পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

৩৬

বিশেষ প্রতিনিধি: মোহাম্মদ তাইয়ুমঃ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি পরিচালনা করেছে হোসেন্দী উচ্চ বিদ্যালয়। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু সচেতনতামূলক র‍্যালি ও মশক নিধন অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে প্রধান শিক্ষক শাহ্ আমিন উল্লাহ শামীমের নেতৃত্বে সচেতনতামূলক র‍্যালিটি বের করা হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরেন। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু জ্বরের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের বক্তব্য ও প্রচারণায় পরিষ্কার পানি জমে থাকার মতো ছোট ছোট অবহেলা থেকেও মশার বংশবিস্তার ঘটতে পারে—এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

র‍্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে হোসেন্দী বাজার, পাকুন্দিয়া সড়ক এবং হোসেন্দী আদর্শ কলেজের সামনে দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি উদ্যোগে পরিণত হয়। শুধু নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে নয়, সারা বছর মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও এ ধরনের প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরে র‍্যালিটি পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

র‍্যালি শেষে বিদ্যালয় এলাকায় মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা মারার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ তৈরি হতে না দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়কেন্দ্রিক এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই বাস্তবসম্মত বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কর্মসূচিতে আয়োজক বিএনসিসি প্লাটুনের একজন সদস্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ আমিন উল্লাহ শামীম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাড়ির আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে একটি পরিবারের সদস্যদের কাছে স্বাস্থ্যসুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও প্রয়োজন। তাঁর মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম একে অপরের পরিপূরক। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সহজ হবে।

স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, পানির পাত্র, অব্যবহৃত বালতি ও অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার এসব স্থান পরীক্ষা করে পানি অপসারণ এবং পাত্রগুলো পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি, লম্বা পোশাক ও প্রয়োজনীয় মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে। জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।

উল্লেখ্য, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির একক প্রচেষ্টায় মশার বংশবিস্তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও সামাজিক সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ এবং আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার সমন্বিত চর্চাই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

হোসেন্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে পরিচালিত এ ধরনের কর্মসূচি তাদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও স্বাস্থ্যসুরক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজক বিএনসিসি প্লাটুনের সদস্য ও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

আরোও পড়ুন – বড়াইগ্রামে বারবার মৃত্যুর হানা, দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫

পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

নভেম্বর ৪, ২০২৬
৩৬

বিশেষ প্রতিনিধি: মোহাম্মদ তাইয়ুমঃ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি পরিচালনা করেছে হোসেন্দী উচ্চ বিদ্যালয়। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু সচেতনতামূলক র‍্যালি ও মশক নিধন অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে প্রধান শিক্ষক শাহ্ আমিন উল্লাহ শামীমের নেতৃত্বে সচেতনতামূলক র‍্যালিটি বের করা হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরেন। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু জ্বরের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের বক্তব্য ও প্রচারণায় পরিষ্কার পানি জমে থাকার মতো ছোট ছোট অবহেলা থেকেও মশার বংশবিস্তার ঘটতে পারে—এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

র‍্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে হোসেন্দী বাজার, পাকুন্দিয়া সড়ক এবং হোসেন্দী আদর্শ কলেজের সামনে দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি উদ্যোগে পরিণত হয়। শুধু নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে নয়, সারা বছর মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও এ ধরনের প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরে র‍্যালিটি পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

র‍্যালি শেষে বিদ্যালয় এলাকায় মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা মারার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ তৈরি হতে না দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়কেন্দ্রিক এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই বাস্তবসম্মত বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কর্মসূচিতে আয়োজক বিএনসিসি প্লাটুনের একজন সদস্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ আমিন উল্লাহ শামীম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাড়ির আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে একটি পরিবারের সদস্যদের কাছে স্বাস্থ্যসুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও প্রয়োজন। তাঁর মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম একে অপরের পরিপূরক। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সহজ হবে।

স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, পানির পাত্র, অব্যবহৃত বালতি ও অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার এসব স্থান পরীক্ষা করে পানি অপসারণ এবং পাত্রগুলো পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি, লম্বা পোশাক ও প্রয়োজনীয় মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে। জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।

উল্লেখ্য, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির একক প্রচেষ্টায় মশার বংশবিস্তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও সামাজিক সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ এবং আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার সমন্বিত চর্চাই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

হোসেন্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে পরিচালিত এ ধরনের কর্মসূচি তাদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও স্বাস্থ্যসুরক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজক বিএনসিসি প্লাটুনের সদস্য ও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

আরোও পড়ুন – বড়াইগ্রামে বারবার মৃত্যুর হানা, দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫

⇧