চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

মোঃ আক্তার হোসেন বাবলু (ক্রাইম রিপোর্টার)

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকালে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়। কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন চুয়াডাঙ্গার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। বড় পর্দায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্য এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা বলেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এ জন্য সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। বিশেষ করে বৃষ্টির পর কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই ঘর ও কর্মস্থলের আশপাশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এজন্য শুধু মশা নিধনের ওপর নির্ভর না করে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের চলমান তিন মাসের কর্মসূচিতে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গাতেও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ির ভেতরে ও বাইরে এমন কোনো পাত্র রাখা উচিত নয়, যেখানে বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকতে পারে। একইভাবে নির্মাণাধীন ভবন, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, খেলার মাঠ ও আশপাশের খোলা জায়গাতেও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও প্রয়োজন।

চুয়াডাঙ্গার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যদের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক বার্তা আরও বিস্তৃত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করলে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে আবর্জনা অপসারণ, পানি জমার স্থান চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। জাতীয় কর্মসূচির নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী কয়েক মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর সময়কে ডেঙ্গুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য খাতের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন। এ কারণে চুয়াডাঙ্গার মতো জেলা পর্যায়েও স্থানীয়ভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু ফগিং বা কীটনাশক প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে পানি জমতে না দেওয়া, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসইভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও নিজ নিজ এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চুয়াডাঙ্গায় মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসব্যাপী কর্মসূচি, ফগার স্প্রে ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

মোঃ আক্তার হোসেন বাবলু (ক্রাইম রিপোর্টার)

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকালে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়। কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন চুয়াডাঙ্গার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। বড় পর্দায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্য এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা বলেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এ জন্য সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। বিশেষ করে বৃষ্টির পর কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই ঘর ও কর্মস্থলের আশপাশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এজন্য শুধু মশা নিধনের ওপর নির্ভর না করে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের চলমান তিন মাসের কর্মসূচিতে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গাতেও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ির ভেতরে ও বাইরে এমন কোনো পাত্র রাখা উচিত নয়, যেখানে বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকতে পারে। একইভাবে নির্মাণাধীন ভবন, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, খেলার মাঠ ও আশপাশের খোলা জায়গাতেও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও প্রয়োজন।

চুয়াডাঙ্গার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যদের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক বার্তা আরও বিস্তৃত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করলে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে আবর্জনা অপসারণ, পানি জমার স্থান চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। জাতীয় কর্মসূচির নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী কয়েক মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর সময়কে ডেঙ্গুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য খাতের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন। এ কারণে চুয়াডাঙ্গার মতো জেলা পর্যায়েও স্থানীয়ভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু ফগিং বা কীটনাশক প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে পানি জমতে না দেওয়া, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসইভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও নিজ নিজ এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চুয়াডাঙ্গায় মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসব্যাপী কর্মসূচি, ফগার স্প্রে ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু