বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ

সেলিম মাহবুবঃ

বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে যাঁরা ন্যায়, সাহস ও বিবেকের প্রতীক হয়ে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হন, তাঁদের শীর্ষ সারিতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ। তাঁর জন্মের ১১৫ বছর পূর্তিতে জাতি আবারও স্মরণ করছে এমন এক বিচারকের কথা, যিনি ব্যক্তিগত পদ, ক্ষমতা কিংবা সুবিধার চেয়ে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী অধ্যায় পর্যন্ত তাঁর চিন্তা ও কর্ম বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক গভীর ছাপ রেখে গেছে।
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ ছিলেন কেবল একজন বিচারক নন, তিনি ছিলেন রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ এক প্রজ্ঞাবান চিন্তক। উপমহাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক শাসনের দমননীতি এবং মৌলিক অধিকার হরণের সময় তিনি ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেন। তাঁর বিচারিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মানুষের অধিকার, সংবিধানের মর্যাদা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। ফলে তিনি সমসাময়িক সময়েই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
১৯১১ সালের ১১ জানুয়ারি কলকাতার এক শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুস সালেক ছিলেন বঙ্গীয় সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা, যিনি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। পরিবারিক পরিবেশেই তিনি শৈশব থেকে নিয়মতান্ত্রিক চিন্তা, জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা লাভ করেন। জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কও তাঁর মানসিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন তাঁর মামা।
শিক্ষাজীবনে তাঁর কৃতিত্ব ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। ১৯২৬ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় রাজশাহী বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁর মেধার পরিচয় স্পষ্ট হয়। পরবর্তীতে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। আইন বিষয়ে উচ্চতর দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি প্রথম শ্রেণিতে আইন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৯ সালে যুক্তরাজ্যের দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন। এই বহুমাত্রিক শিক্ষাগত ভিত্তি তাঁর বিচারিক সিদ্ধান্তে গভীরতা ও ভারসাম্য এনে দেয়।
পেশাগত জীবনে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের উত্থান ছিল ধারাবাহিক ও সম্মানজনক। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে যোগদান করেন এবং একই বছর বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। আইন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা, যুক্তিনিষ্ঠতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্রুতই তাঁকে সহকর্মী ও আইনজীবী মহলে সম্মানিত করে তোলে। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁর পেশাগত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তান হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সময়েই তাঁর নেতৃত্বে বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নিম্ন আদালতের কাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার মধ্যে। তাঁর দেওয়া বহু রায় পরবর্তীতে আইনশাস্ত্রে দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আজও আইন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচিতে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত।
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় আসে সামরিক শাসনের সময়। তৎকালীন শাসক আইয়ুব খানের একনায়কতান্ত্রিক নীতির বিরুদ্ধে তিনি ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রতিবাদে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এই সিদ্ধান্ত ছিল উপমহাদেশের বিচার ইতিহাসে এক বিরল ও সাহসী দৃষ্টান্ত, যা প্রমাণ করে যে ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি কোনো আপসকে গ্রহণযোগ্য মনে করতেন না।
আইন অঙ্গনের বাইরেও তাঁর চিন্তাশীল ভূমিকা ছিল বিস্তৃত। তিনি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দর্শনে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্যান্য ভাষায় তাঁর দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। তিনি প্রগতিশীল ইসলামী চিন্তাধারার অনুসারী ছিলেন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ছিলেন অকুতোভয় সমর্থক। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন তাঁর সাংস্কৃতিক সাহসিকতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
পাকিস্তানি শাসনামলের দমন-পীড়ন, বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ নীরব দর্শক হয়ে থাকেননি। তাঁর নৈতিক অবস্থান আইনজীবী সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিকদের মধ্যে ন্যায় ও গণতন্ত্রের চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিচারক কেবল আদালতের বেঞ্চে বসে নয়, বরং সমাজের বিবেক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৯ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। শারীরিকভাবে তিনি না থাকলেও তাঁর আদর্শ, ন্যায়বিচারের দর্শন এবং সাহসী অবস্থান আজও বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। তাঁর স্মরণে আয়োজিত ১১৫তম জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচিতে পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি প্রমাণ করে—তিনি কেবল একটি সময়ের নায়ক নন, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য এক স্থায়ী অনুপ্রেরণা।
বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের জীবন আমাদের শেখায়, ক্ষমতার চেয়ে নৈতিকতা বড়, পদমর্যাদার চেয়ে ন্যায়বিচার মহৎ। তাঁর জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের ইতিহাসে এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতেও ন্যায় ও সাহসের পথ দেখাবে।

বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ

জানুয়ারি ১১, ২০২৬

সেলিম মাহবুবঃ

বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে যাঁরা ন্যায়, সাহস ও বিবেকের প্রতীক হয়ে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হন, তাঁদের শীর্ষ সারিতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ। তাঁর জন্মের ১১৫ বছর পূর্তিতে জাতি আবারও স্মরণ করছে এমন এক বিচারকের কথা, যিনি ব্যক্তিগত পদ, ক্ষমতা কিংবা সুবিধার চেয়ে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী অধ্যায় পর্যন্ত তাঁর চিন্তা ও কর্ম বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক গভীর ছাপ রেখে গেছে।
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ ছিলেন কেবল একজন বিচারক নন, তিনি ছিলেন রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ এক প্রজ্ঞাবান চিন্তক। উপমহাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক শাসনের দমননীতি এবং মৌলিক অধিকার হরণের সময় তিনি ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেন। তাঁর বিচারিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মানুষের অধিকার, সংবিধানের মর্যাদা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। ফলে তিনি সমসাময়িক সময়েই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
১৯১১ সালের ১১ জানুয়ারি কলকাতার এক শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুস সালেক ছিলেন বঙ্গীয় সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা, যিনি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। পরিবারিক পরিবেশেই তিনি শৈশব থেকে নিয়মতান্ত্রিক চিন্তা, জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা লাভ করেন। জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কও তাঁর মানসিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন তাঁর মামা।
শিক্ষাজীবনে তাঁর কৃতিত্ব ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। ১৯২৬ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় রাজশাহী বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁর মেধার পরিচয় স্পষ্ট হয়। পরবর্তীতে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। আইন বিষয়ে উচ্চতর দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি প্রথম শ্রেণিতে আইন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৯ সালে যুক্তরাজ্যের দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন। এই বহুমাত্রিক শিক্ষাগত ভিত্তি তাঁর বিচারিক সিদ্ধান্তে গভীরতা ও ভারসাম্য এনে দেয়।
পেশাগত জীবনে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের উত্থান ছিল ধারাবাহিক ও সম্মানজনক। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে যোগদান করেন এবং একই বছর বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। আইন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা, যুক্তিনিষ্ঠতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্রুতই তাঁকে সহকর্মী ও আইনজীবী মহলে সম্মানিত করে তোলে। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁর পেশাগত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তান হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সময়েই তাঁর নেতৃত্বে বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নিম্ন আদালতের কাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার মধ্যে। তাঁর দেওয়া বহু রায় পরবর্তীতে আইনশাস্ত্রে দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আজও আইন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচিতে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত।
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় আসে সামরিক শাসনের সময়। তৎকালীন শাসক আইয়ুব খানের একনায়কতান্ত্রিক নীতির বিরুদ্ধে তিনি ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রতিবাদে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এই সিদ্ধান্ত ছিল উপমহাদেশের বিচার ইতিহাসে এক বিরল ও সাহসী দৃষ্টান্ত, যা প্রমাণ করে যে ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি কোনো আপসকে গ্রহণযোগ্য মনে করতেন না।
আইন অঙ্গনের বাইরেও তাঁর চিন্তাশীল ভূমিকা ছিল বিস্তৃত। তিনি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দর্শনে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্যান্য ভাষায় তাঁর দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। তিনি প্রগতিশীল ইসলামী চিন্তাধারার অনুসারী ছিলেন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ছিলেন অকুতোভয় সমর্থক। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন তাঁর সাংস্কৃতিক সাহসিকতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
পাকিস্তানি শাসনামলের দমন-পীড়ন, বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ নীরব দর্শক হয়ে থাকেননি। তাঁর নৈতিক অবস্থান আইনজীবী সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিকদের মধ্যে ন্যায় ও গণতন্ত্রের চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিচারক কেবল আদালতের বেঞ্চে বসে নয়, বরং সমাজের বিবেক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৯ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। শারীরিকভাবে তিনি না থাকলেও তাঁর আদর্শ, ন্যায়বিচারের দর্শন এবং সাহসী অবস্থান আজও বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। তাঁর স্মরণে আয়োজিত ১১৫তম জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচিতে পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি প্রমাণ করে—তিনি কেবল একটি সময়ের নায়ক নন, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য এক স্থায়ী অনুপ্রেরণা।
বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের জীবন আমাদের শেখায়, ক্ষমতার চেয়ে নৈতিকতা বড়, পদমর্যাদার চেয়ে ন্যায়বিচার মহৎ। তাঁর জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের ইতিহাসে এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতেও ন্যায় ও সাহসের পথ দেখাবে।