রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবিতে মহানগর বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, নাগরিকদের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) সকালে নগরীর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, নগরবাসীর নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হলে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় মহানগর বিএনপি ছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর শুধু ব্যবস্থা নিলেই হবে না; বরং অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত অভিযান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা বলেন, নিরাপদ নগরী গঠনের জন্য প্রতিটি মহল্লা, বাজার ও জনসমাগমস্থলে নজরদারি বৃদ্ধি জরুরি। এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পাবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “রাজশাহী বরাবরই শান্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির নগরী হিসেবে পরিচিত। এই নগরীর মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে এবং পরিবার নিয়ে নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। তাই আমরা চাই প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুক এবং যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”

তিনি আরও বলেন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নগরীর উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, নগরবাসীর স্বার্থে তারা ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করবেন। কর্মসূচি চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করলে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং নগরবাসী স্বস্তির পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারবেন।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে কার মাইক্রো শ্রমিকদের ৩ দফা দাবি ঘোষণা

রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবিতে মহানগর বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি

জুন ২৩, ২০২৬

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, নাগরিকদের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) সকালে নগরীর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, নগরবাসীর নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হলে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় মহানগর বিএনপি ছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর শুধু ব্যবস্থা নিলেই হবে না; বরং অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত অভিযান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা বলেন, নিরাপদ নগরী গঠনের জন্য প্রতিটি মহল্লা, বাজার ও জনসমাগমস্থলে নজরদারি বৃদ্ধি জরুরি। এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পাবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “রাজশাহী বরাবরই শান্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির নগরী হিসেবে পরিচিত। এই নগরীর মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে এবং পরিবার নিয়ে নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। তাই আমরা চাই প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুক এবং যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”

তিনি আরও বলেন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নগরীর উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, নগরবাসীর স্বার্থে তারা ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করবেন। কর্মসূচি চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করলে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং নগরবাসী স্বস্তির পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারবেন।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে কার মাইক্রো শ্রমিকদের ৩ দফা দাবি ঘোষণা