আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা। সর্বশেষ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ৮১০ জনে পৌঁছানোর তথ্য এসেছে। একই সঙ্গে তিন হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ধ্বংসস্তূপ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল-তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালে এই দুর্যোগের প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে ৭৮১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীরাও রয়েছেন। ফলে নেপাল-তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত ও উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বুধবারের আকস্মিক দুর্যোগটি শুরু হয় হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে হিমবাহ ও বরফ-শিলা ধসের পর। পাহাড়ি নদী ও উপত্যকায় হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সেতু, সীমান্ত অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশুলি নদী অববাহিকায় ক্ষয়ক্ষতি বিশেষভাবে গুরুতর। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে কর্মীরা আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিই নেপাল-তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ধারকারীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি হলো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল। ত্রিশুলি-৩এসহ কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় শ্রমিকদের আটকে থাকার আশঙ্কায় বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও টানেলের ভেতরে পৌঁছাতে গর্ত তৈরি এবং অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ, কাদা ও পানির কারণে ভেতরে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একই সময়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নেপাল সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও বিশেষায়িত উদ্ধার সহায়তা চেয়েছে। এ কারণে নেপাল-তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।
এদিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চীনের উজান এলাকা থেকে পানির প্রবাহ বাড়ার তথ্য পাওয়ার পর নেপালে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভোতেকোশি নদীর পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে ভূমিধসের কারণে পাহাড়ি এলাকায় অস্থায়ী জলাধার বা হ্রদের মতো পানির স্তর তৈরি হয়েছিল, যা ভেঙে গেলে ফের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
নিখোঁজদের তালিকায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক থাকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। তিব্বতের অংশে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে নেপাল, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অনেকে পর্যটন, তীর্থযাত্রা কিংবা কাজের উদ্দেশ্যে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে নেপালেও কয়েক শ বিদেশি নাগরিকের নিখোঁজ থাকার তথ্য এসেছে। স্বজনরা হাসপাতাল ও উদ্ধারকেন্দ্রে ছবি নিয়ে অপেক্ষা করছেন। নেপাল-তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ মানুষের পরিচয় নিশ্চিত করতে মরদেহ শনাক্তকরণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে।
দুর্যোগের ভয়াবহতায় উদ্ধারকাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি, নতুন ভূমিধস, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকায় উদ্ধারকারীদের প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিভিন্ন স্থানে ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, সীমান্তবর্তী নদীর তথ্য আদান-প্রদান এবং হিমবাহ পর্যবেক্ষণ জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বজনরা এখনো প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
আরোও পড়ুন – ডোবায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, নাসিরনগরে রহস্যের জট খুলতে পুলিশের তদন্ত
নেপাল-তিব্বতে নিহত ৮১০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা। সর্বশেষ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ৮১০ জনে পৌঁছানোর তথ্য এসেছে। একই সঙ্গে তিন হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ধ্বংসস্তূপ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল-তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালে এই দুর্যোগের প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে ৭৮১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীরাও রয়েছেন। ফলে নেপাল-তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত ও উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বুধবারের আকস্মিক দুর্যোগটি শুরু হয় হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে হিমবাহ ও বরফ-শিলা ধসের পর। পাহাড়ি নদী ও উপত্যকায় হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সেতু, সীমান্ত অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশুলি নদী অববাহিকায় ক্ষয়ক্ষতি বিশেষভাবে গুরুতর। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে কর্মীরা আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিই নেপাল-তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ধারকারীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি হলো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল। ত্রিশুলি-৩এসহ কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় শ্রমিকদের আটকে থাকার আশঙ্কায় বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও টানেলের ভেতরে পৌঁছাতে গর্ত তৈরি এবং অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ, কাদা ও পানির কারণে ভেতরে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একই সময়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নেপাল সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও বিশেষায়িত উদ্ধার সহায়তা চেয়েছে। এ কারণে নেপাল-তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।
এদিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চীনের উজান এলাকা থেকে পানির প্রবাহ বাড়ার তথ্য পাওয়ার পর নেপালে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভোতেকোশি নদীর পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে ভূমিধসের কারণে পাহাড়ি এলাকায় অস্থায়ী জলাধার বা হ্রদের মতো পানির স্তর তৈরি হয়েছিল, যা ভেঙে গেলে ফের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
নিখোঁজদের তালিকায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক থাকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। তিব্বতের অংশে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে নেপাল, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অনেকে পর্যটন, তীর্থযাত্রা কিংবা কাজের উদ্দেশ্যে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে নেপালেও কয়েক শ বিদেশি নাগরিকের নিখোঁজ থাকার তথ্য এসেছে। স্বজনরা হাসপাতাল ও উদ্ধারকেন্দ্রে ছবি নিয়ে অপেক্ষা করছেন। নেপাল-তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ মানুষের পরিচয় নিশ্চিত করতে মরদেহ শনাক্তকরণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে।
দুর্যোগের ভয়াবহতায় উদ্ধারকাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি, নতুন ভূমিধস, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকায় উদ্ধারকারীদের প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিভিন্ন স্থানে ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, সীমান্তবর্তী নদীর তথ্য আদান-প্রদান এবং হিমবাহ পর্যবেক্ষণ জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বজনরা এখনো প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
আরোও পড়ুন – ডোবায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, নাসিরনগরে রহস্যের জট খুলতে পুলিশের তদন্ত