নবীনগরের চরলাপাংয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মামলা, কৃষিজমি ধ্বংসের প্রমাণ মিলেছে

মাজহারুল ইসলাম বাদলঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবশেষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফসলি জমি ধ্বংস করে অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে। এই মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, চরলাপাং এলাকার বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিতে দিনের পর দিন ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায় এবং বহু কৃষক তাদের আবাদযোগ্য জমি কার্যত হারিয়ে ফেলেন। কৃষিনির্ভর এই এলাকায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব কার্যক্রম চললেও প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পায়েল মোক্তার, রিপন মিয়া, মাসুদ মিয়া, ঈমান মিয়া, নয়ন মিয়া, জাহাঙ্গীর, রিজন মিয়া, রুবেল, নাজিমুদ্দিন, ফারুক মিয়া ও ইবি মিয়া। এছাড়াও ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের একটি অংশ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাসিন্দা, যা প্রমাণ করে এটি একটি আন্তঃজেলা বালু সিন্ডিকেটের কার্যক্রম।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুধু বালু উত্তোলনই নয়—এই চক্রের পেছনে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে মামলাটি শুধু স্থানীয় অপরাধ নয়, বরং সংগঠিত অপরাধ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ অভিযোগ তুলেছেন, অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম সম্পর্কে আগে থেকেই প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হয়েছে। এতে ড্রেজারচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। মামলা দায়েরের মাধ্যমে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে এলেও বিলম্বের কারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


ভুক্তভোগী কৃষকদের প্রত্যাশা, এই মামলা যেন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে। তারা চান দ্রুত ড্রেজার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


চরলাপাংয়ের এই মামলা নবীনগরজুড়ে অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর আশা, এই আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নবীনগরের চরলাপাংয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মামলা, কৃষিজমি ধ্বংসের প্রমাণ মিলেছে

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬

মাজহারুল ইসলাম বাদলঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবশেষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফসলি জমি ধ্বংস করে অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে। এই মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, চরলাপাং এলাকার বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিতে দিনের পর দিন ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায় এবং বহু কৃষক তাদের আবাদযোগ্য জমি কার্যত হারিয়ে ফেলেন। কৃষিনির্ভর এই এলাকায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব কার্যক্রম চললেও প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পায়েল মোক্তার, রিপন মিয়া, মাসুদ মিয়া, ঈমান মিয়া, নয়ন মিয়া, জাহাঙ্গীর, রিজন মিয়া, রুবেল, নাজিমুদ্দিন, ফারুক মিয়া ও ইবি মিয়া। এছাড়াও ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের একটি অংশ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাসিন্দা, যা প্রমাণ করে এটি একটি আন্তঃজেলা বালু সিন্ডিকেটের কার্যক্রম।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুধু বালু উত্তোলনই নয়—এই চক্রের পেছনে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে মামলাটি শুধু স্থানীয় অপরাধ নয়, বরং সংগঠিত অপরাধ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ অভিযোগ তুলেছেন, অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম সম্পর্কে আগে থেকেই প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হয়েছে। এতে ড্রেজারচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। মামলা দায়েরের মাধ্যমে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে এলেও বিলম্বের কারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


ভুক্তভোগী কৃষকদের প্রত্যাশা, এই মামলা যেন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে। তারা চান দ্রুত ড্রেজার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


চরলাপাংয়ের এই মামলা নবীনগরজুড়ে অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর আশা, এই আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।