ফসিল গ্যাস উত্তোলন জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা, মোংলায় নৌবহর কর্মসূচিতে বক্তারা

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

বিশ্বব্যাপী ফসিল গ্যাস উত্তোলনের বর্তমান ধারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে গভীর সংকটে ফেলছে বলে মোংলায় আয়োজিত নৌবহর কর্মসূচিতে বক্তারা মন্তব্য করেন। তাদের মতে, গ্লোবাল সাউথের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে জ্বালানির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, আর এই বাড়তি চাহিদার সুযোগে গ্লোবাল নর্থ ফসিল গ্যাসকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে তুলে ধরছে। এতে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। বক্তারা জানান, কয়লা ও তেলের বিকল্প হিসেবে কখনোই ফসিল গ্যাস গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নবায়নযোগ্য জ্বালানিই টেকসই ভবিষ্যতের একমাত্র পথ।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় মোংলার পশুর নদীতে বিশ্বব্যাপী ফসিল গ্যাস সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে যুক্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে নৌবহর কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একইদিনে পরিচালিত এ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল জীবাশ্ম গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের দাবি তুলে ধরা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশযোদ্ধা পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার নামে ফসিল গ্যাসের সম্প্রসারণ কেবল পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্যও হুমকি। বিশ্বের বৃহৎ গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং গ্যাস ও এলএনজির প্রসার ত্যাগ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হতে হবে। আয়োজনে উপস্থিত বক্তারা জানান, শিল্পোন্নত দেশের বাইরে জ্বালানি চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং তা ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই বাড়তি চাহিদাকে ফসিল গ্যাস দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করলে জলবায়ু বিপর্যয় আরও ত্বরান্বিত হবে।

আরোও পড়ুন – ছাতকে ব্র‍্যাকের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

অন্য বক্তারা জানান, বর্তমানে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মোট ৭৬৮টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। পাশাপাশি আরও ১৫৩টি প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল, প্রায় ৩০০টি পাইপলাইন প্রকল্প এবং ২৮৪টি গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলার কার্যকর পথ নেই বলে বক্তারা মত দেন।

নৌবহর কর্মসূচিতে অংশ নেন মোংলা উপজেলা জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ সেলিম হাওলাদার, বিডি ক্লিনের আবু হাসান, পরিবেশ ও উন্নয়নকর্মী ফাতেমা জান্নাত, নারীনেত্রী মাসুদা পারভীন, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের ভলান্টিয়ার মারুফ বিল্লাহ, পরিবেশকর্মী হাছিব সরদার, ইয়ুথ লিডার শেখ সিফাতুল্লাহ শুভ, মইন গাজী, ডলার মোল্লা, মেহেদী হাসানসহ অনেকে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায়ও একই দিনে অনুরূপ আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে মোংলার পশুর নদীসহ মোট নয়টি নদীতে নৌবহর কর্মসূচি পালিত হয়।

ফসিল গ্যাস উত্তোলন জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা, মোংলায় নৌবহর কর্মসূচিতে বক্তারা

নভেম্বর ১৯, ২০২৫

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

বিশ্বব্যাপী ফসিল গ্যাস উত্তোলনের বর্তমান ধারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে গভীর সংকটে ফেলছে বলে মোংলায় আয়োজিত নৌবহর কর্মসূচিতে বক্তারা মন্তব্য করেন। তাদের মতে, গ্লোবাল সাউথের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে জ্বালানির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, আর এই বাড়তি চাহিদার সুযোগে গ্লোবাল নর্থ ফসিল গ্যাসকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে তুলে ধরছে। এতে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। বক্তারা জানান, কয়লা ও তেলের বিকল্প হিসেবে কখনোই ফসিল গ্যাস গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নবায়নযোগ্য জ্বালানিই টেকসই ভবিষ্যতের একমাত্র পথ।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় মোংলার পশুর নদীতে বিশ্বব্যাপী ফসিল গ্যাস সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে যুক্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে নৌবহর কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একইদিনে পরিচালিত এ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল জীবাশ্ম গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের দাবি তুলে ধরা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশযোদ্ধা পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার নামে ফসিল গ্যাসের সম্প্রসারণ কেবল পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্যও হুমকি। বিশ্বের বৃহৎ গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং গ্যাস ও এলএনজির প্রসার ত্যাগ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হতে হবে। আয়োজনে উপস্থিত বক্তারা জানান, শিল্পোন্নত দেশের বাইরে জ্বালানি চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং তা ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই বাড়তি চাহিদাকে ফসিল গ্যাস দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করলে জলবায়ু বিপর্যয় আরও ত্বরান্বিত হবে।

আরোও পড়ুন – ছাতকে ব্র‍্যাকের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

অন্য বক্তারা জানান, বর্তমানে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মোট ৭৬৮টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। পাশাপাশি আরও ১৫৩টি প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল, প্রায় ৩০০টি পাইপলাইন প্রকল্প এবং ২৮৪টি গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলার কার্যকর পথ নেই বলে বক্তারা মত দেন।

নৌবহর কর্মসূচিতে অংশ নেন মোংলা উপজেলা জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ সেলিম হাওলাদার, বিডি ক্লিনের আবু হাসান, পরিবেশ ও উন্নয়নকর্মী ফাতেমা জান্নাত, নারীনেত্রী মাসুদা পারভীন, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের ভলান্টিয়ার মারুফ বিল্লাহ, পরিবেশকর্মী হাছিব সরদার, ইয়ুথ লিডার শেখ সিফাতুল্লাহ শুভ, মইন গাজী, ডলার মোল্লা, মেহেদী হাসানসহ অনেকে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায়ও একই দিনে অনুরূপ আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে মোংলার পশুর নদীসহ মোট নয়টি নদীতে নৌবহর কর্মসূচি পালিত হয়।