আনোয়ারুল ইসলাম রনি, (রংপুর)
রংপুরের চার খুনের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত এবং দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে হত্যার পেছনে আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
সোমবার বিকেলে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথি, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও তদন্তসংক্রান্ত কাগজপত্র নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। পরে পুরোনো ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী এখন মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে আলামত, সাক্ষ্য, আসামিদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নতুন করে বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের জবানবন্দিতে কী কী তথ্য এসেছে, তার সবকিছু তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করেনি পুলিশ। ফলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন দুই অভিযুক্ত। বিষয়টি গণপতি দেখে ফেলেন এবং বাধা দেন। এরপর তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে নিহতের স্বজন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়, হত্যাকাণ্ডের পদ্ধতি এবং চারজনকে দুজনের পক্ষে হত্যা করা সম্ভব কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাই রংপুরের চার খুনের তদন্তে ডিবির নতুন দায়িত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রংপুরের চার খুন ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হওয়ায় তাঁর সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সোমবার জিলা স্কুলের সামনে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান। একই দিনে নগরীতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলের খবরও পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও পুলিশের বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ফলে তদন্তের ওপর জনআস্থা ফেরানোও পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডিবির হাতে তদন্ত যাওয়ার পর এখন ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক পরীক্ষার ফল, সাক্ষীদের বক্তব্য, আসামিদের জবানবন্দি এবং সম্ভাব্য আর্থিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে হত্যার সময়রেখা, বাড়িতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণও তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে। পুলিশের ভাষ্য ও স্বজনদের প্রশ্ন—দুই দিকই যাচাই করে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই এখন তদন্তের মূল চ্যালেঞ্জ। রংপুরের চার খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে ডিবির তদন্তে নতুন কোনো তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর সবার।
আরোও পড়ুন – রংপুরে নির্জন সড়কে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের চার খুনের তদন্তভার গেল ডিবির হাতে
আনোয়ারুল ইসলাম রনি, (রংপুর)
রংপুরের চার খুনের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত এবং দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে হত্যার পেছনে আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
সোমবার বিকেলে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথি, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও তদন্তসংক্রান্ত কাগজপত্র নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। পরে পুরোনো ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী এখন মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে আলামত, সাক্ষ্য, আসামিদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নতুন করে বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের জবানবন্দিতে কী কী তথ্য এসেছে, তার সবকিছু তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করেনি পুলিশ। ফলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন দুই অভিযুক্ত। বিষয়টি গণপতি দেখে ফেলেন এবং বাধা দেন। এরপর তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে নিহতের স্বজন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়, হত্যাকাণ্ডের পদ্ধতি এবং চারজনকে দুজনের পক্ষে হত্যা করা সম্ভব কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাই রংপুরের চার খুনের তদন্তে ডিবির নতুন দায়িত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রংপুরের চার খুন ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হওয়ায় তাঁর সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সোমবার জিলা স্কুলের সামনে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান। একই দিনে নগরীতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলের খবরও পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও পুলিশের বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ফলে তদন্তের ওপর জনআস্থা ফেরানোও পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডিবির হাতে তদন্ত যাওয়ার পর এখন ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক পরীক্ষার ফল, সাক্ষীদের বক্তব্য, আসামিদের জবানবন্দি এবং সম্ভাব্য আর্থিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে হত্যার সময়রেখা, বাড়িতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণও তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে। পুলিশের ভাষ্য ও স্বজনদের প্রশ্ন—দুই দিকই যাচাই করে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই এখন তদন্তের মূল চ্যালেঞ্জ। রংপুরের চার খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে ডিবির তদন্তে নতুন কোনো তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর সবার।
আরোও পড়ুন – রংপুরে নির্জন সড়কে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার