সোহরাব হোসেন শিমুল, লালমনিরহাট
লালমনিরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আপনপাড়া ও উচাটাড়ী এলাকায় লালমনিরহাট চুরি পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতা এবং উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরচক্র। জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ, পানির মোটর চুরি, অটোরিকশার ব্যাটারি খুলে নেওয়া, গবাদিপশু চুরি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানার মতো একাধিক ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছেন না। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকায় অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা চোখে পড়ে। গভীর রাতে বিভিন্ন অলিগলি ও নির্জন স্থানে তাদের চলাচল বাড়ে। কয়েকটি পরিবারের দাবি, বাড়ির আশপাশে অচেনা লোকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখলেও যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে লালমনিরহাট চুরি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ দুই-ই বাড়ছে। অনেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ির সামনে অতিরিক্ত আলো লাগিয়েছেন, আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সিসিটিভি স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ছোট-বড় মিলিয়ে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিছু ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত পুলিশ টহল এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি জোরদার করা হলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা সড়কবাতিগুলো দ্রুত সচল করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। কারণ অন্ধকারাচ্ছন্ন সড়ক ও গলিগুলো চোরদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এলাকার অনেক পুরুষ বাসিন্দা পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। কয়েকটি মহল্লায় স্বেচ্ছাসেবীভাবে নৈশ পাহারার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, লালমনিরহাট চুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতাও বাড়াতে হবে। প্রতিবেশীদের মধ্যে সমন্বয়, সন্দেহজনক চলাফেরা সম্পর্কে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জরুরি প্রয়োজনে পুলিশকে অবহিত করার মতো উদ্যোগ অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতের অন্ধকারে চোরেরা সহজেই পালিয়ে যাচ্ছে। অনেক স্ট্রিট লাইট দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকলেও সেগুলো মেরামতে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বাসিন্দারা দ্রুত লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের টহল বৃদ্ধি, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি জোরদার, অচল স্ট্রিট লাইট মেরামত এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের সমন্বয়ে স্থায়ী নৈশ পাহারা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে লালমনিরহাট চুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ, ক্ষোভে সাধারণ মানুষ
লালমনিরহাট চুরি আতঙ্ক: পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন বাসিন্দারা
সোহরাব হোসেন শিমুল, লালমনিরহাট
লালমনিরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আপনপাড়া ও উচাটাড়ী এলাকায় লালমনিরহাট চুরি পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতা এবং উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরচক্র। জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ, পানির মোটর চুরি, অটোরিকশার ব্যাটারি খুলে নেওয়া, গবাদিপশু চুরি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানার মতো একাধিক ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছেন না। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকায় অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা চোখে পড়ে। গভীর রাতে বিভিন্ন অলিগলি ও নির্জন স্থানে তাদের চলাচল বাড়ে। কয়েকটি পরিবারের দাবি, বাড়ির আশপাশে অচেনা লোকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখলেও যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে লালমনিরহাট চুরি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ দুই-ই বাড়ছে। অনেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ির সামনে অতিরিক্ত আলো লাগিয়েছেন, আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সিসিটিভি স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ছোট-বড় মিলিয়ে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিছু ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত পুলিশ টহল এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি জোরদার করা হলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা সড়কবাতিগুলো দ্রুত সচল করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। কারণ অন্ধকারাচ্ছন্ন সড়ক ও গলিগুলো চোরদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এলাকার অনেক পুরুষ বাসিন্দা পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। কয়েকটি মহল্লায় স্বেচ্ছাসেবীভাবে নৈশ পাহারার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, লালমনিরহাট চুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতাও বাড়াতে হবে। প্রতিবেশীদের মধ্যে সমন্বয়, সন্দেহজনক চলাফেরা সম্পর্কে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জরুরি প্রয়োজনে পুলিশকে অবহিত করার মতো উদ্যোগ অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতের অন্ধকারে চোরেরা সহজেই পালিয়ে যাচ্ছে। অনেক স্ট্রিট লাইট দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকলেও সেগুলো মেরামতে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বাসিন্দারা দ্রুত লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের টহল বৃদ্ধি, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি জোরদার, অচল স্ট্রিট লাইট মেরামত এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের সমন্বয়ে স্থায়ী নৈশ পাহারা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে লালমনিরহাট চুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ, ক্ষোভে সাধারণ মানুষ