শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে আঘাত করার উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ুকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার এবং প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলের সংবাদ প্রকাশের পর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত একটি অভ্যন্তরীণ সভায় সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে ‘ঠ্যাং ভাঙার’ মতো হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বহুল প্রচারিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ুর বহিষ্কারের খবর প্রকাশ করা হয়। সংবাদটির প্রতিবেদক হিসেবে দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক ও জেলা প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আয়োজিত অভ্যন্তরীণ সভায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং শারীরিকভাবে আঘাত করার উসকানিমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সভায় দেওয়া বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, কোনো রেকর্ডিং কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এই প্রতিবেদকের হাতে নেই।
সূত্রগুলোর দাবি, সভার শুরুতে হলরুমে প্রবেশের পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের মুঠোফোন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সভায় মহিউদ্দিন ঝাড়ুকে নিয়ে বিভিন্ন স্মৃতিচারণের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও জেলা যুবদলের সহসভাপতি নিয়ামুল হক তরফদারকে নিয়েও আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সভায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
একটি সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকি দেওয়া হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংবাদমাধ্যমের কাজ হচ্ছে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনগণের সামনে তুলে ধরা। কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদলিপি, তথ্য-প্রমাণ কিংবা আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিশেষ করে একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে বিষয়টি আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে সংসদ সদস্যের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা এবং দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রতিবাদকারীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের যথাযথ জবাব না পাওয়া গেলে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটসংক্রান্ত অভিযোগ জনস্বার্থে তথ্য-প্রমাণসহ অনুসন্ধান করে প্রকাশ করা হবে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ ছাড়া কোনো অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, সভায় উপস্থিত থাকার কথা বলা হলেও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর এই অবস্থানকে ঘিরেও সাংবাদিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছে, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নে প্রেসক্লাবের নেতৃত্বের আরও সক্রিয় ও স্পষ্ট ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকি বা হয়রানির অভিযোগ উঠলে সেটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা এবং পেশাগত ঐক্য বজায় রাখা সাংবাদিক সংগঠনের দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা পক্ষপাতমূলক অবস্থান নেওয়া থেকেও বিরত থাকা জরুরি।
সাংবাদিকতা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার পেশা নয়; বরং তথ্য, সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তার জবাব দেওয়ার সুযোগ সবার রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তা শুধু একজন সংবাদকর্মীর জন্য নয়, সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তাই মৌলভীবাজারের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য এবং প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলাম এবং শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সংশ্লিষ্ট নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল। স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকি সৃষ্টি করে এমন যেকোনো পরিস্থিতির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরোও পড়ুন – সিলেট সীমান্তে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ
মৌলভীবাজারে সংসদ সদস্যের মন্তব্য, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকির অভিযোগ
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে আঘাত করার উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ুকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার এবং প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলের সংবাদ প্রকাশের পর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত একটি অভ্যন্তরীণ সভায় সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে ‘ঠ্যাং ভাঙার’ মতো হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বহুল প্রচারিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ুর বহিষ্কারের খবর প্রকাশ করা হয়। সংবাদটির প্রতিবেদক হিসেবে দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক ও জেলা প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আয়োজিত অভ্যন্তরীণ সভায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং শারীরিকভাবে আঘাত করার উসকানিমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সভায় দেওয়া বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, কোনো রেকর্ডিং কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এই প্রতিবেদকের হাতে নেই।
সূত্রগুলোর দাবি, সভার শুরুতে হলরুমে প্রবেশের পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের মুঠোফোন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সভায় মহিউদ্দিন ঝাড়ুকে নিয়ে বিভিন্ন স্মৃতিচারণের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও জেলা যুবদলের সহসভাপতি নিয়ামুল হক তরফদারকে নিয়েও আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সভায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
একটি সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকি দেওয়া হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংবাদমাধ্যমের কাজ হচ্ছে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনগণের সামনে তুলে ধরা। কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদলিপি, তথ্য-প্রমাণ কিংবা আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিশেষ করে একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে বিষয়টি আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে সংসদ সদস্যের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা এবং দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রতিবাদকারীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের যথাযথ জবাব না পাওয়া গেলে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটসংক্রান্ত অভিযোগ জনস্বার্থে তথ্য-প্রমাণসহ অনুসন্ধান করে প্রকাশ করা হবে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ ছাড়া কোনো অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, সভায় উপস্থিত থাকার কথা বলা হলেও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর এই অবস্থানকে ঘিরেও সাংবাদিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছে, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নে প্রেসক্লাবের নেতৃত্বের আরও সক্রিয় ও স্পষ্ট ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকি বা হয়রানির অভিযোগ উঠলে সেটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা এবং পেশাগত ঐক্য বজায় রাখা সাংবাদিক সংগঠনের দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা পক্ষপাতমূলক অবস্থান নেওয়া থেকেও বিরত থাকা জরুরি।
সাংবাদিকতা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার পেশা নয়; বরং তথ্য, সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তার জবাব দেওয়ার সুযোগ সবার রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তা শুধু একজন সংবাদকর্মীর জন্য নয়, সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তাই মৌলভীবাজারের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য এবং প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলাম এবং শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সংশ্লিষ্ট নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল। স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকি সৃষ্টি করে এমন যেকোনো পরিস্থিতির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরোও পড়ুন – সিলেট সীমান্তে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ