বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি: নিপুণ রায় চৌধুরী

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টারঃ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীর অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব: প্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক। ‘বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক’ ঢাকা অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, যা একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতেই হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নারীরা দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে স্থানীয় সরকারসহ সকল পর্যায়ের নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা শুধু সংরক্ষিত আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন নির্বাচনে সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তারা মত দেন যে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কেবল নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমেও বাস্তবায়িত হতে পারে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পদে তাদের অন্তর্ভুক্তি জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিপুণ রায় চৌধুরী আরও বলেন, “বিএনপি সবসময় নারী নেতৃত্বের বিকাশে বিশ্বাসী। যোগ্য, দক্ষ এবং ত্যাগী নারী নেত্রীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। নির্বাচনী পরিবেশ নারীবান্ধব ও নিরাপদ করতে হবে, যাতে নারীরা ভয়ভীতি কিংবা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।” তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নারীদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এখনও নানা সামাজিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও বেগবান করতে হবে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নারী জনপ্রতিনিধিরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সামাজিক কুসংস্কার এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ অনেক সময় নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা মনে করেন, নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব বিকাশে সামাজিক সহযোগিতা ও পারিবারিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আলোচনা সভার সভাপতি ও সঞ্চালকবৃন্দ বলেন, টেকসই উন্নয়ন এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তারা উল্লেখ করেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে স্থানীয় সরকারের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব হবে। নারীরা সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থেই অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে বক্তারা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি নারীদের জন্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তৃণমূল জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং নেতৃত্ব বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তাদের মতে, নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি সত্যিকারের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং উন্নত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।

আরোও পড়ুন – কেরানীগঞ্জে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ২০২৬ অনুষ্ঠিত, নৈতিক শিক্ষা জোরদারে গুরুত্বারোপ

বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি: নিপুণ রায় চৌধুরী

জুন ২৪, ২০২৬

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টারঃ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীর অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব: প্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক। ‘বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক’ ঢাকা অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, যা একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতেই হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নারীরা দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে স্থানীয় সরকারসহ সকল পর্যায়ের নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা শুধু সংরক্ষিত আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন নির্বাচনে সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তারা মত দেন যে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কেবল নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমেও বাস্তবায়িত হতে পারে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পদে তাদের অন্তর্ভুক্তি জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিপুণ রায় চৌধুরী আরও বলেন, “বিএনপি সবসময় নারী নেতৃত্বের বিকাশে বিশ্বাসী। যোগ্য, দক্ষ এবং ত্যাগী নারী নেত্রীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। নির্বাচনী পরিবেশ নারীবান্ধব ও নিরাপদ করতে হবে, যাতে নারীরা ভয়ভীতি কিংবা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।” তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নারীদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এখনও নানা সামাজিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও বেগবান করতে হবে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নারী জনপ্রতিনিধিরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সামাজিক কুসংস্কার এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ অনেক সময় নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা মনে করেন, নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব বিকাশে সামাজিক সহযোগিতা ও পারিবারিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আলোচনা সভার সভাপতি ও সঞ্চালকবৃন্দ বলেন, টেকসই উন্নয়ন এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তারা উল্লেখ করেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে স্থানীয় সরকারের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব হবে। নারীরা সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থেই অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে বক্তারা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি নারীদের জন্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তৃণমূল জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং নেতৃত্ব বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তাদের মতে, নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি সত্যিকারের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং উন্নত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।

আরোও পড়ুন – কেরানীগঞ্জে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ২০২৬ অনুষ্ঠিত, নৈতিক শিক্ষা জোরদারে গুরুত্বারোপ