বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা – কতটা মানসম্মত?
লেখক: নাজমুল হক প্রদীপ (বি.এস.সি, এম.এস.সি (গণিত), বি.এড, প্রাক-এম.এড, এম.এড(অধ্যয়নরত)(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো ক্রমশ বিস্তৃত হলেও এর মানগত দিক নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাশের হার। কিন্তু বাস্তবতা হলো—শিক্ষার মান ও গুণগত উন্নতি এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
বর্তমান প্রজন্ম পরীক্ষায় সফল হলেও, তাদের অনেকেই মৌলিক জ্ঞান আয়ত্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কেবল তথ্য মুখস্থ করে পরীক্ষায় ভালো করা গেলেও, জীবনের সমস্যার সমাধান করতে কিংবা সৃজনশীল চিন্তায় অগ্রসর হতে অনেকেই হোঁচট খাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
সৃজনশীল শিক্ষার কারিকুলাম প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, এর বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণের অভাব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, কোচিং নির্ভরতা, এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সমস্যাগুলো এ উদ্যোগকে দুর্বল করে দিয়েছে। ফলে, কারিকুলাম উপযুক্ত হলেও এর প্রয়োগ প্রক্রিয়া এখনো সন্তোষজনক নয়।
শিক্ষা কেবল পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে সচেতন, দায়িত্বশীল ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যমেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়। যদি শিক্ষা কেবল ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর ও মানসম্মত করতে হলে তিনটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি—
১. গুণগত মান বৃদ্ধি: শুধু পাশের হার নয়, জ্ঞান বোঝার সক্ষমতা অর্জন।
২. ব্যক্তিগত উন্নয়ন: শিক্ষা যেন নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়।
৩. কারিকুলামের বাস্তবায়ন: সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
উপসংহারে বলা যায়, শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষা যদি সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীর চিন্তা, মনন ও চরিত্রকে বিকশিত করে, তবে তা ব্যক্তি জীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। অন্যথায়, এটি কেবল ডিগ্রি অর্জনের সীমাবদ্ধ বৃত্তেই আটকে থাকবে।তাই সর্বোপরি সুশিক্ষা প্রয়োজন, তবে স্বশিক্ষা অপরিহার্য।
সুশিক্ষা প্রয়োজন, তবে স্বশিক্ষা অপরিহার্য – নাজমুল হক প্রদীপ
বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা – কতটা মানসম্মত?
লেখক: নাজমুল হক প্রদীপ (বি.এস.সি, এম.এস.সি (গণিত), বি.এড, প্রাক-এম.এড, এম.এড(অধ্যয়নরত)(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো ক্রমশ বিস্তৃত হলেও এর মানগত দিক নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাশের হার। কিন্তু বাস্তবতা হলো—শিক্ষার মান ও গুণগত উন্নতি এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
বর্তমান প্রজন্ম পরীক্ষায় সফল হলেও, তাদের অনেকেই মৌলিক জ্ঞান আয়ত্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কেবল তথ্য মুখস্থ করে পরীক্ষায় ভালো করা গেলেও, জীবনের সমস্যার সমাধান করতে কিংবা সৃজনশীল চিন্তায় অগ্রসর হতে অনেকেই হোঁচট খাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
সৃজনশীল শিক্ষার কারিকুলাম প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, এর বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণের অভাব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, কোচিং নির্ভরতা, এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সমস্যাগুলো এ উদ্যোগকে দুর্বল করে দিয়েছে। ফলে, কারিকুলাম উপযুক্ত হলেও এর প্রয়োগ প্রক্রিয়া এখনো সন্তোষজনক নয়।
শিক্ষা কেবল পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে সচেতন, দায়িত্বশীল ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যমেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়। যদি শিক্ষা কেবল ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর ও মানসম্মত করতে হলে তিনটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি—
১. গুণগত মান বৃদ্ধি: শুধু পাশের হার নয়, জ্ঞান বোঝার সক্ষমতা অর্জন।
২. ব্যক্তিগত উন্নয়ন: শিক্ষা যেন নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়।
৩. কারিকুলামের বাস্তবায়ন: সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
উপসংহারে বলা যায়, শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষা যদি সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীর চিন্তা, মনন ও চরিত্রকে বিকশিত করে, তবে তা ব্যক্তি জীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। অন্যথায়, এটি কেবল ডিগ্রি অর্জনের সীমাবদ্ধ বৃত্তেই আটকে থাকবে।তাই সর্বোপরি সুশিক্ষা প্রয়োজন, তবে স্বশিক্ষা অপরিহার্য।