আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

ইমরান হোসেন, (কুষ্টিয়া)

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নাশকতা ও অপতৎপরতার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া শহরে জামায়াতের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ঝটিকা মিছিলের কারণে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে দলটির নেতারা বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন।

কুষ্টিয়া শহরের সাদ্দামবাজার মোড় থেকে শুরু হওয়া জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এনএস রোডের সিঙ্গার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের দাবির পক্ষে ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করেন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ কর্মসূচিটি পর্যবেক্ষণ করেন। মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য দেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতাও লক্ষ্য করা যায়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার, কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমীর এনামুল হক, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শরিফুল ইসলাম, শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর আজমল হক এবং শহর জামায়াতের সেক্রেটারি শামীম হুসাইন। বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর কিছু কর্মকাণ্ড জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তারা অভিযোগ করেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

বক্তারা আরও বলেন, অতীতে সংঘটিত গুম, খুন, অর্থপাচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। তাদের বক্তব্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এ সময় তারা রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখারও আহ্বান জানান।

জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শহর ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের মতে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবিগুলো তুলে ধরাই ছিল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। সমাবেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিবর্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন।

কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতের বিক্ষোভ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি জনমতের প্রতিফলন এবং রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দাবি-দাওয়া জনগণের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পায়। তবে যেকোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম যেন শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করছে।

আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আটক, আদালত থেকে কারাগারে প্রেরণ

আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

জুন ২৪, ২০২৬

ইমরান হোসেন, (কুষ্টিয়া)

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নাশকতা ও অপতৎপরতার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া শহরে জামায়াতের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ঝটিকা মিছিলের কারণে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে দলটির নেতারা বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন।

কুষ্টিয়া শহরের সাদ্দামবাজার মোড় থেকে শুরু হওয়া জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এনএস রোডের সিঙ্গার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের দাবির পক্ষে ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করেন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ কর্মসূচিটি পর্যবেক্ষণ করেন। মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য দেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতাও লক্ষ্য করা যায়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার, কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমীর এনামুল হক, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শরিফুল ইসলাম, শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর আজমল হক এবং শহর জামায়াতের সেক্রেটারি শামীম হুসাইন। বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর কিছু কর্মকাণ্ড জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তারা অভিযোগ করেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

বক্তারা আরও বলেন, অতীতে সংঘটিত গুম, খুন, অর্থপাচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। তাদের বক্তব্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এ সময় তারা রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখারও আহ্বান জানান।

জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শহর ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের মতে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবিগুলো তুলে ধরাই ছিল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। সমাবেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিবর্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন।

কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতের বিক্ষোভ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি জনমতের প্রতিফলন এবং রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দাবি-দাওয়া জনগণের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পায়। তবে যেকোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম যেন শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করছে।

আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আটক, আদালত থেকে কারাগারে প্রেরণ