আরডিএ কমপ্লেক্সকে ‘জুলাই ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ ঘোষণার দাবি জোরালো

মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহীঃ

রাজশাহীর তালাইমারি মোড়ের আরডিএ কমপ্লেক্সকে সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণ এবং সেটিকে ‘জুলাই ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ হিসেবে ঘোষণা করার জোর দাবি জানিয়েছেন জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এ দাবিতে তাঁরা রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান এসএম তুহিনুর আলমের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে স্মারকলিপি প্রদান করতে এসে উপস্থিত ছিলেন গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরী, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আবদুল আউয়াল, নজরুল পরিষদের সভাপতি কবি মোস্তাক রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। স্মারকলিপির অনুলিপি পরে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছেও জমা দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিদাতারা জানান, তালাইমারি মোড় ও মতিহার চত্ত্বর ছিল ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনের কেন্দ্রস্থল। হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এখানে অংশ নেন। তাঁদের দাবি, এই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও নির্যাতিতদের স্মৃতি ধারণ করার জন্য বহুদিন ধরেই এখানে একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু কোনো পক্ষকে অবহিত না করে আরডিএ কমপ্লেক্সটি হঠাৎই এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, যে ব্যক্তি ভবনটি লিজ নিয়েছেন তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, মানিলন্ডারিং ও অর্থ আত্মসাতের বহু মামলা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও আছে। তাঁদের মতে, একজন বিতর্কিত ব্যক্তির কাছে সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনা বাণিজ্যিকভাবে তুলে দেওয়া জনস্বার্থবিরোধী।

আরডিএ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১.৪২ একর জমির ওপর প্রায় ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়, পরে ব্যয় বাড়তে বাড়তে তা দাঁড়ায় ১২৫ কোটিতে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ বন্ধ থাকার কারণে ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। চলতি বছরের ৭ জুন টেন্ডারের মাধ্যমে মাসিক ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৩ টাকায় ভবনটি লিজ দেওয়া হয়।

উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, এই স্থাপনাটি শুধু একটি ভবন নয়, এটি গণআন্দোলনের প্রতীক। তাই ভাড়া বাতিল করে এখানে একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক চেতনার সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার দাবি তারা জানান।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে আরডিএ চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এর আগে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেলে মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরডিএ কমপ্লেক্সকে ‘জুলাই ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ ঘোষণার দাবি জোরালো

নভেম্বর ২৫, ২০২৫

মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহীঃ

রাজশাহীর তালাইমারি মোড়ের আরডিএ কমপ্লেক্সকে সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণ এবং সেটিকে ‘জুলাই ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ হিসেবে ঘোষণা করার জোর দাবি জানিয়েছেন জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এ দাবিতে তাঁরা রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান এসএম তুহিনুর আলমের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে স্মারকলিপি প্রদান করতে এসে উপস্থিত ছিলেন গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরী, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আবদুল আউয়াল, নজরুল পরিষদের সভাপতি কবি মোস্তাক রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। স্মারকলিপির অনুলিপি পরে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছেও জমা দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিদাতারা জানান, তালাইমারি মোড় ও মতিহার চত্ত্বর ছিল ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনের কেন্দ্রস্থল। হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এখানে অংশ নেন। তাঁদের দাবি, এই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও নির্যাতিতদের স্মৃতি ধারণ করার জন্য বহুদিন ধরেই এখানে একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু কোনো পক্ষকে অবহিত না করে আরডিএ কমপ্লেক্সটি হঠাৎই এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, যে ব্যক্তি ভবনটি লিজ নিয়েছেন তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, মানিলন্ডারিং ও অর্থ আত্মসাতের বহু মামলা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও আছে। তাঁদের মতে, একজন বিতর্কিত ব্যক্তির কাছে সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনা বাণিজ্যিকভাবে তুলে দেওয়া জনস্বার্থবিরোধী।

আরডিএ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১.৪২ একর জমির ওপর প্রায় ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়, পরে ব্যয় বাড়তে বাড়তে তা দাঁড়ায় ১২৫ কোটিতে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ বন্ধ থাকার কারণে ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। চলতি বছরের ৭ জুন টেন্ডারের মাধ্যমে মাসিক ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৩ টাকায় ভবনটি লিজ দেওয়া হয়।

উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, এই স্থাপনাটি শুধু একটি ভবন নয়, এটি গণআন্দোলনের প্রতীক। তাই ভাড়া বাতিল করে এখানে একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক চেতনার সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার দাবি তারা জানান।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে আরডিএ চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এর আগে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেলে মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।