নবীনগরের চর লাপাংয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে বসতভিটা ও ফসলি জমি

মাজহারুল ইসলাম বাদল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেঘনা নদীঘেঁষা চর লাপাং গ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে নদীপাড় ও ফসলি জমির আশপাশে ড্রেজার বসিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে গ্রামের বসতভিটা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সরেজমিনে ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চর লাপাং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড় ঘেঁষে একাধিক স্থানে সারিবদ্ধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন শতাধিক ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষি জমির ভেতর ও বসতঘেঁষা এলাকায় বালু তোলা হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাশ্ববর্তী নরসিংদীর রায়পুরা ও মির্জা চর এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে চর লাপাং এলাকায় অনুপ্রবেশ করে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে অনেক ড্রেজার দ্রুত নদীর অন্যপাড়ে সরিয়ে নেওয়া হলেও স্থানীয়রা জানান, কিছু সময় পর আবারও এসব ড্রেজার ফিরে আসে।
গ্রামবাসীরা জানান, বালু উত্তোলনের সময় এলাকায় এক ধরনের ভয়ভীতি ও অস্ত্রের মহড়া চলে, যার কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। দিনের চেয়ে রাতের বেলায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। গভীর রাতে বাড়ির একেবারে পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলায় যেকোনো সময় বসতভিটা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রভাবশালী চক্রটি নিয়মিতভাবে অবৈধ সুবিধা দিয়ে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় অনেক পরিবার ইতোমধ্যে গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে। তবে বহু মানুষের কাছে বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে যাওয়া সহজ নয় বলে তারা বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।
এলাকায় বালু পরিবহনের সময় ছোট একটি ট্রলার থেকে বালুবাহী নৌকাগুলো থেকে টাকা সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, বড় নৌকা ও ছোট নৌকার জন্য নির্ধারিত হারে অর্থ নেওয়া হয়, যা এই অবৈধ কার্যক্রমকে আরও সংগঠিতভাবে পরিচালনার ইঙ্গিত দেয়।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশাসনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে চর লাপাং গ্রামটি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

নবীনগরের চর লাপাংয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে বসতভিটা ও ফসলি জমি

জানুয়ারি ৪, ২০২৬

মাজহারুল ইসলাম বাদল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেঘনা নদীঘেঁষা চর লাপাং গ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে নদীপাড় ও ফসলি জমির আশপাশে ড্রেজার বসিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে গ্রামের বসতভিটা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সরেজমিনে ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চর লাপাং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড় ঘেঁষে একাধিক স্থানে সারিবদ্ধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন শতাধিক ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষি জমির ভেতর ও বসতঘেঁষা এলাকায় বালু তোলা হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাশ্ববর্তী নরসিংদীর রায়পুরা ও মির্জা চর এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে চর লাপাং এলাকায় অনুপ্রবেশ করে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে অনেক ড্রেজার দ্রুত নদীর অন্যপাড়ে সরিয়ে নেওয়া হলেও স্থানীয়রা জানান, কিছু সময় পর আবারও এসব ড্রেজার ফিরে আসে।
গ্রামবাসীরা জানান, বালু উত্তোলনের সময় এলাকায় এক ধরনের ভয়ভীতি ও অস্ত্রের মহড়া চলে, যার কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। দিনের চেয়ে রাতের বেলায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। গভীর রাতে বাড়ির একেবারে পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলায় যেকোনো সময় বসতভিটা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রভাবশালী চক্রটি নিয়মিতভাবে অবৈধ সুবিধা দিয়ে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় অনেক পরিবার ইতোমধ্যে গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে। তবে বহু মানুষের কাছে বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে যাওয়া সহজ নয় বলে তারা বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।
এলাকায় বালু পরিবহনের সময় ছোট একটি ট্রলার থেকে বালুবাহী নৌকাগুলো থেকে টাকা সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, বড় নৌকা ও ছোট নৌকার জন্য নির্ধারিত হারে অর্থ নেওয়া হয়, যা এই অবৈধ কার্যক্রমকে আরও সংগঠিতভাবে পরিচালনার ইঙ্গিত দেয়।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশাসনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে চর লাপাং গ্রামটি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।