেকে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান কহিনুর, মো. আজহারুল ইসলাম ও জহির উদ্দীন সরদারকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশিত হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর রাতে কয়রা উপজেলার চাঁদআলী ব্রিজ এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি জড়ো হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশন দখল, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তিরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগ মামলার এজাহারভুক্ত অভিযোগ; আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। একই মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্নও উঠে এসেছে।
কয়রায় নাশকতার মামলা দায়েরের পর পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান কয়েক ধাপে এগিয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়। ওই তিনজন হলেন আমাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মজিদ গাজী (৬৪), মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হামীদ গাজী (৬৫) এবং সুলীল কুমার বৈরাগী (৫৯)। তাদের ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঠানো হয়। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে মোস্তাফিজুর রহমান ও রবিউল ইসলাম গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলাটিতে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা আটজনে দাঁড়িয়েছে বলে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এদিকে মামলার বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আগে প্রশ্ন উঠেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, কয়রা উপজেলার কোনো ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি নেই। তিনি বলেন, কেউ যদি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়ে মামলা করে থাকেন, তাহলে দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে মামলার অভিযোগের পাশাপাশি বাদীর পরিচয় ও রাজনৈতিক সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে কী ধরনের আইনগত কার্যক্রম হবে, তা পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
কয়রায় নাশকতার মামলা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল আলম জানিয়েছেন, রোববার রাতে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় এ পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখ করা ৩৬ জনের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ১৬০ থেকে ১৭০ জন হওয়ায় তদন্তের পরিধিও বড়। এখন তদন্তে অভিযোগের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা, মামলার অন্যান্য আসামিদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা হবে।
আরোও পড়ুন – অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: উত্তরবঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় লালমনিরহাটেও সতর্কতা