কোম্পানীগঞ্জে জেলা প্রশাসকের অভিযান: শাহ আরেফিন টিলায় ৬ লিস্টার মেশিন আগুনে ধ্বংস

সেলিম মাহবুব, ছাতকঃ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক শাহ আরেফিন টিলা এখন পাথরখেকোদের আগ্রাসনে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত। এক সময় ধর্মীয় স্মৃতিবাহী এ স্থানটি এখন ক্ষতবিক্ষত ও কঙ্কালসার ভূমিতে পরিণত হয়েছে। শত শত বছর আগে হযরত শাহ জালাল (রহ.) এর সফরসঙ্গী হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) এখানে অবস্থান করেছিলেন। সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্থানীয়রা টিলার নাম দেন শাহ আরেফিন টিলা, যা পরে শাহ আরেফিন মোকাম নামে পরিচিত হয়। প্রতি বছর এখানে হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান ওরস মাহফিলে অংশ নিতেন।

১৩৭.৫০ একর আয়তনের এই টিলা একসময় ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক হলেও প্রায় তিন দশক আগে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে এর পতন শুরু হয়। তারা টিলা কেটে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন শুরু করে। ধীরে ধীরে টিলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। ২০১৬ সালে প্রশাসন পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা উপেক্ষা করে চক্রটি অবৈধভাবে পাথর তোলার কাজ অব্যাহত রাখে।

সম্প্রতি জেলার অন্যান্য কোয়ারিতে প্রশাসনের কঠোর অভিযান চালিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা হলেও শাহ আরেফিন টিলায় এখনও চলছে অবৈধ কার্যক্রম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে টিলা কেটে গভীর গর্ত তৈরি করে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট পাথর উত্তোলন করে পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযান: ৫০০ গ্রাম গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

এই পরিস্থিতিতে সোমবার জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে টিলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাথর উত্তোলনের প্রমাণ মিললেও কেউ আটক হয়নি। এ সময় প্রশাসন পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ৬টি লিস্টার মেশিন জব্দ করে আগুন দিয়ে ধ্বংস করে দেয়।

জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম জানান, শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংস করে পাথর লুটের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা এই অপরাধে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন থেকে টিলা থেকে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

কোম্পানীগঞ্জে জেলা প্রশাসকের অভিযান: শাহ আরেফিন টিলায় ৬ লিস্টার মেশিন আগুনে ধ্বংস

নভেম্বর ১২, ২০২৫

সেলিম মাহবুব, ছাতকঃ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক শাহ আরেফিন টিলা এখন পাথরখেকোদের আগ্রাসনে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত। এক সময় ধর্মীয় স্মৃতিবাহী এ স্থানটি এখন ক্ষতবিক্ষত ও কঙ্কালসার ভূমিতে পরিণত হয়েছে। শত শত বছর আগে হযরত শাহ জালাল (রহ.) এর সফরসঙ্গী হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) এখানে অবস্থান করেছিলেন। সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্থানীয়রা টিলার নাম দেন শাহ আরেফিন টিলা, যা পরে শাহ আরেফিন মোকাম নামে পরিচিত হয়। প্রতি বছর এখানে হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান ওরস মাহফিলে অংশ নিতেন।

১৩৭.৫০ একর আয়তনের এই টিলা একসময় ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক হলেও প্রায় তিন দশক আগে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে এর পতন শুরু হয়। তারা টিলা কেটে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন শুরু করে। ধীরে ধীরে টিলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। ২০১৬ সালে প্রশাসন পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা উপেক্ষা করে চক্রটি অবৈধভাবে পাথর তোলার কাজ অব্যাহত রাখে।

সম্প্রতি জেলার অন্যান্য কোয়ারিতে প্রশাসনের কঠোর অভিযান চালিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা হলেও শাহ আরেফিন টিলায় এখনও চলছে অবৈধ কার্যক্রম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে টিলা কেটে গভীর গর্ত তৈরি করে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট পাথর উত্তোলন করে পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযান: ৫০০ গ্রাম গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

এই পরিস্থিতিতে সোমবার জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে টিলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাথর উত্তোলনের প্রমাণ মিললেও কেউ আটক হয়নি। এ সময় প্রশাসন পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ৬টি লিস্টার মেশিন জব্দ করে আগুন দিয়ে ধ্বংস করে দেয়।

জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম জানান, শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংস করে পাথর লুটের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা এই অপরাধে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন থেকে টিলা থেকে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।