মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নজরুল বর্ষ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশব্যাপী বছরব্যাপী নানা কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে দেশের ৬৪ জেলা ও নির্বাচিত ৭৪ উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই সময়ে রাজশাহীতেও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য, সংগীত, নাটক, প্রবন্ধ ও মানবিক আদর্শকে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই বছরব্যাপী এ আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার রেজাউল আলম সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নজরুল বর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবির রচনা থেকে আবৃত্তি, নজরুলসংগীত পরিবেশনা এবং তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি মানবতা, সাম্য, সম্প্রীতি ও স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বর্তমান প্রজন্মকে নজরুলচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, সংগীতানুষ্ঠান, বই প্রদর্শনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচি এবং গবেষণাধর্মী বিভিন্ন আয়োজন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে নজরুল বর্ষ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বছরব্যাপী এই কর্মসূচি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন নতুন করে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে কার মাইক্রো শ্রমিকদের ৩ দফা দাবি ঘোষণা
রাজশাহীতে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে শুরু বছরব্যাপী আয়োজন
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নজরুল বর্ষ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশব্যাপী বছরব্যাপী নানা কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে দেশের ৬৪ জেলা ও নির্বাচিত ৭৪ উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই সময়ে রাজশাহীতেও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য, সংগীত, নাটক, প্রবন্ধ ও মানবিক আদর্শকে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই বছরব্যাপী এ আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার রেজাউল আলম সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নজরুল বর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবির রচনা থেকে আবৃত্তি, নজরুলসংগীত পরিবেশনা এবং তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি মানবতা, সাম্য, সম্প্রীতি ও স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বর্তমান প্রজন্মকে নজরুলচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, সংগীতানুষ্ঠান, বই প্রদর্শনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচি এবং গবেষণাধর্মী বিভিন্ন আয়োজন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে নজরুল বর্ষ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বছরব্যাপী এই কর্মসূচি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন নতুন করে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে কার মাইক্রো শ্রমিকদের ৩ দফা দাবি ঘোষণা