মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ

আসিফ ইকবাল খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

কিশোরগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের নবীন সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা শহরে এ কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি থেকে তাঁর মুক্তির দাবি জানানো হয়। মিছিল ও সমাবেশে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্যে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়গুলো উঠে আসে। তবে গ্রেপ্তারের কারণ ও মামলার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

জেলা জামায়াতের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলটি শনিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের কাচারী বাজার মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান এবং তাঁর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের দলের নেতার গ্রেপ্তারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে মিছিলে কতজন অংশ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

সমাবেশে কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মো. রমজান আলী, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, নায়েবে আমির আজিজুল হক এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান এবং তাঁর মুক্তির দাবি তোলেন। তাঁদের বক্তব্যে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মান, ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। তবে উপস্থিত নেতাদের প্রত্যেকের পৃথক বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পর মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করা গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তারা আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং নাগরিক সেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে এসব বক্তব্য সমাবেশে অংশ নেওয়া জামায়াত নেতাদের দাবি। গ্রেপ্তারের পেছনে এসব বক্তব্যই কারণ ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংক্রান্ত একটি মামলায় মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলায় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দেওয়া, একজন নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ মামলার অংশ; আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মামলার এজাহার, গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং আদালতের আদেশ পাওয়া গেলে অভিযোগ ও আইনি অবস্থান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে জামায়াতের এই কর্মসূচির আগে শুক্রবার রাতে জেলার কটিয়াদীতেও বিক্ষোভ মিছিল করে দলটি। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। কিশোরগঞ্জ শহরের কর্মসূচিতে বক্তারা তাঁর মুক্তির দাবি জানান এবং বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসাধারণের প্রশ্ন তোলার বিষয়টি সামনে আনেন। অন্যদিকে, মামলায় উল্লিখিত হুমকি, মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ জানা গেলে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

আরোও পড়ুন – সংস্কার ও সুশাসনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলন

মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ

অক্টোবর ৪, ২০২৬

আসিফ ইকবাল খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

কিশোরগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের নবীন সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা শহরে এ কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি থেকে তাঁর মুক্তির দাবি জানানো হয়। মিছিল ও সমাবেশে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্যে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়গুলো উঠে আসে। তবে গ্রেপ্তারের কারণ ও মামলার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

জেলা জামায়াতের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলটি শনিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের কাচারী বাজার মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান এবং তাঁর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের দলের নেতার গ্রেপ্তারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে মিছিলে কতজন অংশ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

সমাবেশে কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মো. রমজান আলী, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, নায়েবে আমির আজিজুল হক এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান এবং তাঁর মুক্তির দাবি তোলেন। তাঁদের বক্তব্যে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মান, ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। তবে উপস্থিত নেতাদের প্রত্যেকের পৃথক বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পর মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করা গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তারা আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং নাগরিক সেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে এসব বক্তব্য সমাবেশে অংশ নেওয়া জামায়াত নেতাদের দাবি। গ্রেপ্তারের পেছনে এসব বক্তব্যই কারণ ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংক্রান্ত একটি মামলায় মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলায় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দেওয়া, একজন নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ মামলার অংশ; আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মামলার এজাহার, গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং আদালতের আদেশ পাওয়া গেলে অভিযোগ ও আইনি অবস্থান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে জামায়াতের এই কর্মসূচির আগে শুক্রবার রাতে জেলার কটিয়াদীতেও বিক্ষোভ মিছিল করে দলটি। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। কিশোরগঞ্জ শহরের কর্মসূচিতে বক্তারা তাঁর মুক্তির দাবি জানান এবং বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসাধারণের প্রশ্ন তোলার বিষয়টি সামনে আনেন। অন্যদিকে, মামলায় উল্লিখিত হুমকি, মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ জানা গেলে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

আরোও পড়ুন – সংস্কার ও সুশাসনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলন

⇧