মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে একটি ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ব্যস্ত এই মহাসড়কটি এখন কার্যত এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় যানবাহনের তীব্র চাপের মধ্যে জীবন বাজি রেখে মানুষকে দৌড়ে রাস্তা পার হতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরতকীতলা ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত ইকোনিট টেক্সটাইলসহ অন্তত ৪ থেকে ৫টি বড় শিল্পকারখানার প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও কোচিংগামী শতাধিক শিক্ষার্থীও একই পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করেন। এলাকাবাসী জানান, নিকটবর্তী নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই সবাই ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পার হচ্ছেন। এ কারণে দ্রুত একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চার লেনের ব্যস্ত মহাসড়কের ডিভাইডার টপকে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সামনে দিয়ে দৌড়ে পার হচ্ছেন। অনেকে হাতে ব্যাগ, গলায় আইডি কার্ড ও মাথায় খাবারের ব্যাগ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই রাস্তা অতিক্রম করছেন। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের মধ্যে ভীতি বেশি দেখা গেছে। কেউ বুক চেপে ধরে দাঁড়িয়ে থাকছেন, আবার সুযোগ বুঝে হঠাৎ দৌড় দিচ্ছেন। এমন দৃশ্য প্রতিদিনই এখানে সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন, কেউ কেউ হারিয়েছেন কর্মক্ষমতা। কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মুখে শোনা গেছে। তবে স্থায়ী সমাধানে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
ট্রাফিক দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, আমরা নিয়মিত এখানে দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু হঠাৎ করেই মানুষ দৌড়ে রাস্তা পার হয়, সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ হলে দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে, মানুষের ভোগান্তিও কমবে।
ইকোনিট টেক্সটাইলের অপারেটর শাহিনুর বেগম বলেন, প্রতিদিন ভয় নিয়ে কাজে যাই। বাসা থেকে বের হলে মনে হয় ঠিকঠাক ফিরতে পারব তো? কয়েক মাস আগে আমার এক সহকর্মী গাড়ির ধাক্কায় মারা যান। একটা ব্রিজ থাকলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন। তার এমন বক্তব্যে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কারখানার সুপারভাইজার মো. কামাল হোসেন বলেন, শুধু আমাদের কারখানাতেই প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। আশপাশের সব কারখানা মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক পার হন। কাছাকাছি নিরাপদ পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম ফখরুল হুসাইন বলেন, শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক। তারা লিখিত আবেদন দিলে আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠাব। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।তার বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও দ্রুত বাস্তবায়ন চান সবাই।
এদিকে কালিয়াকৈর গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তাদের ভাষ্য, আর কোনো শ্রমিকের প্রাণহানি দেখতে চান না তারা। তাই মানুষের জীবন রক্ষায় অবিলম্বে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরোও পড়ুন – কালিয়াকৈরে ছাত্রী উত্যক্ত অভিযোগে যুবক গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা
কালিয়াকৈরে ফুটওভার ব্রিজ দাবিতে ক্ষোভ, মহাসড়কে প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি
মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে একটি ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ব্যস্ত এই মহাসড়কটি এখন কার্যত এক ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় যানবাহনের তীব্র চাপের মধ্যে জীবন বাজি রেখে মানুষকে দৌড়ে রাস্তা পার হতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরতকীতলা ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত ইকোনিট টেক্সটাইলসহ অন্তত ৪ থেকে ৫টি বড় শিল্পকারখানার প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও কোচিংগামী শতাধিক শিক্ষার্থীও একই পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করেন। এলাকাবাসী জানান, নিকটবর্তী নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই সবাই ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পার হচ্ছেন। এ কারণে দ্রুত একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চার লেনের ব্যস্ত মহাসড়কের ডিভাইডার টপকে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সামনে দিয়ে দৌড়ে পার হচ্ছেন। অনেকে হাতে ব্যাগ, গলায় আইডি কার্ড ও মাথায় খাবারের ব্যাগ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই রাস্তা অতিক্রম করছেন। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের মধ্যে ভীতি বেশি দেখা গেছে। কেউ বুক চেপে ধরে দাঁড়িয়ে থাকছেন, আবার সুযোগ বুঝে হঠাৎ দৌড় দিচ্ছেন। এমন দৃশ্য প্রতিদিনই এখানে সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন, কেউ কেউ হারিয়েছেন কর্মক্ষমতা। কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মুখে শোনা গেছে। তবে স্থায়ী সমাধানে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
ট্রাফিক দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, আমরা নিয়মিত এখানে দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু হঠাৎ করেই মানুষ দৌড়ে রাস্তা পার হয়, সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ হলে দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে, মানুষের ভোগান্তিও কমবে।
ইকোনিট টেক্সটাইলের অপারেটর শাহিনুর বেগম বলেন, প্রতিদিন ভয় নিয়ে কাজে যাই। বাসা থেকে বের হলে মনে হয় ঠিকঠাক ফিরতে পারব তো? কয়েক মাস আগে আমার এক সহকর্মী গাড়ির ধাক্কায় মারা যান। একটা ব্রিজ থাকলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন। তার এমন বক্তব্যে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কারখানার সুপারভাইজার মো. কামাল হোসেন বলেন, শুধু আমাদের কারখানাতেই প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। আশপাশের সব কারখানা মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক পার হন। কাছাকাছি নিরাপদ পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম ফখরুল হুসাইন বলেন, শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক। তারা লিখিত আবেদন দিলে আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠাব। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।তার বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও দ্রুত বাস্তবায়ন চান সবাই।
এদিকে কালিয়াকৈর গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তাদের ভাষ্য, আর কোনো শ্রমিকের প্রাণহানি দেখতে চান না তারা। তাই মানুষের জীবন রক্ষায় অবিলম্বে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরোও পড়ুন – কালিয়াকৈরে ছাত্রী উত্যক্ত অভিযোগে যুবক গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা