নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: মোঃ ইলিয়াস কাঞ্চন (সুমন)
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাচে মোট ৭১ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন বরিশাল বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (উপসচিব) শাহ মোঃ রফিকুল ইসলাম। সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরে উপযুক্ত পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচে ৩৫ জন এবং তৃতীয় ব্যাচে ৩৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ নুরুল হুদা এবং নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুণ্ডু। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন নলছিটি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান পলাশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর নলছিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং রানাপাশা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকার পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালিত হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
সরকারের এ বিশেষ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার একটি নির্ভুল ও সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি করা। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আর্থিক সামর্থ্য, সামাজিক অবস্থা এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কোন পরিবার কী ধরনের আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও সহায়তার উপযুক্ত পরিবারগুলোকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্যভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ সময় পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হবে। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে তথ্য সংরক্ষণ ও পরবর্তী সময়ে তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুবিধা পাওয়া যাবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা যথাযথভাবে তুলে ধরা কঠিন হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও তালিকাভুক্তির বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতন থাকাও প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহ বা তালিকাভুক্তির জন্য কোনো ধরনের অর্থ কিংবা ফি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই এ কার্যক্রমের নামে কেউ অর্থ দাবি করলে তা থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিবারের সঠিক তথ্য প্রদান করা জরুরি। তথ্য সংগ্রহকারীদেরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিটি পরিবারের তথ্য যাচাই করে লিপিবদ্ধ করতে হবে, যাতে তথ্যভান্ডারে যথাসম্ভব নির্ভুল উপাত্ত সংরক্ষিত হয়। এতে সরকারি সহায়তা পাওয়ার উপযুক্ত পরিবার চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্বিতীয় পর্যায়ের এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারীদের কাজের দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়ায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ, সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের নির্ভুলতা এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত দায়িত্ব পালন গুরুত্বপূর্ণ। নলছিটিতে চলমান প্রশিক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরোও পড়ুন – নলছিটিতে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ
নলছিটিতে ফ্যামিলি কার্ডের দ্বিতীয় ধাপের প্রশিক্ষণ শুরু, পরিদর্শনে বিভাগীয় পরিচালক
নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: মোঃ ইলিয়াস কাঞ্চন (সুমন)
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাচে মোট ৭১ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন বরিশাল বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (উপসচিব) শাহ মোঃ রফিকুল ইসলাম। সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরে উপযুক্ত পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচে ৩৫ জন এবং তৃতীয় ব্যাচে ৩৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ নুরুল হুদা এবং নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুণ্ডু। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন নলছিটি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান পলাশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর নলছিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং রানাপাশা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকার পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালিত হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
সরকারের এ বিশেষ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার একটি নির্ভুল ও সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি করা। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আর্থিক সামর্থ্য, সামাজিক অবস্থা এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কোন পরিবার কী ধরনের আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও সহায়তার উপযুক্ত পরিবারগুলোকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্যভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ সময় পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হবে। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে তথ্য সংরক্ষণ ও পরবর্তী সময়ে তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুবিধা পাওয়া যাবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা যথাযথভাবে তুলে ধরা কঠিন হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও তালিকাভুক্তির বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতন থাকাও প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহ বা তালিকাভুক্তির জন্য কোনো ধরনের অর্থ কিংবা ফি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই এ কার্যক্রমের নামে কেউ অর্থ দাবি করলে তা থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিবারের সঠিক তথ্য প্রদান করা জরুরি। তথ্য সংগ্রহকারীদেরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিটি পরিবারের তথ্য যাচাই করে লিপিবদ্ধ করতে হবে, যাতে তথ্যভান্ডারে যথাসম্ভব নির্ভুল উপাত্ত সংরক্ষিত হয়। এতে সরকারি সহায়তা পাওয়ার উপযুক্ত পরিবার চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্বিতীয় পর্যায়ের এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারীদের কাজের দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়ায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ, সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের নির্ভুলতা এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত দায়িত্ব পালন গুরুত্বপূর্ণ। নলছিটিতে চলমান প্রশিক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরোও পড়ুন – নলছিটিতে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ