ফাইতংয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৩ মামলায় ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

৩২

সাদ্দাম হোসেন সাইফ, লামা (বান্দরবান)

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধভাবে পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। সোমবার (৫ অক্টোবর) ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে পরিচালিত অভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ১৩ জনকে মোট ২৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এ অভিযানে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন, পাহাড় কেটে ভূমির স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তন এবং ইটভাটায় মাটি সরবরাহের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১)(৫) ধারায় ১২টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ১২ জনকে মোট ২৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে অনুমোদনহীনভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিবেশগত ক্ষতি এবং ভূমির ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়গুলোও অভিযানের সময় গুরুত্ব পায়।

অন্যদিকে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে আরও একটি মামলা করা হয় এবং একজনকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১)(৫) ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ১৫ ধারা প্রয়োগ করা হয়। ফলে দুই অভিযানে সব মিলিয়ে ১৩টি মামলায় ১৩ জনকে মোট ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটায় মাটি সরবরাহের জন্য পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় বড় এক্সকাভেটর ব্যবহার করে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশ কেটে মাটি উত্তোলন করা হয়। পরে ট্রাক, ডাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে এসব মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পাহাড়ের গঠনেও পরিবর্তন আসছে। স্থানীয়দের মতে, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাহাড় কেটে মাটি উত্তোলনের ফলে ভূমির স্বাভাবিক স্তর ও ঢাল পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে কাটা অংশ দিয়ে পানি দ্রুত নিচের দিকে প্রবাহিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফলে মাটিক্ষয়, ভূমিধস কিংবা নিচু এলাকার জমিতে মাটি জমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। একইভাবে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি সরিয়ে নেওয়া হলে কৃষি উৎপাদনেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শুধু জরিমানা নয়, মাটি কাটার মূল উৎস চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান পার্বত্য জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন ও সহকারী পরিচালক নুরুল হাসান সজিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বিত উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি ও মাঠপর্যায়ে অভিযান অব্যাহত থাকলে পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে অনুমোদনহীন মাটি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন। তিনি জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে পরিচালিত ইটভাটা এবং পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও ভবিষ্যতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, শুধু মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বিষয়টিও প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

একদিনে পরিচালিত এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান-এ ১৩টি মামলা, ১৩ জনকে অর্থদণ্ড এবং মোট ২৯ লাখ টাকা জরিমানার ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, একটি দিনের অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাটি কাটার স্থান, মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন এবং যেসব ইটভাটায় এসব মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে—সবকিছুর ওপর ধারাবাহিক নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আরও দাবি, পাহাড় ও কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। ফাইতংয়ের পাহাড়, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে পরিবেশ রক্ষার এ উদ্যোগ কার্যকর রাখতে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

আরোও পড়ুন – লামায় ‘ফ্যাসিস্ট মুক্ত প্রেসক্লাব’ গঠনের দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণা

ফাইতংয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৩ মামলায় ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

অক্টোবর ৫, ২০২৬
৩২

সাদ্দাম হোসেন সাইফ, লামা (বান্দরবান)

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধভাবে পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। সোমবার (৫ অক্টোবর) ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে পরিচালিত অভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ১৩ জনকে মোট ২৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এ অভিযানে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন, পাহাড় কেটে ভূমির স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তন এবং ইটভাটায় মাটি সরবরাহের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১)(৫) ধারায় ১২টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ১২ জনকে মোট ২৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে অনুমোদনহীনভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিবেশগত ক্ষতি এবং ভূমির ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়গুলোও অভিযানের সময় গুরুত্ব পায়।

অন্যদিকে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে আরও একটি মামলা করা হয় এবং একজনকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১)(৫) ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ১৫ ধারা প্রয়োগ করা হয়। ফলে দুই অভিযানে সব মিলিয়ে ১৩টি মামলায় ১৩ জনকে মোট ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটায় মাটি সরবরাহের জন্য পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় বড় এক্সকাভেটর ব্যবহার করে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশ কেটে মাটি উত্তোলন করা হয়। পরে ট্রাক, ডাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে এসব মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পাহাড়ের গঠনেও পরিবর্তন আসছে। স্থানীয়দের মতে, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাহাড় কেটে মাটি উত্তোলনের ফলে ভূমির স্বাভাবিক স্তর ও ঢাল পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে কাটা অংশ দিয়ে পানি দ্রুত নিচের দিকে প্রবাহিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফলে মাটিক্ষয়, ভূমিধস কিংবা নিচু এলাকার জমিতে মাটি জমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। একইভাবে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি সরিয়ে নেওয়া হলে কৃষি উৎপাদনেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শুধু জরিমানা নয়, মাটি কাটার মূল উৎস চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান পার্বত্য জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন ও সহকারী পরিচালক নুরুল হাসান সজিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বিত উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি ও মাঠপর্যায়ে অভিযান অব্যাহত থাকলে পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে অনুমোদনহীন মাটি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন। তিনি জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে পরিচালিত ইটভাটা এবং পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও ভবিষ্যতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, শুধু মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বিষয়টিও প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

একদিনে পরিচালিত এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান-এ ১৩টি মামলা, ১৩ জনকে অর্থদণ্ড এবং মোট ২৯ লাখ টাকা জরিমানার ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, একটি দিনের অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাটি কাটার স্থান, মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন এবং যেসব ইটভাটায় এসব মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে—সবকিছুর ওপর ধারাবাহিক নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আরও দাবি, পাহাড় ও কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। ফাইতংয়ের পাহাড়, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে পরিবেশ রক্ষার এ উদ্যোগ কার্যকর রাখতে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

আরোও পড়ুন – লামায় ‘ফ্যাসিস্ট মুক্ত প্রেসক্লাব’ গঠনের দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণা

⇧