ভালুকা উপজেলায় ধান চাষে কারেন্ট পোকার বিপর্যয়: ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : জিসান

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় রোপা আমন ধানের মৌসুমে শুরুর দিকে আশাব্যঞ্জক ফলনের ইঙ্গিত মিললেও হঠাৎ করে কারেন্ট পোকার ব্যাপক আক্রমণে কৃষকদের মুখে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। মাঠে সোনালি স্বপ্নের মতো বেড়ে ওঠা ধান গাছগুলো ক্ষতিকর পোকার আক্রমণে দুর্বল হয়ে পড়ায় ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে ধীতপুর এবং কাচিনা ইউনিয়নের অনেক জমিতে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকায় স্থানীয় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ভালুকায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার সমপরিমাণ জমিতে চাষ হলেও মৌসুমের মাঝামাঝি এসে বিপিএইচ বা কারেন্ট পোকা কয়েকটি এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছায়াযুক্ত জমি বা যেসব স্থানে সূর্যের আলো তুলনামূলক কম পৌঁছায়, সেখানে এই পোকা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং গাছের গোড়ায় আক্রমণ চালিয়ে ধান গাছকে শুকিয়ে দেয়। ফলে গাছ তারের মতো সরু হয়ে পড়ে এবং দানা পূর্ণতা পায় না।

ধীতপুর ইউনিয়নের ধলিয়া গ্রামের কৃষক গোলাপ খান জানান, তিনি ১৪ কাঠা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছিলেন। মৌসুমের শুরুতে জমির অবস্থা দেখে ফলন ভালো হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের গাছ শুকিয়ে যেতে থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফলন আর পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার মতে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতি কাঠায় ৫ থেকে ৬ মণ ধান উৎপাদন সম্ভব হলেও এবার তা অনেক কমে গেছে।

আরেক প্রবীণ কৃষক ইমরান মিয়া বলেন, বর্তমান মৌসুমে ধান চাষে যে খরচ হয়েছে, এবার সেই খরচ ওঠানোই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পোকামাকড়ের আক্রমণে বেশকিছু জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তারা নিয়মিত মনিটরিং করছে এবং কৃষকদের পোকা দমন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি জানান, ছায়াযুক্ত জমিই মূলত বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তাই কৃষকদের জমির চারপাশে আলো ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ আশা করছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে আগামী মৌসুমে একই ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। তবে বর্তমানে ক্ষতির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে তা কৃষকদের আর্থিক সঙ্কটে ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

ভালুকা উপজেলায় ধান চাষে কারেন্ট পোকার বিপর্যয়: ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে

নভেম্বর ৩০, ২০২৫

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : জিসান

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় রোপা আমন ধানের মৌসুমে শুরুর দিকে আশাব্যঞ্জক ফলনের ইঙ্গিত মিললেও হঠাৎ করে কারেন্ট পোকার ব্যাপক আক্রমণে কৃষকদের মুখে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। মাঠে সোনালি স্বপ্নের মতো বেড়ে ওঠা ধান গাছগুলো ক্ষতিকর পোকার আক্রমণে দুর্বল হয়ে পড়ায় ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে ধীতপুর এবং কাচিনা ইউনিয়নের অনেক জমিতে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকায় স্থানীয় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ভালুকায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার সমপরিমাণ জমিতে চাষ হলেও মৌসুমের মাঝামাঝি এসে বিপিএইচ বা কারেন্ট পোকা কয়েকটি এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছায়াযুক্ত জমি বা যেসব স্থানে সূর্যের আলো তুলনামূলক কম পৌঁছায়, সেখানে এই পোকা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং গাছের গোড়ায় আক্রমণ চালিয়ে ধান গাছকে শুকিয়ে দেয়। ফলে গাছ তারের মতো সরু হয়ে পড়ে এবং দানা পূর্ণতা পায় না।

ধীতপুর ইউনিয়নের ধলিয়া গ্রামের কৃষক গোলাপ খান জানান, তিনি ১৪ কাঠা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছিলেন। মৌসুমের শুরুতে জমির অবস্থা দেখে ফলন ভালো হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের গাছ শুকিয়ে যেতে থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফলন আর পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার মতে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতি কাঠায় ৫ থেকে ৬ মণ ধান উৎপাদন সম্ভব হলেও এবার তা অনেক কমে গেছে।

আরেক প্রবীণ কৃষক ইমরান মিয়া বলেন, বর্তমান মৌসুমে ধান চাষে যে খরচ হয়েছে, এবার সেই খরচ ওঠানোই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পোকামাকড়ের আক্রমণে বেশকিছু জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তারা নিয়মিত মনিটরিং করছে এবং কৃষকদের পোকা দমন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি জানান, ছায়াযুক্ত জমিই মূলত বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তাই কৃষকদের জমির চারপাশে আলো ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ আশা করছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে আগামী মৌসুমে একই ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। তবে বর্তমানে ক্ষতির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে তা কৃষকদের আর্থিক সঙ্কটে ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।