শীতের শুরুতেই কলকাতার পার্কে ভিনদেশীদের শীতবস্ত্রের রঙিন মেলা, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গঃ

আজ ১৫ নভেম্বর শনিবার। শীতের হালকা আমেজ পড়তেই কলকাতার পার্কগুলো রীতিমতো উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে ভিনদেশী বিক্রেতাদের শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসাকে ঘিরে। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, হিমাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা, নেপাল ও চায়না থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও তারা কলকাতায় এসে নিজেদের হাতের তৈরি ও দেশিয় শীতের পোশাক নিয়ে মেলা বসিয়েছেন। নভেম্বরের শুরুতেই এই আয়োজন শুরু হয়েছে এবং জানুয়ারি পর্যন্ত তারা কলকাতার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে ব্যবসা পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

শহরের সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, বিডন স্ট্রিট, ধর্মতলা ও আরও কয়েকটি পার্কে এখন শীতের পোশাকের জমজমাট পরিবেশ। দেখা মিলছে রঙিন টুপি, সোয়েটার, কার্ডিগান, জ্যাকেট, শাল, কম্বল, মোজা, গ্লাভসসহ নানান শীতবস্ত্রের। ছোটদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় ডিজাইনের পোশাক, আর বড়দের জন্য রয়েছে ট্রেন্ডি গরম জামা ও শ্রেণিভেদে বিভিন্ন মানের পণ্য। বিক্রেতারা জানান, তারা পাহাড়ি অঞ্চল ও নিজেদের দেশ থেকে সংগ্রহ করে আনা বিভিন্ন ধরনের নতুন ডিজাইনের গরম পোশাক দোকানদারদের তুলনায় কম দামে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

আরোও পড়ুন – গ্রামের মেয়ে নন্দিতা দাস যোগা প্রতিযোগিতায় বহু সম্মানে ভূষিত

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের দোকান বা শোরুমে একই ধরনের পোশাক কিনতে বেশি দাম দিতে হলেও এই মেলাগুলোতে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায়। অনেক ক্রেতাই বলেন, ভিনদেশীদের স্টলে তাদের দেশের নতুন ফ্যাশনের পোশাক পাওয়া যায়, যা কলকাতার বাজারে পাওয়া যায় না বা হলেও দাম অনেক বেশি। ফলে কেনাকাটায় এই স্টলগুলো প্রতি বছরই ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

বিক্রেতাদের দাবি, ছোটদের গরম পোশাক ৩০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ২০০০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। বড়দের গরম পোশাকের দাম ৬০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে মান, কাপড়ের গুণগত মান ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে কয়েক হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। পুরো মেলায় রয়েছে ৫০ থেকে ৬০টি স্টল, প্রতিটি স্টলে ভিড় লেগেই থাকে। সকালের দিকে তুলনামূলক ভিড় কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

আরোও পড়ুন – মান্দার মৈনম গ্রামের আড়াইশ বছরের রায় বাড়ি: ইতিহাস, গৌরব ও বেদনার জীবন্ত সাক্ষ্য

নভেম্বরের শুরু থেকে কলকাতার মানুষ শীতের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন, আর সেই প্রস্তুতির অন্যতম সঙ্গী হয়ে ওঠে এই ভিনদেশী বিক্রেতাদের শীতের বাজার। তাদের সাজানো রঙিন পোশাক, ভিন্ন সংস্কৃতির ছোঁয়া এবং হাতের কাজের নিপুণতা শহরের মানুষকে প্রতি বছরই আকর্ষণ করে। সব মিলিয়ে, শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে কলকাতায় বসে গেছে মৌসুমি এক প্রাণবন্ত মেলা, যা শহরের ঐতিহ্যেরই অংশ হয়ে উঠেছে।

শীতের শুরুতেই কলকাতার পার্কে ভিনদেশীদের শীতবস্ত্রের রঙিন মেলা, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

নভেম্বর ১৬, ২০২৫

সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গঃ

আজ ১৫ নভেম্বর শনিবার। শীতের হালকা আমেজ পড়তেই কলকাতার পার্কগুলো রীতিমতো উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে ভিনদেশী বিক্রেতাদের শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসাকে ঘিরে। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, হিমাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা, নেপাল ও চায়না থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও তারা কলকাতায় এসে নিজেদের হাতের তৈরি ও দেশিয় শীতের পোশাক নিয়ে মেলা বসিয়েছেন। নভেম্বরের শুরুতেই এই আয়োজন শুরু হয়েছে এবং জানুয়ারি পর্যন্ত তারা কলকাতার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে ব্যবসা পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

শহরের সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, বিডন স্ট্রিট, ধর্মতলা ও আরও কয়েকটি পার্কে এখন শীতের পোশাকের জমজমাট পরিবেশ। দেখা মিলছে রঙিন টুপি, সোয়েটার, কার্ডিগান, জ্যাকেট, শাল, কম্বল, মোজা, গ্লাভসসহ নানান শীতবস্ত্রের। ছোটদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় ডিজাইনের পোশাক, আর বড়দের জন্য রয়েছে ট্রেন্ডি গরম জামা ও শ্রেণিভেদে বিভিন্ন মানের পণ্য। বিক্রেতারা জানান, তারা পাহাড়ি অঞ্চল ও নিজেদের দেশ থেকে সংগ্রহ করে আনা বিভিন্ন ধরনের নতুন ডিজাইনের গরম পোশাক দোকানদারদের তুলনায় কম দামে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

আরোও পড়ুন – গ্রামের মেয়ে নন্দিতা দাস যোগা প্রতিযোগিতায় বহু সম্মানে ভূষিত

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের দোকান বা শোরুমে একই ধরনের পোশাক কিনতে বেশি দাম দিতে হলেও এই মেলাগুলোতে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায়। অনেক ক্রেতাই বলেন, ভিনদেশীদের স্টলে তাদের দেশের নতুন ফ্যাশনের পোশাক পাওয়া যায়, যা কলকাতার বাজারে পাওয়া যায় না বা হলেও দাম অনেক বেশি। ফলে কেনাকাটায় এই স্টলগুলো প্রতি বছরই ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

বিক্রেতাদের দাবি, ছোটদের গরম পোশাক ৩০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ২০০০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। বড়দের গরম পোশাকের দাম ৬০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে মান, কাপড়ের গুণগত মান ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে কয়েক হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। পুরো মেলায় রয়েছে ৫০ থেকে ৬০টি স্টল, প্রতিটি স্টলে ভিড় লেগেই থাকে। সকালের দিকে তুলনামূলক ভিড় কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

আরোও পড়ুন – মান্দার মৈনম গ্রামের আড়াইশ বছরের রায় বাড়ি: ইতিহাস, গৌরব ও বেদনার জীবন্ত সাক্ষ্য

নভেম্বরের শুরু থেকে কলকাতার মানুষ শীতের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন, আর সেই প্রস্তুতির অন্যতম সঙ্গী হয়ে ওঠে এই ভিনদেশী বিক্রেতাদের শীতের বাজার। তাদের সাজানো রঙিন পোশাক, ভিন্ন সংস্কৃতির ছোঁয়া এবং হাতের কাজের নিপুণতা শহরের মানুষকে প্রতি বছরই আকর্ষণ করে। সব মিলিয়ে, শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে কলকাতায় বসে গেছে মৌসুমি এক প্রাণবন্ত মেলা, যা শহরের ঐতিহ্যেরই অংশ হয়ে উঠেছে।