নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের তিন কর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের কর্মীদের আটক করা হয়েছে, যা চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন মহলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সংগঠনের তথ্যমতে, শনিবার রাতে রাজপাড়া থানা পুলিশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাজশাহী মহানগরীর তিন কর্মী চাঁদ সওদাগর, মুরাদ ও বিদ্যুৎকে তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সংগঠনটির দাবি, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শ্রমিক রাজনীতিকে দমিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছে।
নেতৃত্ব পর্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকা এবং সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই গ্রেপ্তারের মূল কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই কি এখন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংগঠনটির বিবৃতিতে অতীতের ঘটনাপ্রবাহও তুলে ধরা হয়। উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী সরকারের সময়েও চাঁদ সওদাগর একাধিক রাজনৈতিক মামলার শিকার হন এবং দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়। সে সময় তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও উঠে। এমনকি কারাবন্দি অবস্থায় তার কন্যার মৃত্যুর সময় পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ার ঘটনাও মানবিক দিক থেকে গভীর ক্ষোভের জন্ম দেয় বলে মনে করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দাবি, আটককৃত কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো থানায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা অপরাধমূলক কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট মামলা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। যেসব মামলার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়ের করা কিংবা আন্দোলনকালীন সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এ ঘটনায় সংগঠনটি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইন প্রয়োগ করা হয় এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি না করা হয়। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে, যেসব কর্মকর্তা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মালেকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশের পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
রাজপাড়া থানার অভিযানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের তিন কর্মী আটক, প্রশ্নে আইনশৃঙ্খলা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের তিন কর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের কর্মীদের আটক করা হয়েছে, যা চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন মহলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সংগঠনের তথ্যমতে, শনিবার রাতে রাজপাড়া থানা পুলিশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাজশাহী মহানগরীর তিন কর্মী চাঁদ সওদাগর, মুরাদ ও বিদ্যুৎকে তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সংগঠনটির দাবি, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শ্রমিক রাজনীতিকে দমিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছে।
নেতৃত্ব পর্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকা এবং সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই গ্রেপ্তারের মূল কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই কি এখন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংগঠনটির বিবৃতিতে অতীতের ঘটনাপ্রবাহও তুলে ধরা হয়। উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী সরকারের সময়েও চাঁদ সওদাগর একাধিক রাজনৈতিক মামলার শিকার হন এবং দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়। সে সময় তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও উঠে। এমনকি কারাবন্দি অবস্থায় তার কন্যার মৃত্যুর সময় পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ার ঘটনাও মানবিক দিক থেকে গভীর ক্ষোভের জন্ম দেয় বলে মনে করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দাবি, আটককৃত কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো থানায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা অপরাধমূলক কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট মামলা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। যেসব মামলার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়ের করা কিংবা আন্দোলনকালীন সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এ ঘটনায় সংগঠনটি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইন প্রয়োগ করা হয় এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি না করা হয়। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে, যেসব কর্মকর্তা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মালেকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশের পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।