হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা, ব্যাপক উৎসাহ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে মহান মে দিবস। শ্রমিক অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিভাগীয় শ্রম দপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ যৌথভাবে এ আয়োজন করে। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক, মালিক প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে যোগ দেন। এতে পুরো শহরে উৎসবের আবহ তৈরি হয় এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে নতুন প্রত্যয়ের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ৮টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন। পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন, যা শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক জোরদারে ইতিবাচক বার্তা দেয়। অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে র্যালিটি পরিণত হয় বিশাল গণজমায়েতে।
র্যালি শেষে শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাই তাদের কল্যাণ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে শিল্পখাতে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের কলকারখানা ও শ্রমিকদের অবদানে জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হবে। তাহলেই শিল্পখাত টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন আফিফা বেগম, পরিচালক, বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর ও রেজিস্টার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পুলিশ সুপার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এবং মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, জেলা পুলিশ সুপার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাশুকুল ইসলাম রাজীব, যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি এবং এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান, সদস্য সচিব, মহানগর বিএনপি। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করে।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিকেএমইএ পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম শ্রমিক কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে নানা কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে শ্রমিক প্রতিনিধি এস এম আসলাম শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় থাকলে শিল্পখাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
আয়োজকরা জানান, মে দিবস শুধু স্মরণ নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতীক। জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সফলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজন নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অধিকার সচেতনতা এবং শিল্পখাতে সম্প্রীতির নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
আরোও পড়ুন – ইবিতে শ্রমিকদের উপহার বিতরণ | শ্রমিক দিবসে সিআরসি’র মানবিক আয়োজন
শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্কে শিল্প উন্নয়ন, নারায়ণগঞ্জে উৎসবমুখর মে দিবস পালন
হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা, ব্যাপক উৎসাহ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে মহান মে দিবস। শ্রমিক অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিভাগীয় শ্রম দপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ যৌথভাবে এ আয়োজন করে। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক, মালিক প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে যোগ দেন। এতে পুরো শহরে উৎসবের আবহ তৈরি হয় এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে নতুন প্রত্যয়ের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ৮টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন। পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন, যা শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক জোরদারে ইতিবাচক বার্তা দেয়। অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে র্যালিটি পরিণত হয় বিশাল গণজমায়েতে।
র্যালি শেষে শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাই তাদের কল্যাণ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে শিল্পখাতে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের কলকারখানা ও শ্রমিকদের অবদানে জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হবে। তাহলেই শিল্পখাত টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন আফিফা বেগম, পরিচালক, বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর ও রেজিস্টার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পুলিশ সুপার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এবং মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, জেলা পুলিশ সুপার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাশুকুল ইসলাম রাজীব, যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি এবং এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান, সদস্য সচিব, মহানগর বিএনপি। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করে।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিকেএমইএ পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম শ্রমিক কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে নানা কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে শ্রমিক প্রতিনিধি এস এম আসলাম শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় থাকলে শিল্পখাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
আয়োজকরা জানান, মে দিবস শুধু স্মরণ নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতীক। জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সফলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজন নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অধিকার সচেতনতা এবং শিল্পখাতে সম্প্রীতির নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
আরোও পড়ুন – ইবিতে শ্রমিকদের উপহার বিতরণ | শ্রমিক দিবসে সিআরসি’র মানবিক আয়োজন