জামিরুল হক সুজন
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট শহরের তিনদিঘী এলাকায় আব্দুল জলিল হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন ও শুনানি শেষে জলিলের স্ত্রী মমিনা বেগম এবং তার পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেছেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার দুপুরে লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মতে, উপস্থাপিত সব প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জলিলকে হত্যা করা হয়েছিল।
দণ্ডপ্রাপ্ত মমিনা বেগম লালমনিরহাট সদর উপজেলার মাঝাপাড়া এলাকার বাসিন্দা, আর তার প্রেমিক গোলাম রব্বানী কিসমত ঢংগাছ এলাকার রমজান মুন্সির ছেলে। মামলার নথিতে জানা যায়, ২০২১ সালের ২১ জুলাই রাতে পরকীয়ার সম্পর্ক ধরে রাখতে জলিলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরদিন নিহতের ভাই আব্দুর রশিদ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্ত শুরু হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মাহমুদুন নবী ঘটনাটির ধারাবাহিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মোট ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপন করা হয়, যা বিচারককে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, পদ্ধতি ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, চার বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়েছে যে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জলিলকে নিশ্চুপ করার পর বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। আদালত সেই অনুযায়ী কঠোর সাজা প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর নিহতের ভাই আব্দুর রশিদ বলেন, পরিকল্পিত এই হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি হলেও তাদের কিছুটা সান্ত্বনা মিলত। তবে আদালতের রায়কে তিনি ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে অভিহিত করেন।
এই মামলার রায় লালমনিরহাটজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে সংঘটিত ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক অবক্ষয়ের একটি বেদনাদায়ক উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পরকীয়ার সম্পর্ক টিকাতে স্বামীকে হত্যা—স্ত্রী ও সহযোগীর আজীবন কারাদণ্ড ঘোষিত
জামিরুল হক সুজন
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট শহরের তিনদিঘী এলাকায় আব্দুল জলিল হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন ও শুনানি শেষে জলিলের স্ত্রী মমিনা বেগম এবং তার পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেছেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার দুপুরে লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মতে, উপস্থাপিত সব প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জলিলকে হত্যা করা হয়েছিল।
দণ্ডপ্রাপ্ত মমিনা বেগম লালমনিরহাট সদর উপজেলার মাঝাপাড়া এলাকার বাসিন্দা, আর তার প্রেমিক গোলাম রব্বানী কিসমত ঢংগাছ এলাকার রমজান মুন্সির ছেলে। মামলার নথিতে জানা যায়, ২০২১ সালের ২১ জুলাই রাতে পরকীয়ার সম্পর্ক ধরে রাখতে জলিলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরদিন নিহতের ভাই আব্দুর রশিদ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্ত শুরু হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মাহমুদুন নবী ঘটনাটির ধারাবাহিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মোট ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপন করা হয়, যা বিচারককে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, পদ্ধতি ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, চার বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়েছে যে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জলিলকে নিশ্চুপ করার পর বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। আদালত সেই অনুযায়ী কঠোর সাজা প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর নিহতের ভাই আব্দুর রশিদ বলেন, পরিকল্পিত এই হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি হলেও তাদের কিছুটা সান্ত্বনা মিলত। তবে আদালতের রায়কে তিনি ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে অভিহিত করেন।
এই মামলার রায় লালমনিরহাটজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে সংঘটিত ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক অবক্ষয়ের একটি বেদনাদায়ক উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।