সেলিম মাহবুবঃ
ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বর্তমানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, লুটপাট ও মিথ্যা মামলার ছত্রছায়ায় ভুগছে। দোকানপাটে হামলা, গবাদিপশু ছিনতাই এবং ফসলের লুটপাটের প্রতিবাদে স্থানীয় গ্রামবাসীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের ভয় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব সোনাপুর গ্রামের খেলার মাঠে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভার পর বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের লুভিয়া গ্রাম এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের হাবিব নগর, পূর্ব সোনাপুর, পুরান বস্তি, সারপিন পাড়া ও উত্তর সোনাপুর গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ছাতক উপজেলার ইছামতি বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত মানিক মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর প্রতিশোধমূলক হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। বনগাঁও এবং দারোগাখালী এলাকার কিছু সংগঠিত চক্র গ্রামবাসীর উপর পরিকল্পিত হামলা, লুটপাট ও হুমকি চালাচ্ছে।
গ্রামবাসীরা জানান, উক্ত চক্রগুলি রাতের অন্ধকারে এবং দিনের বেলায় কৃষকদের পাকা ধান কেটে নেয়, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করে, আমদানিকৃত চুনাপাথর ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গবাদিপশু লুট করে। অনেক পরিবার এখনও আতঙ্কের কারণে নিজেদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে বসবাস করছে।
তাদের বক্তব্য, গত ৩০ অক্টোবর ইছামতী এলাকায় ঘটানো অনাকাঙ্খিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন অন্তত অর্ধশতাধিক নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মামলা ও হামলার ভয়ে ইছামতি বাজারে দোকান খুলতে সাহস পাচ্ছেন না, ফলে সীমান্ত এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত বন্ধের পথে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একাধিক গুরুতর ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনিক উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ধন মিয়া বলেন, “যাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার।” ব্যবসায়ী সৈয়দ জামান নিপু বলেন, চুনাপাথর ব্যবসায়ীদের এলসি স্টেশন ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যবসায়ী ও সরকারের রাজস্ব উভয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে সীমান্ত এলাকার শ্রমিকরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন জানান, লুটপাট ও ভাঙচুরে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার না হলে সীমান্ত এলাকার সহিংসতা বন্ধ হবে না।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী নওসাদ জামিল, এস জামান নিপু, আব্দুল মন্নান, মোবারক হুসেন, আব্দুল খালিক মানিক, জামাল হুসেন, সফিকুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, মুক্তার হুসেন, জয়নাল আবেদীন, নুরুল ইসলাম, মকবুল হুসেন ও মোহাম্মদ আলী।
সীমান্ত এলাকা ছাতক-দোয়ারাবাজারের এই মানববন্ধন প্রমাণ করে যে স্থানীয় মানুষদের জন্য নিরাপত্তা ও প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ এখন সময়ের প্রধান দাবি। নিরাপত্তাহীনতা, লুটপাট এবং মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে গ্রামবাসী একযোগে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
সীমান্ত এলাকা ছাতক-দোয়ারাবাজার: লুটপাট ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ
সেলিম মাহবুবঃ
ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বর্তমানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, লুটপাট ও মিথ্যা মামলার ছত্রছায়ায় ভুগছে। দোকানপাটে হামলা, গবাদিপশু ছিনতাই এবং ফসলের লুটপাটের প্রতিবাদে স্থানীয় গ্রামবাসীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের ভয় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব সোনাপুর গ্রামের খেলার মাঠে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভার পর বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের লুভিয়া গ্রাম এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের হাবিব নগর, পূর্ব সোনাপুর, পুরান বস্তি, সারপিন পাড়া ও উত্তর সোনাপুর গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ছাতক উপজেলার ইছামতি বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত মানিক মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর প্রতিশোধমূলক হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। বনগাঁও এবং দারোগাখালী এলাকার কিছু সংগঠিত চক্র গ্রামবাসীর উপর পরিকল্পিত হামলা, লুটপাট ও হুমকি চালাচ্ছে।
গ্রামবাসীরা জানান, উক্ত চক্রগুলি রাতের অন্ধকারে এবং দিনের বেলায় কৃষকদের পাকা ধান কেটে নেয়, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করে, আমদানিকৃত চুনাপাথর ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গবাদিপশু লুট করে। অনেক পরিবার এখনও আতঙ্কের কারণে নিজেদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে বসবাস করছে।
তাদের বক্তব্য, গত ৩০ অক্টোবর ইছামতী এলাকায় ঘটানো অনাকাঙ্খিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন অন্তত অর্ধশতাধিক নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মামলা ও হামলার ভয়ে ইছামতি বাজারে দোকান খুলতে সাহস পাচ্ছেন না, ফলে সীমান্ত এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত বন্ধের পথে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একাধিক গুরুতর ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনিক উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ধন মিয়া বলেন, “যাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার।” ব্যবসায়ী সৈয়দ জামান নিপু বলেন, চুনাপাথর ব্যবসায়ীদের এলসি স্টেশন ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যবসায়ী ও সরকারের রাজস্ব উভয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে সীমান্ত এলাকার শ্রমিকরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন জানান, লুটপাট ও ভাঙচুরে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার না হলে সীমান্ত এলাকার সহিংসতা বন্ধ হবে না।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী নওসাদ জামিল, এস জামান নিপু, আব্দুল মন্নান, মোবারক হুসেন, আব্দুল খালিক মানিক, জামাল হুসেন, সফিকুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, মুক্তার হুসেন, জয়নাল আবেদীন, নুরুল ইসলাম, মকবুল হুসেন ও মোহাম্মদ আলী।
সীমান্ত এলাকা ছাতক-দোয়ারাবাজারের এই মানববন্ধন প্রমাণ করে যে স্থানীয় মানুষদের জন্য নিরাপত্তা ও প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ এখন সময়ের প্রধান দাবি। নিরাপত্তাহীনতা, লুটপাট এবং মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে গ্রামবাসী একযোগে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।