লামায় গণধর্ষণ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

হাফিজুর রহমান রাজীব,লামা উপজেলা প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের লামায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গণধর্ষণ মামলার আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে লামা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজন গণধর্ষণ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং অপর দুজন নিয়মিত মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) লামা থানা এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিধি অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদের তত্ত্বাবধানে রোববার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় জড়িত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। এ অভিযানের অংশ হিসেবে লামা থানার এএসআই (নিরস্ত্র) মো. রায়হান উদ্দীন অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে গণধর্ষণ মামলার আসামি মো. ইউছুপ প্রকাশ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মো. ইউছুপ প্রকাশ মামুন লামা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাইনঝিরি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ওই এলাকার মো. জাকের হোসেন কবিরের ছেলে। গণধর্ষণ মামলায় পরোয়ানাভুক্ত থাকায় তাকে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলাটির অভিযোগের বিস্তারিত ঘটনা বা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো তথ্য পুলিশ সূত্রে এ প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যেসব তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপিত হবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।

এদিকে একই বিশেষ অভিযানে লামা থানার নিয়মিত মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাদের নাম বা মামলার বিস্তারিত তথ্য এ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তাদের বিধি অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিযানে বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

লামা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান চালানো হবে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববারের অভিযানে গণধর্ষণ মামলার আসামি মো. ইউছুপ প্রকাশ মামুনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যায় না; আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। তবে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত গণধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি লামা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে উঠে এসেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

লামা থানা পুলিশের এই অভিযানের মাধ্যমে একদিকে যেমন একটি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদিকে নিয়মিত মামলার আরও দুই আসামিকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতা এবং মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে লামা থানা পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরোও পড়ুন – লামাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে লামাবাসীর খোলা চিঠি

লামায় গণধর্ষণ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

আগস্ট ২৪, ২০২৬

হাফিজুর রহমান রাজীব,লামা উপজেলা প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের লামায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গণধর্ষণ মামলার আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে লামা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজন গণধর্ষণ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং অপর দুজন নিয়মিত মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) লামা থানা এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিধি অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদের তত্ত্বাবধানে রোববার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় জড়িত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। এ অভিযানের অংশ হিসেবে লামা থানার এএসআই (নিরস্ত্র) মো. রায়হান উদ্দীন অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে গণধর্ষণ মামলার আসামি মো. ইউছুপ প্রকাশ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মো. ইউছুপ প্রকাশ মামুন লামা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাইনঝিরি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ওই এলাকার মো. জাকের হোসেন কবিরের ছেলে। গণধর্ষণ মামলায় পরোয়ানাভুক্ত থাকায় তাকে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলাটির অভিযোগের বিস্তারিত ঘটনা বা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো তথ্য পুলিশ সূত্রে এ প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যেসব তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপিত হবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।

এদিকে একই বিশেষ অভিযানে লামা থানার নিয়মিত মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাদের নাম বা মামলার বিস্তারিত তথ্য এ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তাদের বিধি অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিযানে বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

লামা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান চালানো হবে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববারের অভিযানে গণধর্ষণ মামলার আসামি মো. ইউছুপ প্রকাশ মামুনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যায় না; আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। তবে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত গণধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি লামা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে উঠে এসেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

লামা থানা পুলিশের এই অভিযানের মাধ্যমে একদিকে যেমন একটি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদিকে নিয়মিত মামলার আরও দুই আসামিকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতা এবং মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে লামা থানা পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরোও পড়ুন – লামাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে লামাবাসীর খোলা চিঠি