সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ
মহেশপুর পৌরসভার ৪২ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন মেগা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার শিডিউলের নিয়ম না মেনে নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করেও ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা একটি বিল অনুমোদনের জন্য মহেশপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের কাছে পাঠান। বিলে বিভিন্ন অসংগতি থাকায় তিনি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা কার্যালয়ের নকশাকার তরিকুল ইসলামের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কক্ষে তালা লাগানো হয় এবং অফিস সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত তা খোলা হয়নি। ফলে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসের বারান্দায় অপেক্ষা করে শেষে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম।
মহেশপুর পৌরসভার ৪২ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, রাস্তা কার্পেটিং এবং বাজার এলাকার সড়ক আরসিসিকরণের কাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী সোহেল রানার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ঠিকাদাররা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেও বিল উত্তোলন করছেন। এছাড়া প্রতিটি বিল ছাড় করতে ২ শতাংশ হারে কমিশন বা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
এদিকে প্রকল্প এলাকায় এখনো কোনো তথ্যসম্বলিত বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়নি। অথচ ৩০ জুনের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, মহেশপুর পৌরসভার সামনের একটি সড়ক এবং বাজার এলাকার টেন্ডারভুক্ত রাস্তা একাধিকবার সংস্কার দেখিয়ে ভুয়া বিলের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ঠিকাদারদের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া পৌরসভার নকশাকারকে দিয়ে অবৈধভাবে সিল-স্বাক্ষর করিয়ে ভুয়া মেমো ও ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এসব বিলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরকারি অফিসে কোনো কর্মকর্তার কক্ষে তালা লাগানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
আরোও পড়ুন – মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান: ৪ জনের জেল-জরিমানা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর বার্তা
মহেশপুর পৌরসভায় ৪২ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ
সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ
মহেশপুর পৌরসভার ৪২ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন মেগা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার শিডিউলের নিয়ম না মেনে নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করেও ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা একটি বিল অনুমোদনের জন্য মহেশপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের কাছে পাঠান। বিলে বিভিন্ন অসংগতি থাকায় তিনি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা কার্যালয়ের নকশাকার তরিকুল ইসলামের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কক্ষে তালা লাগানো হয় এবং অফিস সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত তা খোলা হয়নি। ফলে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসের বারান্দায় অপেক্ষা করে শেষে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম।
মহেশপুর পৌরসভার ৪২ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, রাস্তা কার্পেটিং এবং বাজার এলাকার সড়ক আরসিসিকরণের কাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী সোহেল রানার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ঠিকাদাররা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেও বিল উত্তোলন করছেন। এছাড়া প্রতিটি বিল ছাড় করতে ২ শতাংশ হারে কমিশন বা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
এদিকে প্রকল্প এলাকায় এখনো কোনো তথ্যসম্বলিত বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়নি। অথচ ৩০ জুনের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, মহেশপুর পৌরসভার সামনের একটি সড়ক এবং বাজার এলাকার টেন্ডারভুক্ত রাস্তা একাধিকবার সংস্কার দেখিয়ে ভুয়া বিলের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ঠিকাদারদের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া পৌরসভার নকশাকারকে দিয়ে অবৈধভাবে সিল-স্বাক্ষর করিয়ে ভুয়া মেমো ও ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এসব বিলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরকারি অফিসে কোনো কর্মকর্তার কক্ষে তালা লাগানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
আরোও পড়ুন – মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান: ৪ জনের জেল-জরিমানা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর বার্তা