মাভাবিপ্রবিতে সাংবাদিকের হারানো মানিব্যাগ উদ্ধার, সিসিটিভি ফুটেজে ছাত্রদল নেতার সম্পৃক্ততা

মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি সংবাদদাতাঃ

মাভাবিপ্রবিতে সাংবাদিকের হারানো মানিব্যাগ উদ্ধারের ঘটনায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া! মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একজন সাংবাদিকের হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দেওয়া এই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে উঠে এসেছে এক ছাত্রনেতার ভূমিকা, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত অসততা নয়, বরং ছাত্ররাজনীতিতে দায়িত্বশীলতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে মানিব্যাগ হারানোর ঘটনা

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৫ জানুয়ারি শনিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল জননেতা আব্দুল মান্নান হলের ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত পকেট থেকে পড়ে যায় সাংবাদিক সুজন চন্দ্র দাশের মানিব্যাগ। তিনি দৈনিক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। খাবার শেষে বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ডাইনিং এলাকা ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে মানিব্যাগটির কোনো সন্ধান মেলেনি।মাভাবিপ্রবিতে সাংবাদিকের হারানো মানিব্যাগ উদ্ধারের ঘটনা

ঘটনার সময় ডাইনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আখিল আহমেদসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। মানিব্যাগ হারানোর কথা জানালে তিনি তা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে তখনই কোনো সমাধান না হওয়ায় সাংবাদিক সুজন দাশ বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

পরবর্তীতে ২৭ জানুয়ারি সোমবার হল প্রশাসনের সহযোগিতায় ডাইনিং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, সাংবাদিকের পড়ে যাওয়া মানিব্যাগটি একজন শিক্ষার্থী তুলে নিচ্ছেন, যিনি পরে শনাক্ত হন ছাত্রদল নেতা মো. আখিল আহমেদ হিসেবে। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ফুটেজ প্রকাশের পর চাপের মুখে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মানিব্যাগটি ফেরত দিতে বাধ্য হন। পরে তিনি নিজেও মানিব্যাগটি কুড়িয়ে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ঘটনার সময় সরাসরি অস্বীকার করার কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এই অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, একজন দায়িত্বশীল ছাত্রনেতার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ঘটনার পর রসায়ন বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একটি লিখিত বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার কোনোভাবেই রসায়ন বিভাগের দশম ব্যাচ বহন করবে না। সর্বসম্মতিক্রমে তারা তাকে ব্যাচ থেকে প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ভবিষ্যতে তার কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্যাচের সম্পৃক্ততা থাকবে না বলেও জানানো হয়।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, ক্যাম্পাসে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। সিসিটিভি ফুটেজ না থাকলে হয়তো সত্যটি কখনোই সামনে আসত না—এমন মন্তব্যও করছেন অনেক শিক্ষার্থী।

মাভাবিপ্রবিতে সাংবাদিকের হারানো মানিব্যাগ উদ্ধার, সিসিটিভি ফুটেজে ছাত্রদল নেতার সম্পৃক্ততা

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬

মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি সংবাদদাতাঃ

মাভাবিপ্রবিতে সাংবাদিকের হারানো মানিব্যাগ উদ্ধারের ঘটনায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া! মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একজন সাংবাদিকের হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দেওয়া এই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে উঠে এসেছে এক ছাত্রনেতার ভূমিকা, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত অসততা নয়, বরং ছাত্ররাজনীতিতে দায়িত্বশীলতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে মানিব্যাগ হারানোর ঘটনা

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৫ জানুয়ারি শনিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল জননেতা আব্দুল মান্নান হলের ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত পকেট থেকে পড়ে যায় সাংবাদিক সুজন চন্দ্র দাশের মানিব্যাগ। তিনি দৈনিক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। খাবার শেষে বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ডাইনিং এলাকা ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে মানিব্যাগটির কোনো সন্ধান মেলেনি।মাভাবিপ্রবিতে সাংবাদিকের হারানো মানিব্যাগ উদ্ধারের ঘটনা

ঘটনার সময় ডাইনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আখিল আহমেদসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। মানিব্যাগ হারানোর কথা জানালে তিনি তা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে তখনই কোনো সমাধান না হওয়ায় সাংবাদিক সুজন দাশ বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

পরবর্তীতে ২৭ জানুয়ারি সোমবার হল প্রশাসনের সহযোগিতায় ডাইনিং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, সাংবাদিকের পড়ে যাওয়া মানিব্যাগটি একজন শিক্ষার্থী তুলে নিচ্ছেন, যিনি পরে শনাক্ত হন ছাত্রদল নেতা মো. আখিল আহমেদ হিসেবে। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ফুটেজ প্রকাশের পর চাপের মুখে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মানিব্যাগটি ফেরত দিতে বাধ্য হন। পরে তিনি নিজেও মানিব্যাগটি কুড়িয়ে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ঘটনার সময় সরাসরি অস্বীকার করার কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এই অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, একজন দায়িত্বশীল ছাত্রনেতার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ঘটনার পর রসায়ন বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একটি লিখিত বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার কোনোভাবেই রসায়ন বিভাগের দশম ব্যাচ বহন করবে না। সর্বসম্মতিক্রমে তারা তাকে ব্যাচ থেকে প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ভবিষ্যতে তার কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্যাচের সম্পৃক্ততা থাকবে না বলেও জানানো হয়।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, ক্যাম্পাসে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। সিসিটিভি ফুটেজ না থাকলে হয়তো সত্যটি কখনোই সামনে আসত না—এমন মন্তব্যও করছেন অনেক শিক্ষার্থী।