কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে মিনিবাস দুর্ঘটনা, আহত ৬ | ৪ জনের অবস্থা গুরুতর

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কাউছার উদ্দিন হৃদয়ঃ

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দমদমিয়া এলাকায় ভয়াবহ মিনিবাস দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস সড়কের পাশের ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে গেলে অন্তত ৬ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া কেয়ারী গার্ড সংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত মিনিবাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর কক্সবাজার জ-১১-০২৩২। এটি পায়রা সার্ভিসের কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস ছিল। বাসটিতে প্রায় ১৬ জন যাত্রী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনার সময় অনেক যাত্রী আসনে বসা অবস্থায় ছিলেন। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকে পড়েন এবং তাদের উদ্ধারে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। এই মিনিবাস দুর্ঘটনা এলাকায় চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আহতদের মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের দুইজন রোহিঙ্গা নাগরিক এবং টেকনাফ ও দমদমিয়া এলাকার চারজন বাসিন্দা রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আয়ুব জানান, মিনিবাসটি তুলনামূলক দ্রুতগতিতে চলছিল। ব্রিজের নিকটবর্তী একটি বাঁক অতিক্রম করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে গাড়িটি সোজা গিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন এবং আহত যাত্রীদের উদ্ধার শুরু করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের মিনিবাস দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। একই সঙ্গে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনে। উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশংসিত হয়েছে। আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার জামিম মিয়া জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বাসে আটকে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয় এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই মিনিবাস দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের বিভিন্ন বাঁক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং গতিনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।

আরোও পড়ুন – টেকনাফে ইয়াবা জব্দ: বিদেশী রাইফেলসহ ৭০ হাজার পিস উদ্ধার করলো কোস্ট গার্ড

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে মিনিবাস দুর্ঘটনা, আহত ৬ | ৪ জনের অবস্থা গুরুতর

জুন ২৩, ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কাউছার উদ্দিন হৃদয়ঃ

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দমদমিয়া এলাকায় ভয়াবহ মিনিবাস দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস সড়কের পাশের ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে গেলে অন্তত ৬ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া কেয়ারী গার্ড সংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত মিনিবাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর কক্সবাজার জ-১১-০২৩২। এটি পায়রা সার্ভিসের কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস ছিল। বাসটিতে প্রায় ১৬ জন যাত্রী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনার সময় অনেক যাত্রী আসনে বসা অবস্থায় ছিলেন। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকে পড়েন এবং তাদের উদ্ধারে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। এই মিনিবাস দুর্ঘটনা এলাকায় চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আহতদের মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের দুইজন রোহিঙ্গা নাগরিক এবং টেকনাফ ও দমদমিয়া এলাকার চারজন বাসিন্দা রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আয়ুব জানান, মিনিবাসটি তুলনামূলক দ্রুতগতিতে চলছিল। ব্রিজের নিকটবর্তী একটি বাঁক অতিক্রম করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে গাড়িটি সোজা গিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন এবং আহত যাত্রীদের উদ্ধার শুরু করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের মিনিবাস দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। একই সঙ্গে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনে। উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশংসিত হয়েছে। আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার জামিম মিয়া জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বাসে আটকে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয় এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই মিনিবাস দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের বিভিন্ন বাঁক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং গতিনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।

আরোও পড়ুন – টেকনাফে ইয়াবা জব্দ: বিদেশী রাইফেলসহ ৭০ হাজার পিস উদ্ধার করলো কোস্ট গার্ড