কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কুড়িগ্রাম শহরের নাজিরা মুন্সিপাড়া গ্রামের ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রিমি বেগম (২২) অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী জনি মিয়া (২৮) তার গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের ঘটনায় বিচার চেয়ে গ্রাম্য সালিশে গেলে উল্টো হামলার শিকার হয়ে রিমিসহ তার পরিবারের সদস্যরা আহত হন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, রিমির স্বামী জনি মিয়া তার গর্ভের সন্তান নিজের নয় দাবি করে বিভিন্ন অযৌক্তিক অভিযোগ তুলে তাকে নির্যাতন করছিল। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে রিমির মা লাভলী বেগম মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। কিন্তু ওই বৈঠকেই তুমুল বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়, যা এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের ঘটনাকে আরও ভয়াবহ রূপ দেয়।
গত ৩১ মার্চ বিকেলে ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার মোস্তফা কামালের বাড়িতে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হন উভয় পক্ষ। অভিযোগকারী লাভলী বেগম, তার স্বামী ইবনে বতুতা এবং অন্তঃসত্ত্বা রিমি বৈঠকে উপস্থিত হলে আলোচনার আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হামলার ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হন এবং তাদের কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের ঘটনায় সালিশ বৈঠক নিরাপদ না হয়ে বরং সংঘর্ষের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
ঘটনার পরদিনই লাভলী বেগম কুড়িগ্রাম সদর থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ করার ১১ দিন পার হলেও পুলিশ এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দরিদ্র হওয়ায় বিচার পাচ্ছেন না এবং এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা তাদের হতাশ করেছে।
লাভলী বেগম আরও অভিযোগ করেন, তার মেয়ের আগের সন্তানকেও নির্যাতনের মাধ্যমে নষ্ট করা হয়েছিল এবং বর্তমানে আবারও একই ধরনের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, তার মেয়ে রিমিকে নিয়মিত মারধর করা হয় এবং ভরণপোষণও দেওয়া হয় না। এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
এদিকে রিমি বেগম দাবি করেন, তার স্বামী পরকীয়ায় জড়িত এবং বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, কিন্তু আমার স্বামী আমাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। আমি এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।” তার এই বক্তব্য এলাকাজুড়ে সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত জনি মিয়া ও তার পরিবার অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, রিমি ও তার পরিবারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তারা পুনরায় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে চান। তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই জরুরি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুদ প্রামাণিক জানান, উভয় পক্ষ পুনরায় সালিশে বসতে চাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। অন্যদিকে কমিশনার মোস্তফা কামাল বলেন, উভয় পক্ষ সম্মত হলেই আবার সালিশ বৈঠক ডাকা হবে। তবে সচেতন মহল মনে করছে, অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের মতো গুরুতর ঘটনায় সালিশ নয়, আইনগত পদক্ষেপই হওয়া উচিত।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে ভূমিদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে হামলার হুমকি, ২ জন জেলহাজতে
কুড়িগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতন: গর্ভের সন্তান অস্বীকার, সালিশে মারামারি, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কুড়িগ্রাম শহরের নাজিরা মুন্সিপাড়া গ্রামের ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রিমি বেগম (২২) অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী জনি মিয়া (২৮) তার গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের ঘটনায় বিচার চেয়ে গ্রাম্য সালিশে গেলে উল্টো হামলার শিকার হয়ে রিমিসহ তার পরিবারের সদস্যরা আহত হন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, রিমির স্বামী জনি মিয়া তার গর্ভের সন্তান নিজের নয় দাবি করে বিভিন্ন অযৌক্তিক অভিযোগ তুলে তাকে নির্যাতন করছিল। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে রিমির মা লাভলী বেগম মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। কিন্তু ওই বৈঠকেই তুমুল বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়, যা এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের ঘটনাকে আরও ভয়াবহ রূপ দেয়।
গত ৩১ মার্চ বিকেলে ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার মোস্তফা কামালের বাড়িতে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হন উভয় পক্ষ। অভিযোগকারী লাভলী বেগম, তার স্বামী ইবনে বতুতা এবং অন্তঃসত্ত্বা রিমি বৈঠকে উপস্থিত হলে আলোচনার আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হামলার ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হন এবং তাদের কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের ঘটনায় সালিশ বৈঠক নিরাপদ না হয়ে বরং সংঘর্ষের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
ঘটনার পরদিনই লাভলী বেগম কুড়িগ্রাম সদর থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ করার ১১ দিন পার হলেও পুলিশ এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দরিদ্র হওয়ায় বিচার পাচ্ছেন না এবং এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা তাদের হতাশ করেছে।
লাভলী বেগম আরও অভিযোগ করেন, তার মেয়ের আগের সন্তানকেও নির্যাতনের মাধ্যমে নষ্ট করা হয়েছিল এবং বর্তমানে আবারও একই ধরনের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, তার মেয়ে রিমিকে নিয়মিত মারধর করা হয় এবং ভরণপোষণও দেওয়া হয় না। এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
এদিকে রিমি বেগম দাবি করেন, তার স্বামী পরকীয়ায় জড়িত এবং বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, কিন্তু আমার স্বামী আমাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। আমি এই অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।” তার এই বক্তব্য এলাকাজুড়ে সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত জনি মিয়া ও তার পরিবার অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, রিমি ও তার পরিবারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তারা পুনরায় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে চান। তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই জরুরি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুদ প্রামাণিক জানান, উভয় পক্ষ পুনরায় সালিশে বসতে চাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। অন্যদিকে কমিশনার মোস্তফা কামাল বলেন, উভয় পক্ষ সম্মত হলেই আবার সালিশ বৈঠক ডাকা হবে। তবে সচেতন মহল মনে করছে, অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতনের মতো গুরুতর ঘটনায় সালিশ নয়, আইনগত পদক্ষেপই হওয়া উচিত।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে ভূমিদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে হামলার হুমকি, ২ জন জেলহাজতে