কালিয়াকৈরে জামায়াতের অনুষ্ঠান: গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে দোয়া, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টারঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার ফ্লাইওভারের নিচে গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দোয়া, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এ জামায়াতের অনুষ্ঠান ঘিরে নেতাকর্মী, সমর্থক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত, আহত ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলার আমির ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া জেলা ও কালিয়াকৈর উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবির এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের অনুষ্ঠানে বক্তারা গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি, আন্দোলনের তাৎপর্য এবং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর গুম, খুন, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার বা গোষ্ঠী একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতের অনুষ্ঠান থেকে তারা জাতীয় ঐক্য, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, শরীফ, ওসমান হাদীসহ আন্দোলনে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে আহত ও স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণকারী ব্যক্তিদের সুস্থতা এবং নিহতদের পরিবারের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা কামনা করেন। বক্তারা বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

বাদ আসরের পর আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ মাগরিব শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে জুলাই জাগরণ সংস্কৃতি, দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ, সায়মুম শিল্পী গোষ্ঠীসহ গাজীপুর জেলা ও কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা সংগীত, ইসলামি গজল, কবিতা আবৃত্তি, শিক্ষামূলক নাটক ও কৌতুক পরিবেশন করেন। জামায়াতের অনুষ্ঠানের এই পর্বে গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় এবং নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকদের ভাষ্য, শহীদদের স্মরণ, ইতিহাস সংরক্ষণ এবং জাতীয় চেতনা জাগ্রত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তারা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হবে। জামায়াতের অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং সবার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা এটিকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় জামায়াত নেতা শাহজাহান আলী মোল্লার ইন্তেকাল, জানাজা শেষে দাফন

কালিয়াকৈরে জামায়াতের অনুষ্ঠান: গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে দোয়া, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

জুলাই ১৮, ২০২৬

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টারঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার ফ্লাইওভারের নিচে গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দোয়া, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এ জামায়াতের অনুষ্ঠান ঘিরে নেতাকর্মী, সমর্থক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত, আহত ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলার আমির ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া জেলা ও কালিয়াকৈর উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবির এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের অনুষ্ঠানে বক্তারা গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি, আন্দোলনের তাৎপর্য এবং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর গুম, খুন, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার বা গোষ্ঠী একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতের অনুষ্ঠান থেকে তারা জাতীয় ঐক্য, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, শরীফ, ওসমান হাদীসহ আন্দোলনে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে আহত ও স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণকারী ব্যক্তিদের সুস্থতা এবং নিহতদের পরিবারের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা কামনা করেন। বক্তারা বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

বাদ আসরের পর আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ মাগরিব শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে জুলাই জাগরণ সংস্কৃতি, দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ, সায়মুম শিল্পী গোষ্ঠীসহ গাজীপুর জেলা ও কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা সংগীত, ইসলামি গজল, কবিতা আবৃত্তি, শিক্ষামূলক নাটক ও কৌতুক পরিবেশন করেন। জামায়াতের অনুষ্ঠানের এই পর্বে গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় এবং নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকদের ভাষ্য, শহীদদের স্মরণ, ইতিহাস সংরক্ষণ এবং জাতীয় চেতনা জাগ্রত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তারা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হবে। জামায়াতের অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং সবার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা এটিকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় জামায়াত নেতা শাহজাহান আলী মোল্লার ইন্তেকাল, জানাজা শেষে দাফন